Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

দাগনভূঁঞা চোধুরী বাড়ি জামে মসজিদ

॥ এ কে এম গিয়াস উদ্দিন মাহ্মুদ ॥
ইতিহাস
অতীতে দাগন ভূঁঞার নাম ছিল গুপীগঞ্জ। পরে এর নামকরণ করা হয় দাগন ভূঁঞা। যতদুর জানা যায় দায়েন ভূঁঞা নাম বিকৃত হয়ে দাগন ভূঞা হয়েছে এবং এ বিকৃত নামেই দাগন ভূঁঞা এলাকার নামকরণ করা হয়ে গেছে। দায়েন আলী ভূঞা ছিলেন আশরাফ আলী ভূঁঞার পূর্বপুরুষ। দাগন ভূঁঞা বাজার থেকে সামান্য পশ্চিমে আশরাফ আলী চৌধুরীদের বাড়ি। তাদের পূর্ব উপাধি ছিল ভূঁঞা, পরবর্তীকালে তারা ভূঁঞা উপাধির পরিবর্তে চৌধুরী উপাধি গ্রহণ করেন। সেই পরিবারের একটি অনন্য নিদর্শন হল দাগন ভূঁঞা চৌধুরী বাড়ী জামে মসজিদ। মসজিদটি ফেনী জেলার দাগন ভূঁঞা উপজেলার আজিজ ফাজিলপুর গ্রামে অবস্থিত।এটি আনুমানিক ১৭৯৫ সালে স্থাপিত। সে হিসেবে এর বর্তমান (২০১৬ সালে) বয়স ২২১ বছর। এতদঞ্চলের তৎকালীন ভূ-স্বামী দায়েন ভূঁঞা প্রকাশ দাগন ভূঁঞার বিবি সাহেবান মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিবি সাহেবানের প্রকৃত নাম না জানা গেলেও এটা অনুমিত হয় যে, তিনি পরম ধর্মানুরাগী ছিলেন। বিবি সাহেবানের মৃত্যুর পর মসজিদটি তার বড় মেয়ে বিবি সৈয়দের নেছা সাহেবানী প্রকাশ সৈয়দের নেছা চৌধুরাণীর সন্তানদ্বয় যথাক্রমে আফাজ চৌধুরী ও আলী আহম্মদ চৌধুরী দেখাশুনা করেণ। বংশ পরম্পরায় শামছুজোহা চৌধুরী তার জীবদ্দশায় মসজিদটির পূর্বাংশসহ ব্যাপক সংস্কার কার্য এবং সৌন্দর্য বর্ধন করেন। বর্তমানে তারই বড় ছেলে শামছুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। উল্লেখ্য, মসজিটির প্রতিষ্ঠাতা বিবি সাহেবানের কবর মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণের কবরস্থানে অবস্থিত।
গঠনশৈলী
দাগন ভূঁঞা চোধুরী বাড়ী জামে মসজিদটির অবস্থা অতি দৃষ্টিনন্দন। ভূমি হতে ২ ফুট উচ্চতা প্রায় বর্গাকৃতি প্লাটফর্মের উপর ৫র্০ী৪র্০ আয়তকার মসজিদটি অবস্থিত। সুদৃশ্য সাদা, লাল, নীল এবং হলুদ রং এর টাইলস দ্বারা এর বহি দেয়াল আবৃত। ৬টি জানালাও ৩টি দরজা রয়েছে। দরজাগুলো মসজিদের মূল আকর্ষণ। মসজিদের কার্ণিশ বরাবর ফুলের কলি সদৃশ্য নকশা বিদ্যমান। মসজিদের মেহরাব ও মিম্বারটিও অনেক সুন্দর। মসজিদের দক্ষিনে কবরস্থান এবং পূর্বদিকে অযু করার জন্য একটি পুকুর রয়েছে। ‘চুন-সুরকি দ্বারা নির্মিত মসজিদিটি এত শক্ত ভিতের উপর নির্মিত, আগামী ২০০ বছরেও তার কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হবে না।’ ১৯৮১ সালে মসজিদটি দেখতে এসে কয়েকজন বিদেশি পর্যটক মন্তব্যটি করেছিলেন।