Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

লক্ষ্মীপুরে ৬ মাসে ৩৭ লাশ উদ্ধার | মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে অগ্রগতি নেই

লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে চলিত বছরের ৬ মাসে নারী, শিশু, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমিক, মাদক ব্যবসায়ী, ও সাধারণ মানুষের ৩৭টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ১১ নারী, ৩ শিশু রয়েছে। ৬ লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ২ জন পুলিশের সাথে ক্রস ফায়ারে নিহত হয়। আধিপত্য বিস্তার, মাদকব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমিসংক্রান্ত বিরোধ, যৌতুক আদায়, ক্রস ফায়ারসহ নানা কারণে এসব হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এসব লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও এসব হত্যার কারণ উদঘাটনে ব্যর্থতা, প্রকৃত আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় হত্যাকান্ডের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও মামলার তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় জেলার মানুষ শংকিত ও উদ্বিগ্ন। সর্বত্র বিরাজ করছে আতংক, সৃষ্টি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। ৩টি ডাবল মাডারসহ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ১৭টি, রায়পুর উপজেলায় ৮টি, কমলনগর উপজেলায় ৭টি এবং রামগঞ্জ উপজেলায় ৫টিসহ মোট ৩৭টি লাশ উদ্ধার হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর
২৬ জুন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর এলাকায় ১০ মাসের শিশু কন্যা রাইসার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় পরিবারের লোকজন। ১২ জুন সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের নলডগী গ্রামের একটি খাল থেকে অজ্ঞাত এক নারী (৩০) ও শিশুর (১০) গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অজ্ঞাত পরিচয় নারী ও ছেলে শিশুর মরদেহ খালের পানিতে ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন পুলিশে খবর দেয়। ১০ জুন সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের রমারখিলের বাড়ি থেকে লাবণী আক্তার (১৫) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাবণী স্থানীয় রমারখিল ইসলামিয়া জাব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ও রমারখিল গ্রামের প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২৫মে সদর উপজেলার বশিকপুর গ্রামের বৈদ্যের বাড়ির মোড়ে মোঃ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ও তার ভাই ইব্রাহীম হোসেন রতনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা সদর উপজেলার পূর্ব বশিকপুর গ্রামের মুন্সি বাড়ির শরিফ উদ্দিনের ছেলে। নিহতদের চাচাতো ভাই হারুনুর রশিদ জানান, সকালে ইসমাইল ও রতন বৈদ্যের বাড়ির মোড়ের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিল, এসময় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে চার/পাঁচজন যুবক এসে তাদের খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ১০ মে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইউছুফ নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত ইউছুফ বশিকপুর ইউনিয়নের আলী আকবরের ছেলে। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ইউছুফকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এতে সন্ত্রাসী ইউছুফ নিহত হয়। ৯ মে সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে আলাউদ্দিন (১৪) নামে এক কিশোরের লাশ একই গ্রামের বিসমিল্লাহ বেকারি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আলাউদ্দিন দত্তপাড়ার উত্তর মাগুরি গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। সে বিসমিল্লাহ বেকারিতে কর্মরত ছিল। ৩০ এপ্রিল সদর উপজেলার লামচরী এলাকায় জান্নাতুল ফেরদৌসী নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসী সৌদি প্রবাসী বেলাল হোসেনের স্ত্রী। নিহতের স্বজনরা জান্নাতুল ফেরদৌসীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেন। ২৮ এপ্রিল গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামে ইসমাইল হোসেন মানিক (৪৮) ও কামরুল ইসলাম (২৮) নামের দুই ব্যক্তিকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের স্বজনরা জানায়, রাত সোয়া ১টার দিকে কে বা কারা মোবাইল ফোনে কামরুল ও মানিককে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাতে আর তারা ফিরে আসেনি। সকালে গ্রামের নবী উল্যার দোকানের পাশে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ৬ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী কাউসার (বড় কাউসার) নিহত হয়েছে। নিহত কাউসার চন্দ্রগঞ্জের পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী কাউসারকে গ্রেফতারের পর রাতে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে কাউসার মারা যায়। ৪ মার্চ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের বিনোদধর্মপুর গ্রামে শাহেদ আলম নামে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়ি থেকে ফারুক হোসেন (১৯) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ফারুক হোসেন সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ফরাশগঞ্জ গ্রামের কারিমুল হকের ছেলে। নিহত ফারুকের বাবা কারিমুল হক জানায়, পরিকল্পিতভাবে ফারুক হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। ১ মার্চ সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় রুহুল আমিন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। নিহতের ছেলে সুমন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ সিরাজ ভাড়াটে লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। এতে তার বাবা নিহত হয়। ২৯ জানুয়ারি দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের রহমতখালী খালের রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া ঈদগাঁও এলাকা থেকে নির্মাণ শ্রমিক আবুল কালামের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আবুল কালাম সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে। নিহতের আত্মীয়স্বজন জানায়, ৬ মাস ধরে লক্ষ্মীপুর শহরের রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া সড়কের সাজিদ মঞ্জিল নামে একটি ভবনের নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে আসছে, ২৬ জানুয়ারি দুপুর থেকে নিখোঁজ হয়। ১১ জানুয়ারি সদর উপজেলার মান্দারী থেকে জাহেদা বেগম ও বিজয়নগর থেকে আসমা বেগম নামে দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জাহেদা বেগম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের সোলায়মানের স্ত্রী এবং আসমা বেগম বিজয়নগরের দক্ষিণ হামছাদী গ্রামের মোঃ হোসেনের স্ত্রী। স্বজনদের অভিযোগ যৌতুকের জন্যই তাদের হত্যা করা হয়েছে।
রায়পুর
১৮ জুন রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের একটি খাল থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ ও স্থানীয়রা। ১১ জুন রাতে রায়পুর পৌর শহরের মোল্লার হাট এলাকা থেকে লাকী আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের ভাই মাসুদ জানান, যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। নিহতের স্বামী জাহাঙ্গীর দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে তার মায়ের সাথে কথা কাটাকাটি হলে সন্ধ্যায় পরিবারের সবার অগোচরে আত্মহত্যা করে তার স্ত্রী। নিহত লাকী উপজেলার পূর্ব পানপাড়া এলাকার মৃত তছলিমের মেয়ে। ৪ জুন রায়পুর উপজেলার শায়েস্তানগর এলাকার দেবিপুর গ্রামের দেওয়ান বাড়ি থেকে ফরিদা বেগম (২৮) নামের এক গৃহবধুর লাশ তার স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফরিদা সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি এলাকার লুতু মিয়ার মেয়ে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২৭ এপ্রিল রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বৃদ্ধ বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে মোঃ আরিফ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়। নিহত আরিফ ওই গ্রামের আনার উল্যা মৌলভী বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দপ্তরি ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকার রচিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের ফারুক মিয়ার সুপারির বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেছেন থানা পুলিশ। ৫ ফেব্রুয়ারি রায়পুর উপজেলার উদমারা গ্রামের সরদার বাড়ি থেকে নুর মোহাম্মদ মাস্টারের ছেলে মোঃ ইউছুফ (২৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৩ জানুয়ারি রায়পুর উপজেলার চরআবাবিল ইউনিয়নের গাইয়ারচর গ্রাম থেকে এক অজ্ঞাত নারীর (৪০) রক্তাক্ত ও জখম হওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। ৬ জানুয়ারি রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের ধানক্ষেত থেকে উদমারা গ্রামের সিরাজ সরদারের ছেলে মোঃ জলিল সরদার (৩০) নামের এক যুবকের লাশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছেন পুলিশ।
কমলনগর
৬ জুন চর জাঙ্গালিয়া এলাকার সানা উল্যার বাড়ির টয়লেটের টাংকি থেকে মাকছুদ নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মাকছুদ চর লরেন্স ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এনায়েত উল্যার ছেলে। ২৮ মে মাকছুদ নিখোঁজ হয়। ১৮ এপ্রিল কমলনগর উপজেলার পাটোয়ারিহাট ইউনিয়নে মেঘনা নদী সংলগ্ন খালে নোঙর করা নৌকা থেকে কবির হোসেন (২১) নামে এক জেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জেলে কবির হোসেন দক্ষিণ চর ফলকন গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। এঘটনায় রুহুল আমিনকে হাজিরহাট বাজার থেকে কবিরের স্বজনরা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ৬ এপ্রিল কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের করইতলা এলাকায় ডাকাতের গুলিতে আবদুল অদুদ জমদ্দার (৬২) নামে এক গৃহকর্তা নিহত হয়েছেন। ১২ মার্চ কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা গ্রামের চক বাজার এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আল মাসুদ লিমন (৫০) নামের একজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জনায়, উপজেলার দক্ষিণ চরকাদিরা ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বাড়ির মৃত লাতু মিয়ার ছেলে মুসা মিয়া ও নুর মোহাম্মদের সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলছিল। ১৩ ফেব্রুয়ারি কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়ন থেকে সাজু বেগম (২৪) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সাজু বেগম চরলরেন্স ইউনিয়নের শাহ আলমের মেয়ে। ১৩ ফেব্রুয়ারি কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স এলাকা থেকে আবদুল গণি (৩৮) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৬ জানুয়ারি কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স গ্রাম থেকে পুলিশ সুলতানা (২০) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে।
রামগঞ্জ
২৫ জুন রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নং ভাদুর ইউনিয়নে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত রহিমা বেগম প্রকাশ সুন্দুরী (৪০) নামে এক মহিলার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। সুন্দুরী বেগম ভাদুর তপাদার বাড়ির বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী। ৯ জুন দরবেশপুর ইউনিয়নের পূর্ব দরবেশপুর গ্রামের হানিফ ভূঁইয়া বাড়ি সংলগ্ন একটি ডোবার পাশে অজ্ঞাত একটি লাশ পুঁতে রাখা হয়। স্থানীয়রা জানায়, রামগঞ্জ উপজেলার ওই ইউনিয়নের পূর্ব দরবেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম খোকা একটি অজ্ঞাত লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিলে বাড়ির লোকজন বাধা দেয়। পরে প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় লাশটি একটি ডোবার পাশে পুঁতে সে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। লাশটির পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। ২৫ মে রামগঞ্জের চন্ডিপুর ইউনিয়নের মাসিমপুর গ্রামের মন্দারবাড়ি থেকে প্রিমা পাল (৯) নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে একই ইউনিয়নের মন্দারবাড়ি এলাকার নরেশ পালের মেয়ে এবং পূর্ব মাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউপির এমবিএম ব্রিকস্ ফিল্ড সংলগ্ন ডোবা থেকে যুবলীগ নেতা মোঃ রাসেলের (২৫) লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। সে একই এলাকার মৃত নোয়াব আলীর ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় রামগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই মোঃ জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দেবনগর ও ভোলাকোট ইউনিয়নে টহল দেয়ার সময় মোতালেব চেয়ারম্যানের ব্রিক ফিল্ডের পাশের রাস্তায় মোটরসাইকেলসহ রাসেলকে দেখে তার গতিরোধ করে ধাওয়া করে। এরপর থেকে রাসেল নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৫ দিন পর একটি ডোবায় তার লাশ পাওয়া যায়। ৭ জানুয়ারি সকালে রামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আঙ্গারপাড়া এলাকায় প্রবাসী বাচ্চু দেওয়ানের বাড়ি থেকে পুলিশ হাত-পা বাঁধা মুসলিম মিয়া (৩৫) নামক এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে। চোর সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রচার করা হলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সে পেশায় একজন শ্রমিক ছিল।
সন্ত্রাস দমনে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয় হলেও জেলার সর্বত্র অপরাধ কমছে না। পুলিশ প্রসাশন কখনো রাজনৈতিক অপরাধীদের দমন করছে, কখনো দমনে ব্যর্থ হচ্ছে। যার কারণে অপরাধ কমছে না। ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার প্রত্যাশা করছেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার এসব অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন, বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান পরিচালনা করবেন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলে অপরাধ কমবে, অনেক হত্যা বন্ধ হবে। পাশাপশি যে কোনো ধরনের হত্যাকান্ডই সংঘটিত হোকনা কেন, প্রতিটি হত্যায় হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে হত্যাকান্ড বৃদ্ধি পাবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
-জাহাঙ্গীর লিটন