Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

লক্ষ্মীজেলার শীর্ষ ৩০ সমাজসেবী পুরস্কার ও সম্মাননা ১ম পর্ব পুরস্কার ও সম্মাননা ১ম পর্ব

লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার ৩০ বর্ষ উপলক্ষে লক্ষ্মীজেলার শীর্ষ ৩০ সমাজসেবীকে পুরস্কার ও সম্মাননার ১ম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ১৮ নভেম্বর। জন্মস্থানের সেবা ও কল্যাণ-চিন্তায় লক্ষ্মীপুর জেলার সমাজসেবীগণকে আরও অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করতে এরূপ সম্মাননা জ্ঞাপন, সংগীতানুষ্ঠান ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন; গেস্ট অব অনার ছিলেন সৌদিআরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অবঃ) এসএম ইকরামুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন এর মহাসচিব এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল।
লক্ষ্মীপুর বার্তা কার্যালয়স্থ অডিটোরিয়ামে লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ১ম পর্বে ১০ জনকে পুরস্কার ও সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। সম্মাননা লাভকারী ব্যক্তিত্বগণ হলেন ত্যাগী সমাজসেবী, শিক্ষার একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, উদারপ্রাণ শিক্ষাদ্যোক্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিল্প-বাণিজ্যের পুরোধা, লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির ডায়নামিক সভাপতি, ট্যাক্স-ভিআইপি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া; স্বাস্থ্যসেবা ও মানবসেবায় উৎসর্গীকৃত, প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির গবেষক ও পথিকৃৎ, ডায়নামিক শিক্ষাদ্যোক্তা ও উদারপ্রাণ সমাজসেবী, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া; সমগ্র দেশের বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষকদের নির্বাচিত নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিক্ষা ও সমাজসেবায় উৎসর্গীকৃত, বহুমুখী প্রতিভার কর্মযোগী ব্যক্তিত্ব, তারুণ্যদীপ্ত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল; মানবাধিকার অন্দোলনের অগ্রসেনানী, গুচি-আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারে ভূষিত, অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের আশা-ভরসা, দারিদ্র্য-শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াকু সৈনিক, র্ডপ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান; শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিত বিরলপ্রজ শিক্ষাদ্যোক্তা, জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ-শিক্ষক হিসেবে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত, ঢাকা কমার্স কলেজসহ বহু শিক্ষায়তনের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসালাম ফারুকী; সাংবাদিকতা পেশার প্রতি একনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের একান্ত অনুশীলনকারী, সংবাদপত্রসেবীদের প্রিয় নেতা, নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক আবদুস শহিদ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে ৩ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। তাঁরা হলেন ইতিহাসবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি, ৮০’র দশকে প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীপুর মহকুমা ছাত্র-ছাত্রী সমিতির প্রধান উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির প্রথম সভাপতি মরহুম প্রফেসর ড. মফিজুল্লাহ কবীর; উদার, মহৎ ও মানবতার সেবায় আত্মোৎসর্গীকৃত, সাংবাদিকতা জগতের পথিকৃৎ মরহুম সানাউল্লাহ নূরী; বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী মরহুম মানসুরুল আজীজ।
তাছাড়া শিক্ষা ও সমাজসেবায় একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, বিদ্যোৎসাহী আধুনিক ধ্যান-ধারণার মূর্ত প্রতীক, বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী ব্যক্তিত্ব, উইল্স গ্রুপের ফাউন্ডার-চেয়ারম্যান সৈয়দ বদরুল আলমকেও সম্মাননা অর্পণের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তাই পরবর্তী অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোহাম্মদ আলী, সাবেক সংসদ সদস্য ও এনসিসি গ্রুপের ফাউন্ডার-চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, সরকারের সাবেক সচিব এ এম এম রেজা-ই-রাব্বি, সাবেক সচিব এনায়েত উল্লাহ, নিপ্পন গ্রুপের চেয়ারম্যান রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মোহাঃ মোহাব্বত উল্যাহ, সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নূরুল আনোয়ার, এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক এম সামছুল আমিন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইয়াসমিন সুলতানা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জুলেখা সুলতানা, বুয়েট’র প্রফেসর ড. ফরিদা নিলুফার, প্রফেসর হাসিনা নিগার কবীর, ডাঃ কাজী নূরউল ফেরদৌস রবি, ডাঃ শাহাবু্িদ্দন মাহমুদ, ডাঃ এরশাদ মাহমুদ, সরকারের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালক ও বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু, এডভোকেট রেজাউল করিম নিজাম, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা ও ছড়াকার মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন শিশু-কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের ছাত্রী আনতারা রাইসা এবং উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র, স্কাউট লিডার ও শিশু-কলামিস্ট মাহীর হেলাল। অনুষ্ঠানমালার বিভিন্ন পর্বে ছিল সম্মিলন ও আপ্যায়ন পর্ব (স্যুপ-স্ন্যাকস-ব্রেড), সংবর্ধিতগণকে একে একে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার অর্পণ, আলোচনাপর্ব ও আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে রিফ্রেশমেন্ট (ফ্রেঞ্চ ড্রেসিং সালাদ, কাবলি, পেঁপে, বাদাম), সুরের অনুরণনে অতিথিবরণ (সংগীতসন্ধ্যা), র‌্যাফেল ড্র এবং লাকিপার্সন অব দি ইভেন্ট নির্বাচন ও পুরস্কার বিতরণ, সবশেষে সুস্বাদু নৈশভোজ (চিকেন বিরিয়ানি, দই-শসা সালাদ, সুইট এন্ড ন্যাচারাল ইয়োগার্ট, স্পেশাল পুডিং)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে দেখানো হয় লক্ষ্মীজেলা ও লক্ষ্মীপুর বার্তা’র উপর নির্মিত খসড়া ডক্যুমেন্টারি, যা শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে। এরপর শুরু হয় সম্মাননা জ্ঞাপন ও পুরস্কার অর্পণ পর্ব। প্রথমে সম্মাননা লাভকারীগণের জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত আলাদা আলাদা ভিডিও ডক্যুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়; পরে তাঁরা একে একে মঞ্চে এসে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী গ্রহণ করেন। তাঁদেরকে সম্মাননাপত্র অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন; ক্রেস্ট অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার সৌদিআরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অবঃ) এস এম ইকরামুল হক এবং উপহার হিসেবে ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীল ও আত্ম-উন্নয়নমূলক বই, ক্যাম্পাস’র মডেল ও সিডি সেট অর্পণ করেন এলবিএফ’র মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল। মরণোত্তর ৩ জনের পক্ষে সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন তাঁদের পরিবারের সদস্যগণ। মরহুম সানাউল্লাহ নূরীর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর সুযোগ্য দু’কন্যা শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইয়াসমিন সুলতানা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জুলেখা সুলতানা; মরহুম ড. মফিজুল্লাহ কবীরের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁরই শিক্ষাবিদ কন্যা প্রফেসর হাসিনা নিগার কবীর; মরহুম মানসুরুল আজীজের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর সুযোগ্যা কন্যা বুয়েট’র দীপ্তিমান শিক্ষক প্রফেসর ড. ফরিদা নিলুফারসহ পরিবারের সদস্যগণ।
এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও গেস্ট অব অনারকে সম্মাননা-ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার অর্পণ করা হয়; ক্রেস্ট অর্পণ করেন লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল। প্রধান অতিথি বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিনকে ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত ১৭টি বইয়ের সেট অর্পণ করেন লক্ষ্মীপুর বার্তা’র উদ্যোগে ৮০’র দশকে লক্ষ্মীপুরভিত্তিক ঢাকায় প্রথম বনভোজন এবং ৯০’র দশকে প্রথম নৈশভোজ আয়োজন কমিটির কনভেনার, পরবর্তীতে বৃহত্তর নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রেজাউল করিম নিজাম, মডেল ও সিডি সেট এর বক্স অর্পণ করেন ক্যাম্পাস’র সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। গেস্ট অব অনার মেজর জেনারেল (অবঃ) ইকরামুল হককে বইয়ের সেট অর্পণ করেন ’৮০ এবং ’৯০ এর দশকে লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, পরবর্তীতে এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক সামছুল আমিন এবং মডেল ও সিডি সেট এর বক্স অর্পণ করেন লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সহকারী সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোস্তফা।
সম্মাননা ও উপহার সামগ্রী অর্পণের পর শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। সকল বক্তাই লক্ষ্মীপুর বার্তা’র এরূপ ব্যতিক্রমী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের অনেকেই বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্যদের সম্মাননা দিয়ে জন্ম-এলাকার প্রতি সেবার মনোভাব বাড়াতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে। এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে নিবেদিত লক্ষ্মীপুর বার্তা’র নানামুখী কল্যাণকর কর্মসূচির প্রশংসা করেন তাঁরা; জন্ম-এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র বিভিন্ন কর্মসূচির সাথে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেন এবং এরূপ কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য দেশপ্রেমী ও উদারপ্রাণ সমাজদরদি ব্যক্তিত্বগণের প্রতিও আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় মনোমুগ্ধকর ও জমজমাট সঙ্গীতসন্ধ্যা। এ পর্ব পরিচালনা করেন অর্থনীতিবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. নাজনীন আহমেদ; সাথে ছিলেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী মেহেদী হাসান। ড. নাজনীন গেয়ে শোনান এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়, বঙ্গ আমার জননী আমার ধাত্রী আমার -আমার দেশ, ময়ুরকন্ঠী রাতের নীলে প্রভৃতি জনপ্রিয় গান। মেহেদী হাসান শোনান আজ এ দিনটাকে মনের খাতায় লিখে রেখো, তুমি যদি যাও পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অববাহিকায়, বন্দে মায়া লাগাইছে-পিরীতি শিখাইছে; আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম প্রভৃতি জমজমাট গান। মুহুর্মুহু সঙ্গীতের মূর্ছনায় আবিষ্ট হয়ে উপস্থিতগণ নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।
নৈশভোজের পর অনুষ্ঠিত হয় র‌্যাফেল ড্র। এতে ১ম পুরস্কার লাভ করেন মরহুম মানসুরুল আজীজের ছেলে ডাঃ এরশাদ মাহমুদ; ২য় পুরস্কার লাভ করেন এনটিভি’র নিউজ এডিটর এবং এ অনুষ্ঠানের সম্মাননা গ্রহণকারী আবদুস শহিদ, ৩য় পুরস্কার লাভ করেন আরেক সম্মাননা গ্রহণকারী লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির ডায়নামিক সভাপতি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া। এভাবে শীর্ষ ৩০ সমাজসেবী সম্মাননার ১ম পর্ব শেষ হয় আবেগ-উচ্ছ্বাসে ভরা বক্তৃতা, সুর-ছন্দময় গান, স্বাদে-গন্ধে বিভিন্ন খাবার উপভোগ, উপহার ও পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের বক্তৃতা ও কথামালার অংশবিশেষ নিম্নে তুলে ধরা হলো।
সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন বলেন, দীর্ঘদিন আগে থেকেই লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সাথে আমার পরিচয়। সুদূর অতীত থেকেই লক্ষ্মীপুর বার্তা’র কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়; এবারেও তারা শীর্ষ সমাজসেবীদেরকে সম্মাননা দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। লক্ষ্মীপুর বার্তা বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীদের প্রিয় পত্রিকা। তিনি আরও বলেন এ পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল সমাজসেবায় নিবেদিত থেকে তরুণ সমাজকে সৃজনশীল কর্মযজ্ঞে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁদের মহতী উদ্যোগ ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প; আমি বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতায় এটি অচিরেই বাস্তবায়িত হবে এবং এ সেন্টারের মাধ্যমে দেশের যুব-সমাজ নানাভাবে উপকৃত হবে।
মেজর জেনারেল (অবঃ) এসএম ইকরামুল হক
অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার, সৌদিআরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অবঃ) এসএম ইকরামুল হক বলেন যাঁরা আজ সম্মাননা পেলেন তাঁরা সবাই তাঁদের স্ব স্ব কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি সমাজসেবার মাধ্যমে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, বিভিন্ন সেবামূলক কাজে রেখেছেন মানবিকতার নিদর্শন। তাঁদের গৌরবে আমরাও গৌরবান্বিত। লক্ষ্মীপুর বার্তা তাঁদেরকে সম্মানিত করে নিজেরাও সম্মানিত হয়েছেন।
তিনি বলেন আমি সামরিক বাহিনীতে চাকরি করেছি, বিদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছি; সে কারণে এলাকার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ততটা রাখতে পারিনি, তবে চিন্তার রাজ্যে সবসময় জন্মস্থানের মানুষের কথাই ভেসে উঠত। বিদেশে থাকা অবস্থায় লক্ষ্মীপুরের প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বুঝেছি সেখানে তাঁরা সংগঠিত থেকে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে তা অনেক ফলপ্রসূ ও কল্যাণকর হবে। এছাড়া এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের সংগঠিত করা যায়। আমাদের অঞ্চলকে শিল্প-সমৃদ্ধ করতে হলে লক্ষ্মীপুরনিবাসী প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতিদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আমি আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাব জন্মস্থানের কথা স্মরণ করে তাঁরা যদি প্রত্যেকে ১টি করে শিল্প-কারখানা এলাকায় গড়ে তোলেন, তাহলে তাঁদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে; এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ খালেদ মোহাম্মদ আলী
সাবেক এমপি, ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের অগ্রসেনানী খালেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা এবং ক্যাম্পাস’র বিপুল ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞের মহানায়ক ড. এম হেলাল আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রিয়পাত্র। তিনি লক্ষ্মীপুর তথা বৃহত্তর নোয়াখালীর অহংকার এবং দেশের গৌরব। তার কর্মস্পৃহা ও নেতৃত্বগুণ দেখে আমি আশান্বিত হই। জন্মস্থানের উন্নয়ন ও কল্যাণ-চিন্তায় আজকের মহতী আয়োজনের জন্য ড. হেলাল এবং তার সহ-উদ্যোক্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলাম, যা ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চলে। এরপর আর চালানো সম্ভব হয়নি। বেশ কিছু লোকসান দিতে হয়েছে। সে থেকে প্রতিজ্ঞা করেছি আর পত্রিকা বের করব না। অথচ কি আশ্চর্য যে, ড. এম হেলাল দীর্ঘ ৩০ বছর পর্যন্ত ‘লক্ষ্মীপুর বার্তা’ এবং সুদীর্ঘ ৩৫ বছর থেকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা’ নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে আসছে এবং এ দু’টি পত্রিকা পাঠকপ্রিয়, প্রকাশনাও খুব উন্নতমানের।
সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ
সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ বলেন, আমার শ্রদ্ধেয় শ্বশুর সৈয়দ বদরুল আলমকে শীর্ষ সমাজসেবী সম্মাননা দেবার কথা জানতে পেরে আমি এ অনুষ্ঠানে এসেছি। এখানে এসে আমি খুবই অনুপ্রাণিত ও উচ্ছ্বসিত হয়েছি এ প্রতিষ্ঠানের বহু ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ এবং ক্যারিশমেটিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা দেখে। আমার শ্বশুর এ প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকেই মেজর পেট্রোনাইজ করে আসছেন জেনে আমি নিজেও গর্ববোধ করছি।
তিনি বলেন ড. এম হেলাল আমার বহুদিনের পরিচিত। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র মাধ্যমে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের সাথে যোগসূত্র গড়ে তুলেছেন তিনি। সমাজসেবীগণকে সম্মাননা দেয়ার যে কার্যক্রম লক্ষ্মীপুর বার্তা গ্রহণ করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এতে জন্মস্থানের সেবা ও কল্যাণচিন্তায় সবাই উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হবে। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র এসব কল্যাণকর কর্মসূচিতে উদারপ্রাণ ব্যক্তিত্বগণের সহযোগিতা করা উচিত।
সাবেক সচিব এএমএম রেজা-ই-রাব্বী
সাবেক সচিব এ এম এম রেজা-ই-রাব্বী বলেন আজ যাঁরা সম্মাননা পেলেন, তাঁদের সম্মানে আমরা গর্বিত। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত, উজ্জ্বল-দ্যুতিময়; সমাজসেবায় তাঁরা অগ্রগামী। মরণোত্তর সম্মাননা লাভকারী ৩ গুণীজনের সন্তানরাও যোগ্যতার প্রমাণ রেখে সমাজে অবদান রাখছেন, এটি আনন্দ ও গৌরবের। তিনি বলেন যে দেশে গুণীজন সম্মান পায় না, সে দেশে পরবর্তী প্রজন্মসমূহে গুণীজনের আগমন হয় না। ড. হেলাল স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে গুণীজনদের সম্মাননা দিয়েছেন; এজন্য এম হেলালসহ তাঁর সহকর্মীদের অভিনন্দন জানাই।
সাবেক সচিব এনায়েত উল্লাহ
সাবেক সচিব এনায়েত উল্লাহ বলেন, ড. এম হেলালের সমাজসেবা ও দেশ-উন্নয়নের প্রেরণাদায়ক কর্মোদ্যোগ আমাদেরকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন যারা সম্মাননা পেয়েছেন, তারা আমাদের গৌরব। লক্ষ্মীপুর বার্তা তাদেরকে সম্মাননা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকেও সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত করেছে। এজন্য তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
ড. নাজনীন আহমেদ
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সরকারের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালক, লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের অনারারি রিসার্চ ডিরেক্টর ড. নাজনীন আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকা ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালে ৩০ বর্ষ উৎসব পালন করছে। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় লক্ষ্মীপুর বার্তা এ অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসায় ধন্য হয়েছে। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ৩০ বর্ষ উপলক্ষে জন্মস্থানের সেবা ও কল্যাণচিন্তায় নিবেদিতপ্রাণ লক্ষ্মীজেলার শীর্ষ ৩০ সমাজসেবীকে সম্মাননা জ্ঞাপন করেছে; এর উদ্দেশ্য ভালো কাজ ও সুকৃতির মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে আগামী প্রজন্মকে উৎসাহিত করা, উজ্জীবিত করা।
তিনি বলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন এবং মেজর জেনারেল (অবঃ) ইকরামুল হক আজকের অনুষ্ঠানে যোগদান করে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করেছেন। তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
ড. নাজনীন আরও বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা, লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা, ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার -এ ৪টি প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজসেবা, জাতিজাগরণমূলক, শিক্ষা ও যুব-উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার লক্ষ্যে ঢাকার উত্তরায় জমি ক্রয় করা হয়েছে, যেখানে নির্মাণ করা হবে ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার, যার মাধ্যমে পরিচালিত হবে মাল্টিডায়মেনশনাল কার্যক্রম। এসব কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতামূলক অংশগ্রহণ কামনা করছি এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের অভিভাবক-সদস্য হবার আহবান জানাচ্ছি।
রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মোহাঃ মোহাব্বত উল্যাহ
বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষাদ্যোক্তা ও সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার মোহাব্বত উল্লাহ বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা আজ যাঁদের সম্মাননা দিয়েছে, তাঁরা সবাই সমাজসেবায় অগ্রগামী। সম্মাননা লাভকারী ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করছেন; তিনি নিজ এলাকায় একক অর্থায়নে ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছেন; এককভাবে ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতি ভবন নির্মাণ করছেন। সম্মাননা লাভকারী অন্যান্য ব্যক্তিত্বগণও সমাজসেবায় অসামান্য ভূমিকা রেখে চলেছেন।
ব্যক্তিগত ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন আমার সহপাঠী শফিক ডাবের ব্যবসা করছিল, সাথে সাহায্যকারী হিসেবে রেখেছিল তার এক কিশোর ছেলেকে। স্কুল ছাড়িয়ে এনে তাকে যুক্ত করেছিল ডাব বিক্রির কাজে। আমার মনে কষ্ট হলো, এ ছেলেটার জন্য; ছেলেটার ভবিষ্যৎ আছে, তার সব সম্ভাবনা নষ্ট করে দিচ্ছে শফিক। আমি তাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে সারা বছরের বেতন দিয়ে ছেলেটাকে আবার স্কুলে পাঠালাম। পরবর্তীতে সে ছেলে এমএ পাস করেছে, এমবিএ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বগণের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা যে স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের খোঁজ-খবর নিতে এবং সেসবের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে।
এম সামছুল আমিন
এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক এম সামছুল আমিন বলেন, ১৯৮৬ সালে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র যাত্রা। শুরুর দিকে এম হেলালের সাথে আমিসহ এডভোকেট রেজাউল করিম নিজাম, এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (প্রয়াত), আকরাম হোসেন মঞ্জু (বর্তমানে বিচারপতি) সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম। পরবর্তীতে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সার্বক্ষণিক থাকার সুযোগ হয়নি। চাল-চুলা নেই, তবুও প্রবল আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ড. এম হেলাল এ পত্রিকার কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। ৩০ বছরে লক্ষ্মীপুর বার্তা আজ এমন অবস্থানে এসেছে যে, এর স্থায়ী কার্যালয় হয়েছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের পাশে। বিস্ময়-যুবক এম হেলালের দ্বারাই এটি সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জন্মস্থানের কল্যাণে কিছু করার অবারিত সুযোগ রয়েছে। তাই আমি সবাইকে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র কর্মযজ্ঞে সামিল হয়ে বিশেষত এ ফাউন্ডেশনের অভিভাবক-পৃষ্ঠপোষক সদস্য হয়ে নিজ জন্ম-এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানাই।
ড. এম হেলাল
শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুদায়িত্বসহ বহুক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তানদের অবদান অনস্বীকার্য। লক্ষ্মীপুরের এসব সূর্য-সন্তান স্বীয় মেধা-প্রতিভা ও কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে যেমনি নিজে মহান হয়েছেন, তেমনি লক্ষ্মীপুরসহ সমগ্র জাতিকেই করেছেন মহিমান্বিত। এরূপ সূর্য-সন্তানদের প্রাগ্রসর ও প্রেরণাদায়ী কার্যক্রমকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে অনুকরণীয় ও স্মরণীয়-বরণীয় করতে আমাদের এ আয়োজন।
এম হেলাল বলেন ক্ষুদ্র পরিসরের আয়োজনে আমরা সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না, আরো বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করে আরও বেশি সংখ্যক জ্ঞানী-গুণীর সমাবেশ ঘটানোর ইচ্ছা আমাদের আছে। আজকে যাঁরা সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁরা সবাই নিজ নিজ অঙ্গনে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, জন্ম-এলাকার উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ। এর বাইরেও অনেকে আছেন, পর্যায়ক্রমে তাঁদেরকে আমরা সম্মাননা প্রদান করব। প্রয়াত সমাজসেবীগণও আমাদের দৃষ্টি এড়াননি। তাঁদের কীর্তি আজও সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। তাই তাঁদের কয়েকজনকে এ অনুষ্ঠানে মরণোত্তর সম্মাননা জ্ঞাপনের সুযোগ পেয়ে আমি কিছুটা ঋণমুক্ত হচ্ছি। তিনি বলেন তাঁরা Transformed হলেও আমি আজও রাত জেগে তাঁদের নাম আওড়াই; সানাউল্লা নূরী, ড. মফিজুল্লাহ কবীর, মোঃ সফিক উল্লাহ (সফিক মামা), মানসুরুল আজীজ, ড. এম হাবিবুল্লাহ ছাড়াও জাতীয় ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরী, ড. এম এ সাত্তার এঁরা মরে যাননি, আমার কাছে এখনো তাঁদের স্মৃতি চিরভাস্বর।
ড. হেলাল বলেন, উক্ত শীর্ষ ৩০ সমাজসেবী সম্মাননা ছাড়াও ২০১৭ সালে লক্ষ্মীপুর বার্তা আয়োজন করতে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলার ৩০ সূর্য-সন্তানকে অভিবাদন জ্ঞাপন সম্মেলন। যাঁদের মধ্যে থাকছেন লক্ষ্মীপুর জেলার ২ প্রধান বিচারপতি, লেঃ জেনারেল, মেজর জেনারেল, পুলিশের সাবেক আইজি, জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ রাজনীতিবিদ- শিল্পপতি- সাহিত্যিক- বুদ্ধিজীবী- শিক্ষাবিদ, ভাইস-চ্যান্সেলর প্রভৃতি। এতে প্রধান অতিথি এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় স্পিকারকে নিমন্ত্রণ জানানো হবে।
সম্মাননা গ্রহণকারীগণের প্রতিক্রিয়া
ট্যাক্স-ভিআইপি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া
ত্যাগী সমাজসেবী, শিক্ষার একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, উদারপ্রাণ শিক্ষাদ্যোক্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিল্প-বাণিজ্যের পুরোধা, লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির ডায়নামিক সভাপতি, ট্যাক্স-ভিআইপি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন ড. এম হেলাল ১৯৮৬ সালে লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকাশের মাধ্যমে নিজকে সমাজসেবায় আত্মনিবেদিত করেছেন, যা আজও অব্যাহত আছে এটি কেবল প্রশংসনীয়ই নয়, অন্যদের জন্য অনুকরণীয়ও বটে। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ৩০ বর্ষ উপলক্ষে আমাদেরকে সম্মাননা দিয়ে ড. হেলাল জন্মস্থানের প্রতি আমাদের সবার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ১৯৭৭ সালে বাবার কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসে অটল থেকে আজ এ পর্যায়ে এসেছি। আমি ছোটখাটো অনেক সংগঠনের মাধ্যমে কাজ করছি। লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির ভবন নির্মাণে এককভাবে কাজ করেছি, কয়েকজনের জন্য অপেক্ষা করলে হয়ত সম্ভব হতো না। এছাড়া একক প্রচেষ্টায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছি; প্রতিষ্ঠানটি শুধু অলাভজনক প্রতিষ্ঠানই হবে না বরং প্রায় ৬শ’ ছাত্র-ছাত্রীর বিনাবেতনে লেখাপড়া এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া
স্বাস্থ্যসেবা ও মানবসেবায় উৎসর্গীকৃত, প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির গবেষক ও পথিকৃৎ, দূরদর্শী সমাজচিন্তাবিদ, ডায়নামিক শিক্ষাদ্যোক্তা ও উদারপ্রাণ সমাজসেবী, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া বলেন আজকের অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান, দেশের গৌরব সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন এবং চৌকস আর্মি অফিসার ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অবঃ) এসএম ইকরামুল হক উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। তাঁদের হাত থেকে সম্মাননা নিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি এবং আজকের এ আয়োজনের জন্য লক্ষ্মীপুর বার্তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে মানবসেবার প্রতি ও জন্মস্থানের প্রতি আমার সেবা ও চিন্তার আরেক দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে। আমি ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার ভবন নির্মাণ প্রকল্পের গর্বিত অংশীদার হতে চাই। আমার ব্যক্তিগত তরফ থেকে এবং হামদর্দ এর পক্ষ থেকে এ স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।
প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল
সমগ্র দেশের বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষকদের নির্বাচিত নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিক্ষা ও সমাজসেবায় উৎসর্গীকৃত, বহুমুখী প্রতিভার কর্মযোগী, তারুণ্যদীপ্ত ও ছাত্রবৎসল শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন যাঁরা সংবর্ধিত হন তাঁদের সামাজিক দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। তাই সমাজসেবায় আমাদের আরও ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন যে জাতি তার গুণীজনদের সম্মাননা দেয় না, সে জাতিতে গুণী লোকের আবির্ভাব ঘটে না। লক্ষ্মীপুর বার্তা গুণীজনদের সম্মাননা দেয়ার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা একটি অনন্য সাধারণ ঘটনা এবং এরূপ অনুষ্ঠানমালা লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন চেতনার আরেক সংযোজন। ড. মাকসুদ কামাল বলেন, লক্ষ্মীপুরে স্কুল-ছাত্র থাকাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তারকা শিক্ষক বোস প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরীর ভাষণ শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল; লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত সমাবেশে তাঁর সে ভাষণ আমাকে এতটা আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করেছিল যে, আমি সেদিনই শপথ নিয়েছিলাম, কর্মজীবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হব। আমার সে আশা পূর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে চেতনা সৃষ্টি করার গুরুত্বও কম নয়; চেতনাই মানুষকে উজ্জীবিত করে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা ও লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ব্যানারে ড. হেলাল দীর্ঘদিন থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেইরূপ কাজ করে যাচ্ছেন। ড. হেলালের এরূপ সমাজসেবা ও দেশপ্রেম সবার জন্যই অনুসরণীয়। তিনি বলেন জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমরা যারা পড়ালেখা করেছি, দেশের মানুষের জন্য তাদের দায়বদ্ধতা আছে -যা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, তরুণদের মধ্যে স্বপ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। অঞ্চল-ভিত্তিক শিক্ষা-উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। আজ যাঁরা সম্মানিত হলেন, তাঁরা শুধু লক্ষ্মীপুরের নয়, সারাদেশের গৌরব। ইউকে এর দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন চৌকস শিক্ষক লক্ষ্মীপুরের সন্তান; এছাড়াও অনেক জ্ঞানী-গুণী লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেছেন। কিন্তু এককালের গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত বৃহত্তর নোয়াখালী বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের বর্তমান অগ্রগতি মন্থর, এটা ভাবনার বিষয়। এলাকার স্কুল-কলেজে কোয়ালিটি শিক্ষার প্রচলন না হলে এটি আরও পিছিয়ে যাবে। চীনা প্রবাদে বলা হয়েছে- If you want ten year’s plan, then plant a tree. But if you want a plan for whole life, then invest in education. তিনি আরও বলেন ড. হেলাল এর ন্যায় যাঁরা শিক্ষার উন্নয়নে, এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন তাদেরকেও আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে, তাদের সমাজকর্মে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। লক্ষ্মীপুরের সম্পদশালী ব্যক্তিত্বগণের প্রতি আহ্বান আপনারা নিজ জন্ম-এলাকায় শিল্প-বাণিজ্য প্রসারে এগিয়ে আসুন, এলাকার আর্থিক বুনিয়াদ শক্ত করুন।
মাতৃবন্ধু এ এইচ এম নোমান
মানবাধিকার অন্দোলনের অগ্রসেনানী, গুচি-আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারে ভূষিত, অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের ভরসা, দারিদ্র্য-শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াকু সৈনিক, র্ডপ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা আজ আমাদের যে সম্মাননা দিয়েছে, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র কল্যাণকর কর্মসূচিতে আমাদের সকলের সহযোগিতা করা উচিত। তাই আমি এ ফাউন্ডেশনের এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর সদস্য হয়েছি। আমি সবাইকে আহ্বান জানাব লক্ষ্মীপুর বার্তা পরিবারের অভিভাবক-পৃষ্ঠপোষক সদস্য হওয়ার জন্য, যাতে এ প্রতিষ্ঠান আমাদের জন্মভূমির স্বার্থে আরও বেশি কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে পারে। তিনি বলেন আমরা সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করছি। পরিকল্পিত উপায়ে ‘র্ডপ’এর মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে সমাজ-সেবামূলক কাজ করব। তিনি বলেন, আমার সংগঠনের পোশাক লাল-সবুজ; আমাদের জাতীয় পোশাকও লাল সবুজ হওয়া উচিত। তিনি স্বরচিত একটি কবিতা পাঠ করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
আবদুস শহিদ
সাংবাদিকতা পেশার প্রতি একনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের একান্ত অনুশীলনকারী, সংবাদপত্রসেবীদের প্রিয় নেতা, নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক আবদুস শহিদ বলেন লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস তিনশ’ বছরের পুরোনো। আমরা একটি সমৃদ্ধ জনপদের অধিবাসী। লক্ষ্মীপুরে বছরে ৩শ’কোটি টাকার সুপারি উৎপাদন হয়, ইলিশ উৎপাদন হয় ৩ হাজার কোটি টাকার, হাজার কোটি টাকার সয়াবিনের আয়ে লক্ষ্মীপুরের অর্থনীতি শক্তি সঞ্চয় করেছে। তাই লক্ষ্মীপুরের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে এখানে স্থানীয় বিনিয়োগ ও এগ্রো-বেইজড ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাকে আজ এরূপ সম্মাননা প্রদান করার ফলে নিজ জন্ম-এলাকার কল্যাণে আমার লেখনী, মেধা-মনন আরও সক্রিয় হবে।
অনুলিখনেঃ মোহাম্মদ মোস্তফা সহযোগিতায়ঃ মনিরুজ্জামান