Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

লক্ষ্মীপুরের হাজী আবদুস সামাদ পন্ডিত এবং তার চার পুত্র-পরিচিতি

॥ এ কে এম গিয়াস উদ্দিন মাহ্মুদ ॥
[পূর্ব প্রকাশিতের পর]
তার জন্ম ১৯৪১ সালের ৫ জুলাই। টুমচর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার বাবার নাম বজলুল রহিম চৌধুরী এবং মায়ের নাম সৈয়দের নেছা। মোঃ খলিলুর রহমান চৌধুরীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় শাকচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে লক্ষ্মীপুর হাই মাদ্রাসা হতে তিনি ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ হতে তিনি মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি ১৯৬৩ এবং ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে যথাক্রমে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬২ সালে World University Service এর উদ্যোগে লাহোরে অনুষ্ঠিত Student Leadership Training প্রোগ্রামে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। তার সন্তানরা হলেন, শাহেদুর রহমান চৌধুরী (সিনিয়র অফিসার মার্কেন্টাইল ব্যাংক), সাবরিনা রহমান চৌধুরী (কানাডা প্রবাসী), তৌহিদুর রহমান চৌধুরী (সাব্বির); ফাতেমা নার্গিস (অবঃ প্রধান শিক্ষক, লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়)। ১৯৬৯ সালে ১৪ ডিসেম্বর তার সহধর্মিণী হিসেবে শুভবন্ধনে আবদ্ধ হন। মোঃ খলিলুর রহমান চৌধুরী সবার প্রিয় মানুষ। যিনি প্রিয়, তিনি অপরিমেয়।
২। ফজলুর রহমান চৌধুরী
‘চাম্পার বাপ’ বলে সবার কাছে পরিচিত। তাঁর বড় মেয়ের নাম ছিল ‘চাম্পা’। তিনি ১৯৬৯ সালে ইন্তেকাল করেন। পুরানবাড়ির ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি এ বাড়িতেই থাকতেন। অত্যন্ত খোলা মনের মানুষ ছিলেন। মেজবানী, জেয়াফত, বিয়ে অনুষ্ঠান ইত্যাদি পারিবারিক জামায়েত তাঁকে ছাড়া সরগরম হতো না। তিনি অতি উচ্চস্বরে কথা বলতেন। গ্রামের ও চরের লোকদের প্রতি তাঁর যথেষ্ট আন্তরিকতা ছিল। তিনি ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
৩। শামসুল করিম চৌধুরী
শামসুল করিম চৌধুরী আব্দুস সামাদ পন্ডিত চৌধুরীর ৩য় সন্তান ছিলেন। তিনি শিশু বয়স থেকেই অত্যন্ত ধার্মিক, বিনয়ী ও লেখাপড়ার প্রতি বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে লক্ষ্মীপুরে। লক্ষ্মীপুর সরকারি স্কুলে তিনি লেখাপড়া করতেন। পরে তিনি ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমান ঢাকা কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাধারণ ইতিহাস বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখাপড়া সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা নিবাসী এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের কন্যা হাফিজুন নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বেগম হাফিজুন নেসা তাঁর যোগ্য সহধর্মিণী ছিলেন। তাঁরা উভয়েই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে বাংলা চর্চা ও মাতৃভাষা হিসেবে বাংলার গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করেছেন। প্রথম জীবনে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই শিক্ষকতা করেছেন। শামসুল করিম চৌধুরীর জীবন শুরু হয় ঢাকার অদূরে বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জে। এই শহরটি বহু আগে থেকেই ব্যবসার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
-চলবে