Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

সরকার তাঁর উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে এলাকার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরই প্রেক্ষিতে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকার তাঁর উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে এলাকার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরই প্রেক্ষিতে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐদিন লক্ষ্মীপুর জেলার ৩ পৌরসভা রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি পৌরসভায় মেয়রগণ নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করে যাচ্ছেন; এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কাজ করছেন।
সম্প্রতি বৃহত্তর নোয়াখালীর নিয়মিত মুখপত্র লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রিয় পত্রিকা লক্ষ্মীপুর বার্তা’র বৃহত্তর নোয়াখালীর বার্তা সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন তিন পৌরসভার মেয়রের কাছে কিছু প্রশ্ন রেখেছিলেন নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বগ্রহণের অনুভূতি, দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচনে তাদের মতামত, এলাকার উন্নয়নে তাদের পরিকল্পনা, এলাকার মূল সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, বৃহত্তর নোয়াখালীর মূল সমস্যা সমাধানে তাদের পরামর্শ, লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার মূল্যায়ন ইত্যাদি। এসব প্রশ্নের উত্তরে মেয়রগণ তাঁদের তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন যা এখানে সন্নিবেশিত হলো। উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর সদর পৌরসভার নির্বাচন ২৫ মে অনুষ্ঠিত হয়। এ পৌরসভায় মেয়র পুনঃনির্বাচিত হন এম এ তাহের। পরবর্তীতে তাঁর মতামতও লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে।
আমার মেয়াদকালের মধ্যেই পৌরবাসীর সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব
ইসমাইল খোকন
মেয়র, রায়পুর পৌরসভা

রায়পুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে অনুভূতি জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ইসমাইল খোকন বলেন, আমার অনুভূতি খুব ভালো। আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি। এজন্য আমি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এবং আমার এলাকার জনগণকে অভিনন্দন জানাই।
নির্বাচনের আগে আপনি পৌরবাসীদের কাছে কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে ইসমাইল খোকন বলেন, আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমি নির্বাচিত হলে এই রায়পুর পৌরসভাকে সন্ত্রাসম্ক্তু করব। রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখব, রাস্তাঘাটে কোনো দোকানপাঠ বসতে পারবে না। বাজারের ভেতরে দিনের বেলায় কোনো ট্রাক ঢুকতে পারবে না। আমাদের পৌরসভায় কোনো পার্ক নেই; জেলা প্রশাসক মহোদয় পার্কের জন্য ৪ শতাংশ জায়গা বরাদ্ধ দিয়েছেন। সরকারিভাবে ঐ পার্ক করার জন্য যা করা দরাকর, আমি আন্তরিকভাবে তা করব।
আপনার পৌরসভার জনগণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পৌরসভার উন্নয়নে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে এমন জিজ্ঞাসার জবাবে ইসমাইল খোকন বলেন, আমার পরিকল্পণা রয়েছে এই রায়পুর পৌরসভার সূয়ারেজ লাইনের ব্যবস্থা করা, পৌরসভায় শিশুপার্ক স্থাপন করা, সমস্ত রাস্তাঘাট নতুনভাবে উন্নয়ন করা, লাইটিং/ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, পানির সমস্যা দূর কর। এসবের জন্য নতুন টেন্ডার হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে এ এলাকায় আর কোনো সমস্যা থাকবে না। আর গ্যাসের সমস্যা সমাধানের জন্য আমি সরকারের সাথে দেনদরবার করব। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায়; আমি চেষ্টা করব, তাঁর সাথে আলোচনা করে আমার মেয়াদকালের মধ্যেই এই পৌরবাসীর সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য।
পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ডে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কী কী কাজ করার পরিকল্পনা আপনার রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে পৌর-মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, আমি ইতোমধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ হাত দিয়েছি। সূয়ারেজ লাইন করার জন্য, রাস্তা ঘাট করার জন্য, শিশুপার্ক করার জন্য ১২ কোটি টাকা বরাদ্ধ চেয়েছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে এই পৌরসভা উন্নয়নের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্ধ চেয়েছি। পাশাপাশি এডিবি থেকেও অতিরিক্ত ২ কোটি টাকা বরাদ্ধের জন্য আবেদন করেছি। আমি আশাবাদী যে, সরকারের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে আসতে পারব পৌরসভা উন্নয়নের জন্য।
আপনার পৌর-এলাকার এমন কোনো উন্নয়ন সম্ভাবনা আছে কি, যা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ইসমাইল খোকন বলেন, লক্ষ্মীপুরে গ্যাস আছে, চাঁদপুরে গ্যাস আছে, যদি আমার সরকার এই অবহেলিত জায়গায় গ্যাসের সরবরাহ দেয়, তাহলে এই এলাকার মানুষ শেখ হাসিনাকে সারাজীবন সম্মান করবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার উদাত্ব আহ্বান, উনি যেন রায়পুরবাসীকে গ্যাসের ব্যবস্থা করে দেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকা সয়াবিন উৎপাদনশীল এলাকা। এখানে হাজার হাজার মন সয়াবিন উৎপন্ন হয়। এই সয়াবিন প্রক্রিয়াকরণ একটি কারখানা যদি এখানে স্থাপন করা যায়, তহলে এখানে আরো শিল্পসমৃদ্ধ হবে। তাই সয়াবিনভিত্তিক একটি শিল্প নির্মাণের জন্য আমি জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারকে আহবান জানাই। এছাড়া এখানে নারিকেল সুপারি উৎপন্ন হয় প্রচুর পরিমাণে। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি আহ্বান করব নারিকেল ও সুপারিরভিত্তিক একটি কারখানা স্থাপন করার জন্য এসব করা হলে এ এলাকা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। এই এলাকার মানুষের দারিদ্রতা দূর হবে। এলাকার কৃষক সমৃদ্ধশালী হবে।
লক্ষ্মীপুরে যদি রেললাইন ও নৌবন্দর স্থাপিত হয়। তাহলে আপনার উপজেলা কতটুকু উপকৃত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ইসমাইল খোকন বলেন, রায়পুর একটি ব্যবসাসমৃদ্ধ এলাকা। চিটাগাং থেকে মালামাল রেলওয়ের বগিতে আনতে পারলে কম ভাড়ায় আনা যাবে। এতে ব্যবসা আরো বাড়বে। শেখ হাসিনার সরকার যদি এটার বাস্তবায়ন করেন, তাহলে এ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষগুলো শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতার সহিত সারাজীবন স্মরণ রাখবে।
আপনার পৌর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন এবং বর্তমানে পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা সহযোগিতা পাচ্ছেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে ইসমাইল খোকন বলেন, লক্ষ্মীপুরের অলক্ষ্মী এখন দূর হয়েছে। এর আগে যিনি পুলিশ সুপার ছিলেন, ওনি ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছেন। এখন যিনি নতুন পুলিশ সুপার এসেছেন মাহতাব উদ্দিন সাহেব, ওনি আগের পুলিশ সুপারকে অনুসরণ করবেন। তাঁর অনুসারী হিসেবে এমনভাবে কাজ করতেছেন, এতে আমি আশাবাদী লক্ষ্মীপুরে কোনো সন্ত্রাস থাকবে না, কোনো চুরি-ডাকাতি থাকবে না, লক্ষ্মীপুরের মানুষ নিরাপদে ঘুমাবে। লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার, এডিশনাল পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার নাছিম সাহেবসহ সকল কর্মকর্তা এবং রায়পুর থানার ওসি, লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি, রামগতির ওসি, রামগঞ্জের ওসি তাঁদের সমন্বয়ে একটি সুন্দর প্রশাসন গড়ে তুলেছেন। অতএব আমরা আগামী দিনে এর সুফল ভোগ করব। আমরা ওনাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
বৃহত্তর নোয়াখালীর মুখপত্র লক্ষ্মীপুর বার্তা সম্পর্কে পরামর্শ রেখে ইসমাইল খোকন বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা লক্ষ্মীপুর জেলার জন্য, আমাদের জন্য একটি অহংকার। লক্ষ্মীপুর বার্তা আছে বলেই লক্ষ্মীপুরের দুঃখ-দুর্দশার কথা, লক্ষ্মীপুরের সমস্যার কথা লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকায় তুলে ধরে তার সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তাই রায়পুর পৌরসভা পক্ষ থেকে, রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে, রায়পুর উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে লক্ষ্মীপুর বার্তার সম্পাদকসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং ওনাদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি, ওনাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আমার কাজের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে
আবুল খায়ের পাটওয়ারী
মেয়র, রামগঞ্জ পৌরসভা

রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে অনুভূতি জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন আমরা রাজনীতি করছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি, বিভিন্ন সংস্থার সাথে জড়িত ছিলাম, উপজেলা পরিষদের মেম্বার ছিলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ছিলাম, বাজার কমিটিসহ অনেকগুলো সংস্থার সাথে জড়িত ছিলাম। প্রশাসনিক কর্মকান্ডের সাথে পূর্বেই আমার অভিজ্ঞতা আছে, তাই এখানে নতুনভাবে অনুভূতি প্রকাশ করার মতো কিছুই নাই।
নির্বাচনের আগে আপনি পৌরবাসীদের কাছে কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, পৌরবাসী হিসেবে তাদের যে নাগরিক অধিকার সে অধিকার যাতে সংরক্ষিত হয় এবং এটা তাদেরকে পুরোপুরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুয়ারেজ লাইন, পানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ; চলমান সহিংস কর্মকান্ডরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; চাঁদাবাজি বন্ধ; এছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নিমিত্তে যে সমস্ত কাজ করা দরকার, সে কাজগুলো করব এ প্রতিশ্রুতি দিয়েই আমি নির্বাচিত হয়েছি। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রামগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গঠন করার জন্য আমি নিরলস কাজ করে যাব।
দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কতটুকু গণমুখী ও কল্যাণমুখী হবে বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, আসলে ইতিপূর্বে যে সমস্ত নির্বাচণ হয়েছে সেটা জনগণের সাথে একটা তামাসা হয়েছে। যেমন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সকল পার্টি মনোনয়ণ দিতেন, কিন্তু দলীয় প্রতীক দেয়া হতো না। মানুষ ঠিকই জানত কে আওয়ামী লীগের, কে বিএনপি’র, কে জাতীয় পার্টির। অর্থাৎ মার্কা ব্যতীত সবই দলীয়ভাবে হয়েছে। সুতরাং এত্তসব করে ঘোমটা দিয়ে নিজের চেহারা লুকানের কোনো য্ুিক্তকতা হয় না। যেহেতু অঘোষিতভাবে দলীয় নির্বাচন হচ্ছিল, সুতরাং এটা অঘোষিত কেন থাকবে; এটা ঘোষিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমার মতে এটা ভালোই হয়েছে, যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
আপনার পৌরসভার জনগণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পৌরসভার উন্নয়নে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, আমার এখানে দীর্ঘদিন থেকে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হয়নি। রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তাই রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা আমার পরিকল্পনায় রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি এসব ঠিকমতো সরবরাহ করা; রাস্তায় লাইট বসানো; মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত রামগঞ্জ পৌরসভা গঠনের লক্ষ আমার রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। আশা করি, আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেগুলি আমার সময়কালেই সমাপ্ত করতে পারব।
পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ডে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কী কী কাজ করার পরিকল্পনা আপনার রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আমার কাজের ক্ষেত্রে অগ্রধিকার পাবে। ইতোমধ্যে আমি অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যপারে দরখাস্ত দিয়েছি ফান্ডের জন্য এবং সেই সাথে পৌরসভার ট্যাক্স মিলিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নগুলি করতে চাই। এছাড়া মাদক, চাঁদাবাজি সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের সাথে বসব। আশা করি, অনতিবিলম্বে এসব বিষয়ে একটি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আপনার পৌর-এলাকার এমন কোনো উন্নয়ন সম্ভাবনা আছে কি, যা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, রামগঞ্জ পৌরসভা এগ্রিকালচার বেইজ্ড এলাকা হলেও এখানে এগ্রিকালচার বেইজ্ড কোনো বড় শিল্প-কারখানা নাই। এছাড়া এখানে পোশাক শিল্প অথবা চামড়া শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনার পৌর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন এবং বর্তমানে পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা সহযোগিতা পাচ্ছেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, আমাদের এখানে আগের এসপি সাহেব থাকতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একরকম ছিল বর্তমানে নতুন এসপি এসেছেন; আসা-যাওয়ায় এখানে একটা গ্যাপ হয়েছে, আশা করি এ গ্যাপ থাকবে না। আমাদের এখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ১০০% ঠিক আছে এটা বলা যাবে না, তবে মোটামোটি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা আশা করি, এটাকে আরো ভালো করা যাবে। আগের এসপি সাহেব/পুলিশ সুপার সাহেব যেভাবে কাজ করেছেন বর্তমান এসপিও আগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকেও উন্নতি হবে এটা আমার বিশ্বাস।
রামগতি পৌরসভাকে একটি সুন্দর মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে পারলে আমার দায়িত্বলাভ স্বার্থক হয়েছে বলে মনে করব
মেজবাহ উদ্দিন মেজু
মেয়র, রামগতি পৌরসভা

রামগতি পৌরসভার মেয়র হিসেবে অনুভূতি জানতে চাইলে রামগতি পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, দীর্ঘসময় রাজনীতি করার কারণে জনপ্রতিনিধিত্ব করার মাসসিকতা নিয়ে অনেক আগে থেকেই রামগতি পৌরসভাকে ঢেলে সাজানোর জন্য আমি মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছি। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমি রাব্বুল আলামিনের কাছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়া দলের জেলা পর্যায়ের সভাপতি, সেক্রেটারী, সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সেক্রেটারী ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সেক্রেটারীর কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার এ নয়া দায়িত্বলাভে নিজকে স্বার্থক মনে করব তখন, যখন অবহেলিত রামগতি পৌরসভাকে একটি সুন্দর মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে পারব।
নির্বাচনের আগে আপনি পৌরবাসিদের কাছে কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর আগে রামগতি পৌরসভা সি ক্লাস হিসেবে রূপান্তরিত হয়। ১৬ বছর পৌরসভাটি সেই সি ক্লাসেই রয়ে গেছে। আমি জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি রামগতি পৌরসভাকে সি ক্লাস থেকে বি ক্লাসে উন্নিত করব। পৌরসভায় রাস্তাঘাট, ব্রীজ- কালভার্ট নেই; এগুলি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যেহেতু জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে এবং আমার দলের প্রধান শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী আছেন; সে সুবাদে বর্তমানে আমি অনেক কাজ করতে পারব। দীর্ঘসময় আমি এবং আমার বাবা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে উপজেলার হয়ে কাজ করেছি এবং রামগতি উপজেলায় একসময় আমার বাবা এই দলের সেক্রেটারী ছিলেন, সভাপতি ছিলেন। আমিও সভাপতি, সেক্রেটারী ছিলাম। দীর্ঘদিন রাজনীতি করার কারণেই আমি মনে করি, এই সরকারের আমলে কাজগুলি করতে পারব এবং জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
আপনার পৌরসভার জনগণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পৌরসভার উন্নয়নে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, আমি আগেই বলেছি রামগতি পৌরসভাটা একটি অবহেলিত পৌরসভা। এখানে অসুবিধার সংখ্যাই বেশি। এ ১৬ বছরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা মানুষকে কী সুবিধা দিয়েছে, জানি না। আমি চেষ্টা করব জনগণকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য। মানুষের চাহিদা হলো সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছি; আমার কাউন্সিলর ভাই-বোনরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, তাহলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারব বলে আমি আশাবাদি। এছাড়া আমার এলাকায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই, পানির ব্যবস্থা নেই; এই কাজগুলি যদি পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে পৌরবাসী অনেক খুশি হবে। আমার সর্বপ্রথম টার্গেটটা রামগতি পৌরসভাকে সি ক্লাস থেকে বি ক্লাসে উন্নিত কর। আমি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তারপর থেকেই আমি আমার এলাকার সংসদ সদস্যকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি, তদবির করছি, কাজ করার চেষ্টা করছি। জনগণকে সুবিধা দেয়ার জন্য যে যে কাজ করা দরকার, সেগুলো করার চেষ্ঠা করছি।
পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ডে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কী কী কাজ করার পরিকল্পনা আপনার রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, রামগতি পৌরভবন দীর্ঘ ১৬ বছর জড়াজীর্ণ অবস্থায় আছে। একটা সুন্দর পৌরভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা আমার আছে। ইতোমধ্যে আমি কাজ শুরু করে দিয়েছি। এছাড়া বাজারের ড্রেনের যে অচল অবস্থা, সেটাকে সচল করার জন্য আমি কাজ করছি। আমার পৌরসভার যে সমস্ত ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট নেই; সে কাজগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার আমাকে সহযোগিতা করবে বলে আমি আশা রাখি।
আপনার পৌর-এলাকার এমন কোনো উন্নয়ন সম্ভাবনা আছে কি, যা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, রামগতি একটি নদীমাতৃক এলাকা। এখানে মেঘনা নদী থেকে যে সোনালী ইলিশ জেলেরা আহরণ করে, তা সংরক্ষণের জন্য সরকার যদি রামগতিতে একটি হিমাগার তৈরি করে দেন, তাহলে এখান থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ বিদেশে রপ্তানী করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। আর একটা বিষয় হলো আমাদের রামগতিতে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদন হয়। সয়াবিন দিয়ে ১৬ থেকে ২০ প্রকারের উপকরণ তৈরি করা যায়। এখানে যদি একটি সরকারের পক্ষ থেকে সয়াবিনভিত্তিক কারখানা তৈরি করা হয়, তাহলে আমার এলাকার বেকার জনগোষ্ঠী কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।
তিনি বলেন রামগতিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নদীভাঙ্গন থেকে রামগতিকে রক্ষা করার। আমাদের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রচেষ্টায় জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নদীভাঙ্গন থেকে রামগতিকে রক্ষার জন্য সাড়ে তেরশ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। তার মধ্যে দুইশত কোটি টাকার কাজ চলমান। আরো সাড়ে চারশ কোটি টাকার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে, সেটাও অচিরেই আমরা ছাড়পত্র পেয়ে যাব বলে বিশ্বাস। বেড়ীবাধের এ কাজটি শেষ হলে এটি একটি পর্যটন এলাকা হবে। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসবে। রামগতির মানুষের আয়ের একটা উৎস হবে। আপনার পৌর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন এবং বর্তমানে পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা সহযোগিতা পাচ্ছেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, রামগতি পৌরসভার আলেকজান্ডার বাজারে একসময় হাজার হাজার চোর-ডাকাতের অবস্থান ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল মামুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বর্তমানে আলেকজান্ডার বাজারে কোনো চোর-ডাকাতের অবস্থান নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে এ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই সুন্দর। মাঝেমধ্যে দু’একটা ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন খুবই তৎপর। আমাদের পুলিশ প্রশাসন বিশেষ করে ওসি, আমাদের সিবিল প্রশাসন এর ইউএনও, লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার, ডিসি মহোদয় তাঁদের তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অনেক উন্নত।
বৃহত্তর নোয়াখালীর মুখপত্র লক্ষ্মীপুর বার্তা সম্পর্কে মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তার মাধ্যমে বৃহত্তর নোয়াখালীর সঠিক খবরাখবর যেন এ অঞ্চলের মানুষ জ্ঞাত হতে পারে, সে ব্যাপারে আমার পরামর্শ থাকবে। সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমরা যেমন কাজ করতে চাই; আপনারা যারা পত্রিকার সাংবাদিক আছেন, রিপোর্টার আছেন, মালিক আছেন আপনারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে সঠিক তথ্যটা জাতিকে উপহার দেবেন এটিই আমাদের বিশ্বাস।