Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি স্বাধিকার আন্দোলনের নেতা খালেদ মোহাম্মদ আলীকে লক্ষ্মীপুর জেলার শীর্ষ সমাজসেবী সম্মাননা

স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ক’জন সংগ্রামী ও ত্যাগী ছাত্রনেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে, লক্ষ্মীপুরের খালেদ মোহাম্মদ আলী তাঁদের অন্যতম। তৎকালীন সময়ে তাঁর তেজোদ্দীপ্ত প্রতিভা ও অনন্য সাংগঠনিক দক্ষতা সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে আলোড়ন সৃষ্টি করায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সুনজরে পড়েন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন হন। জনাব খালেদ মোহাম্মদ আলী শুধু একটি সাধারণ নামই নন বরং একটি সংগ্রাম, একটি ইতিহাস, একটি প্রতিষ্ঠান; বৈচিত্র্যময় ও সফল জীবনের অধিকারী। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ ভূমিকাই তাঁর জীবনকে করেছে সুষমামন্ডিত, কর্মযোগকে করেছে সুতীক্ষè লক্ষ্যাভিসারী। একজন দক্ষ সংগঠক, জনকল্যাণকামী ও দূরদর্শী এই সাহসী মানুষটি তাঁর নির্মল চরিত্র ও সুস্মিত আদর্শের জন্যই সারাদেশে সুপরিচিত। এককালের তুখোড় এই ছাত্রনেতাকে চেনেন না, এমন লোক এদেশে বিরল। তিনি একজন পূর্ণ আধুনিক মানুষ, মানবিক সংস্কৃতির বন্ধনে বিশ্বাসী, নিজের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। মানুষ হিসেবে তিনি মমতাময়, স্নেহপরায়ণ ও অমায়িক বন্ধুবৎসল; বিরক্ত হন না, রাগেন না -এমনই প্রোএকটিভ এটিচিউডের মানুষ তিনি।
জনাব খালেদ মোহাম্মদ আলী ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ছাত্রলীগের নেতৃত্বেই ১১ দফা আন্দোলন সংগঠিত হয়। পরবর্তীতে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ছাত্রলীগের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়। সেসময়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঐসব আন্দোলনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ’৬৯ সালে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন এই মহান ব্যক্তিত্ব।
১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য তথা ন্যাশনাল এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন খালেদ মোহাম্মদ আলী। তিনিই ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ভারতের আগরতলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর দেশে ফিরে রামগতি, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, রামগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে পুনরায় ভারতে গিয়ে মুজিবনগর সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি মুজিবনগর সরকারের অধীনে ২নং সেক্টরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এ কিংবদন্তি নিজ জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন ও কল্যাণ-চিন্তায়ও ছিলেন একনিষ্ঠ ও আন্তরিক। লক্ষ্মীপুর থানাকে মহকুমায় উন্নীত করার ব্যাপারে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করেছেন। লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রথম বিদ্যুৎ আনা, বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা স্থাপন, সড়ক উন্নয়নে তিনি জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অত্র অঞ্চলের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তিনি সর্বদাই ছিলেন আন্তরিক।
সমাজসেবা ও জনসেবায় নিবেদিত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্রসেনানী জনাব খালেদ মোহাম্মদ আলীর এরূপ প্রাগ্রসর ও প্রেরণাদায়ী কার্যক্রমকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে অনুকরণীয় ও স্মরণীয়-বরণীয় করতে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ৩০ বর্ষ উপলক্ষে তাঁকে অতল শ্রদ্ধা ও অসীম ভালোবাসায় লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শীর্ষ সমাজসেবী সম্মাননা জ্ঞাপন করছি। সেইসাথে তাঁর সুখ-সুস্বাস্থ্য ও অনন্ত সৃষ্টিশীল দীর্ঘজীবন কামনা করছি।