Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

বৃহত্তর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংগ্রহশালা

॥ এ কে এম গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ ॥
ভূমিকা
জাদুঘর প্রতিষ্ঠা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যে কোনো জাদুঘর একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত। হয় সেটা ইতিহাস-ঐতিহ্য, নয় সেটা প্রত্নতাত্ত্বিক, নয়তো বিজ্ঞান-প্রযুক্তিসহ আরো নানা বিষয় নিয়ে গড়ে উঠতে পারে। সৃষ্টি হতে পারে নতুন কিছু। যা দেশ বা অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করতে পারে। সে রকম সমৃদ্ধি বা পরিচিতি লাভ করতে পারে “বৃহত্তর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংগ্রহশালা” নাম হতে বোঝা যায়, এর কাম কী ? এখানে থাকবে শুধু বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সংবাদপত্র এবং তৎ-সংশ্লিষ্ট নানা নথিপত্র, দলিল দস্তাবেজ ইত্যাদি।
অবস্থান
বৃহত্তর নোয়াখালী বলতে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর জেলা বোঝায়। নোয়াখালী জেলা একটি পুরাতন জেলা। যে জেলা অনেক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ। “বৃহত্তর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংগ্রহশালা” এ জেলার ঐতিহ্যকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। যা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে। বিষয়টি ব্যক্তি চিন্তা-চেতনার ফসল হলেও এটি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে।
ঐতিহাসিক পটভূমি
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী জেলা নোয়াখালীতে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২২ জুন প্রথম আগমন করেন। ২৩ জুন নোয়াখালী সার্কিট হাউসের গেইটের উত্তর পার্শ্বে দু’টি পবন গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে নোয়াখালী প্রেসক্লাব ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এ দু’টি বিষয় হতে বোঝা যায়, বঙ্গঁবন্ধু বৃক্ষপ্রেমী এবং গণতন্ত্র চর্চায় এক উদ্যমী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সংবাদপত্র-সাংবাদিকতা, এ বিষয়গুলোকে বেশ শ্রদ্ধা করতেন। তিনি মনে করতেন একটি দেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয় গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে। আর গণতন্ত্রের জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা একান্ত আবশ্যক। সে জন্য তিনি নোয়াখালীতে সাংবাদিকদের মেলবন্ধনের জন্য, সাংবাদিকতার বিকাশ সাধনের জন্য স্থাপন করেন নোয়াখালী প্রেসক্লাব। যা তার সুদূরপ্রসারী ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। তাই যেখানে বঙ্গঁবন্ধুর স্মৃতিচিহ্ন সেখানেইতো ‘বৃহত্তর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংগ্রহশালা’ স্থাপিত হওয়া যুক্তিযুক্ত, যথার্থ।
যাতে থাকবে
১। বৃহত্তর নোয়াখালীর স্থানীয় সংবাদপত্র সমূহ (জেলা-উপজেলা ভিত্তিক) ২। বৃহত্তর নোয়াখালীর খ্যাতিমান সাংবাদিকদের ছবিসহ পরিচিত। ৩। বৃহত্তর নোয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকদের ছবিসহ পরিচিতি। ৪। সাংবাদিকদের ভিজিটিং কার্ড ৫। বৃহত্তর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা। ৬। বৃহত্তর নোয়াখালীর সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র। ৭। বৃহত্তর নোয়াখালীর কোনো সংবাদ, যার ঐতিহাসিক মূল্য বা তাৎপর্য আছে। পরিচালনা পর্ষদ
বৃহত্তর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংগ্রহশালাটি এগার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে সভাপতি, নোয়াখালী পৌর মেয়র সাধারণ সম্পাদক, একজন ইতিহাস-ঐতিহ্য-অনুরাগী, একজন শিক্ষানুরাগী, পাঁচজন আঞ্চলিক পত্রিকার সম্পাদক এবং দুইজন বিশিষ্ট সাংবাদিক নিয়ে গঠিত হবে এ কমিটি। কর্মরত ব্যক্তি
সংগ্রহশালাটি রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির জন্য সর্বনিম্ন দুইজন কর্মচারী একান্ত আবশ্যক। দুইজনই স্থানীয় পত্র-পত্রিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবেন। যাদের বেতন-ভাতাদি নোয়াখালী পৌরসভার অর্থায়নে পরিশোধ হবে। সময়সূচি
প্রতি সপ্তাহের পাঁচদিন তথা রবিবার হতে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা হতে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সংগ্রহশালাটি খোলা থাকবে। ত্রৈমাসিক সভা
কাগজে-কলমে সভা-সমাবেশ-বৈঠক না দেখিয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর এ সংগ্রহশালার অগ্রগতি অবনতি, উন্নয়ন-অনুন্নয়ন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে এর কর্মকান্ডকে বেগবান করা যেতে পারে। সর্বোপরি কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটু আন্তরিকতাই সংগ্রহশালাটির সমৃদ্ধি ও উন্নতি আনয়ন করতে পারে। কার্যকারিতা
সংবাদপত্র মানব জীবনের একটি প্রয়োজনীয় উপকরণ। বর্তমান যুগে সংবাদপত্র যেন সভ্য মানুষের সভ্যতার অংশ বিশেষ। সংবাদপত্র মানুষের কর্ম-জীবনের গতিকে অসাধারণভাবে প্রসারিত করেছে। আর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সেতো ঐ অঞ্চলের মূল্যবান দলিল। আয়নার মধ্যে যেমন চেহারা দেখা যায় আঞ্চলিক সংবাদপত্রের মাধ্যমে তেমনি ঐ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা লাভ করা যায়। স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য, লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক আলোচনা কিংবা প্রবন্ধ-নিবন্ধ তেমন একটা দেখা যায় না। তাছাড়া শিক্ষাবিদদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকার তেমন একটা পরিলক্ষিত হয় না। দেখা যায়, রজনৈতিক বিষয়াদি। স্থানীয় সাংবাদিকদের আর্থিক দৈন্য চরম। তাদের নির্দিষ্ট কোনো বেতন-ভাতাদি নেই। তবুও অনেকে সংবাদ সংগ্রহ করেন, অনেকে লিখেন, লিখে চলেন জীবন-জীবিকার তাগিদে। যাক সে সব কথা। মোট কথা স্থানীয় সংবাদপত্র একটি অঞ্চলের সমাজ ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। পর্যালোচনা
“বৃহত্তর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংগ্রহশালা” স্থাপন করা, প্রতিষ্ঠা করা অনেক শ্রমসাধ্য ব্যাপার। স্বত:স্ফূর্ততায় আগ্রহ না থাকলে এ ধরনের সংগ্রহশাালা স্থাপন করা এবং তা সচল রাখা যাবে না। আবার এ ব্যাপারে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংগ্রহশালার উপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের ব্যবস্থা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও পরিচালনা পর্ষদ এর ব্যক্তিবর্গকে উজ্জীবিত করা যেতে পারে। বৃহত্তর নোয়াখালীর সংবাদপত্র সংগ্রহের ব্যাপারে স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর একান্ত ইচ্ছা ও সার্বিক সহযোগিতা থাকতে হবে। ইতিপূর্বে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো সংগ্রহ করে তা মাস-বছর ভিত্তিক সংরক্ষণ করতে হবে। “বৃহত্তর নোয়াখালীর আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংগ্রহশালা” প্রতিষ্ঠা ও চলমান রাখতে নোয়াখালীর শিক্ষানুরাগী বিত্তবানদের উদারভাবে এগিয়ে আসতে হবে। উপসংহার
আজকের সুনিশ্চিত গবেষণা আগামীর পাথেয়। ‘বৃহত্তর নোয়াখালী আঞ্চলিক সংবাদপত্র সংগ্রহশালা’ নামক গবেষণা কর্মটি একদিন বাস্তবায়িত হবে, ঐতিহ্যবাহী সংগ্রহশালা হিসেবে বিশ্বনন্দিত ও অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।

লেখকঃ শিক্ষক, গবেষক ও গ্রন্থকার