Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

লক্ষ্মীজেলার শীর্ষ সমাজসেবী পুরস্কার ও সম্মাননা ৩য় পর্ব

১৯ মে লক্ষ্মীপুর বার্তা কার্যালয়স্থ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় লক্ষ্মীপুর জেলার শীর্ষ সমাজসেবীগণকে সম্মাননা জ্ঞাপনের ৩য় পর্ব। লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার ৩০ বর্ষ উপলক্ষে লক্ষ্মীজেলার শীর্ষ সমাজসেবীগণকে পুরস্কার ও সম্মাননা জ্ঞাপন এবং জেলার ৩০ সূর্য-সন্তানকে অভিবাদন জ্ঞাপন অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন। জন্মস্থানের সেবা ও কল্যাণ-চিন্তায় তথা নিজ জেলার উন্নয়নে সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতে, পৈত্রিক ভিটামাটির প্রতি আগামীর প্রজন্মকে আগ্রহী ও মনোযোগী করতে এরূপ সম্মাননা জ্ঞাপন, পুরস্কার অর্পণ, সংগীতানুষ্ঠান ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন। সম্মাননা জ্ঞাপনের ১ম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় গত ১৮ নভেম্বর এবং ২য় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২০ জানুয়ারি।
১৯ মে আয়োজিত ৩য় পর্বের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষতা-প্রজ্ঞা-মেধার অফুরন্ত অবদান সৃষ্টিকারী অনন্য ব্যক্তিত্ব; লক্ষ্মীপুর জেলাবাসীর স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা রাখা মেজর জেনাঃ (অবঃ) প্রফেসর ডাঃ এএসএম মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসেবায় অবদানের পাশাপাশি জন্মস্থানের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখা অনন্য ব্যক্তিত্ব, আনোয়ার খান মডার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাউন্ডার, আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফাউন্ডার-চেয়ারম্যান, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন এর মহাসচিব এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা লাভকারী ব্যক্তিত্বগণ হলেন জননন্দিত, নীতিনিষ্ঠ, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, লক্ষ্মীপুরবাসীদের সুখ-দুঃখের সাথী, স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি; মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি, ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ও স্বাধিকার আন্দোলন নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য জনাব খালেদ মোহাম্মদ আলী; শিক্ষাদ্যোক্তা ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিত্ব, এ জে গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সাবেক চেয়ারম্যান শিল্পপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী; কোয়ালিটি শিক্ষা প্রসারে নেতৃত্বদানকারী, উদারপ্রাণ ও একনিষ্ঠ শিক্ষাদ্যোক্তা, মাইলস্টোন কলেজের ফাউন্ডার কর্নেল (অবঃ) নুরন্ নবী; মেধাবী ও চৌকস সচিব, ডায়নামিক ও কল্যাণকামী শিক্ষাদ্যোক্তা, উদারপ্রাণ সমাজসেবী, আধুনিক ধ্যান-ধারণার মূর্ত প্রতীক এ কে এম এনায়েত উল্লাহ; মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমী-কল্যাণকামী-সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব, লেখক-প্রকাশক, কলম্বিয়া গ্রুপের ফাউন্ডার লেঃ কর্ণেল এসআইএম নূরুন্নবী খান (অবঃ) বীর বিক্রম; সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সহায়, শিক্ষাদ্যোক্তা, সমাজসেবী শিল্পপতি, প্যাকস স্টোন লিঃ এর চেয়ারম্যান রোটারিয়ান মোঃ রফিকুল হায়দার চৌধুরী (পিএইচএফ); শিক্ষাদ্যোক্তা, সমাজসেবী, কর্মচারী ইউনিয়নের সুদক্ষ নেতা, বর্ণিল গুণাবলির ব্যক্তিত্ব, সোনালী এন্টারপ্রাইজ এর এমডি মোঃ বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়া। মরণোত্তর সম্মাননা লাভকারী ব্যক্তিত্ব হলেন সাদামনের উচ্চ মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, ব্যাপক কর্মসংস্থানকারী শিল্পপতি ও সমাজসেবী মরহুম আলী হায়দর চৌধুরী।
তাছাড়া দেশপ্রেমী ও জনদরদি শিল্পপতি, সহজ-সরল ও উদার মানবিকতায় পরিপূর্ণ, শিক্ষানুরাগী ও কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব মরহুম ইব্রাহিম মিয়াকেও মরণোত্তর সম্মাননা অর্পণের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু তাঁর পক্ষে সম্মাননাপত্র গ্রহণের জন্য তাঁর পুত্র এম এ হাসেম এবং ফিরোজ আলম বাবুকে নিমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু তাঁদের কেউই উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে এটি পরবর্তী অনুষ্ঠানে প্রদানের জন্য স্থগিত করা হয়।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাউন্টিং এলামনাই এর সাবেক প্রেসিডেন্ট লায়ন গভর্ণর এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বাবর, বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বেঙ্গল লেদার কমপ্লেক্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ টিপু সুলতান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু, রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম, বায়োফার্ম লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ আনোয়ারুল আজিম, আলোহা আইশপ এর সিইও আবু নাছের, ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড ফ্যামেলিলাভ মুভমেন্ট এর চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের, লালবাগ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম ফিরোজ, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সোলায়মান, অধ্যক্ষ সালমা খান, বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ এর উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম, সমাজসেবী নুসরাত জাহান, হোসনে আরা, ফরিদা ইয়াসমিন, ক্যাম্পাস’র ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এডভোকেট মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, হোলি গ্রুপ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হুদা, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদুর রহমান, মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক (প্রশাসন) মাসুদ আলম, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা ও ছড়াকার মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন শিশু-কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আনতারা রাইসা এবং উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্র, স্কাউট লিডার ও শিশু-কলামিস্ট মাহীর হেলাল। অনুষ্ঠানমালার বিভিন্ন পর্বে ছিল সম্মিলন ও আপ্যায়ন পর্ব (স্যুপ-স্ন্যাকস-ব্রেড), সংবর্ধিতগণকে একে একে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার অর্পণ, আলোচনাপর্ব ও আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে রিফ্রেশমেন্ট (মৌসুমি ফল), সুরের অনুরণনে অতিথিবরণ (সংগীতসন্ধ্যা), র্যাফেল ড্র এবং লাকিপার্সন অব দি ইভেন্ট নির্বাচন ও পুরস্কার বিতরণ, সবশেষে নৈশভোজ (চিকেন-গ্রীল বিরিয়ানি, ডাল-সবজি-সালাদ, সুইট এন্ড ন্যাচারাল ইয়োগাট ও পুডিং)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বৃহত্তর নোয়াখালীর উপর লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সদ্য প্রযোজিত থিম সং পরিবেশিত হয় এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে দেখানো হয় লক্ষ্মীজেলা ও লক্ষ্মীপুর বার্তা’র উপর নির্মিত ডক্যুমেন্টারি। এরপর শুরু হয় সম্মাননা জ্ঞাপন ও পুরস্কার অর্পণ পর্ব। প্রথমে সম্মাননা লাভকারীগণের জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত আলাদা আলাদা ভিডিও ডক্যুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়; পরে তাঁরা একে একে মঞ্চে এসে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী গ্রহণ করেন। তাঁদেরকে সম্মাননাপত্র অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেজর জেনাঃ (অবঃ) প্রফেসর ডাঃ এএসএম মতিউর রহমান; সম্মাননা-ক্রেস্ট অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আনোয়ার হোসেন খান; উপহার হিসেবে ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীল ও আত্ম-উন্নয়নমূলক ১৭টি বইয়ের সেট এবং ক্যাম্পাস’র মডেল ও সিডি সেট অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. এম হেলাল। এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির হাতে সম্মাননা-ক্রেস্ট তুলে দেন লক্ষ্মীপুর বার্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল; তাঁকে উপহার হিসেবে ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত ১৭টি বইয়ের সেট অর্পণ এবং ক্যাম্পাস গবেষণা সেল এর উদ্ভাবিত মডেল ও সিডি সেট অর্পণ করেন সরকারের সাবেক কর্মকর্তা, লক্ষ্মীপুর বার্তায় সুদীর্ঘ ২২ বছর থেকে কর্মরত সিনিয়র সহকারী সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা। এরপর বিশেষ অতিথির হাতে সম্মাননা-ক্রেস্ট তুলে দেন লক্ষ্মীপুর বার্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল; তাঁকে উপহার হিসেবে ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত ১৭টি বইয়ের সেট অর্পণ করেন লক্ষ্মীপুর বার্তা’র প্রকাশনার শুরুতে অনবদ্য অবদান রাখা ব্যক্তিত্ব, বর্তমানে কম্পিউটার সরবরাহকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠান আলোহা আইশপ এর সিইও আবু নাছের এবং ক্যাম্পাস গবেষণা সেল এর উদ্ভাবিত মডেল ও সিডি সেট অর্পণ করেন রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম।
সম্মাননা ও উপহার সামগ্রী অর্পণের পর শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। সকল বক্তাই লক্ষ্মীপুর বার্তা’র এরূপ ব্যতিক্রমী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্যদের সম্মাননা দিয়ে জন্ম-এলাকার প্রতি সেবার মনোভাব বাড়াতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করছে। এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে নিবেদিত লক্ষ্মীপুর বার্তা’র নানামুখী কল্যাণকর কর্মসূচির প্রশংসা করেন তাঁরা; জন্ম-এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র বিভিন্ন কর্মসূচির সাথে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেন এবং এরূপ কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য দেশপ্রেমী ও উদারপ্রাণ সমাজদরদি ব্যক্তিত্বগণের প্রতিও আহ্বান জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় মনোমুগ্ধকর ও জমজমাট সঙ্গীতসন্ধ্যা। এ পর্ব যুগ্মভাবে পরিচালনা করেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী মেহেদী হাসান এবং ক্যাম্পাস’র শিক্ষানবিশ তুহিন চৌধুরী পূর্ণিমা। তাঁরা গেয়ে শোনান আজ এই দিনটাকে, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধায়, আমার গরুর গাড়িতে, সাধের লাউ ইত্যাকার শ্রোতাপ্রিয় গান। মুহুর্মুহু সঙ্গীতের মূর্ছনায় আবিষ্ট হয়ে উপস্থিতগণ নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।
নৈশভোজের পর অনুষ্ঠিত হয় র্যাফেল ড্র। এতে ১ম পুরস্কার লাভ করেন ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র এর সিনিয়র উপ-সহকারী পরিচালক রাজিব গুপ্ত; ২য় ও ৩য় পুরস্কার লাভ করেন সম্মাননা লাভকারী ব্যক্তিত্ব রফিকুল হায়দার চৌধুরীর সহধর্মিণী, সমাজসেবী হোসনে আরা। এভাবে শীর্ষ সমাজসেবী সম্মাননার ৩য় পর্ব শেষ হয় আবেগ-উচ্ছ্বাসে ভরা বক্তৃতা, সুর-ছন্দময় গান, স্বাদে-গন্ধে বিভিন্ন খাবার উপভোগ, উপহার ও পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে। উপস্থিতদের বক্তৃতা ও কথামালা পর্বের অংশবিশেষ নিম্নে তুলে ধরা হলো।
মেজর জেনাঃ (অবঃ) প্রফেসর ডাঃ এএসএম মতিউর রহমান
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষতা-প্রজ্ঞা-মেধার অফুরন্ত অবদান সৃষ্টিকারী অনন্য ব্যক্তিত্ব; লক্ষ্মীপুর জেলাবাসীর স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা রাখা মেজর জেনাঃ (অবঃ) প্রফেসর ডাঃ এএসএম মতিউর রহমান বলেন আমি প্রচার-বিমুখ মানুষ; কাজে বিশ্বাস করি। এ পর্যন্ত ৩ বার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছেন মহান স্রষ্টা। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে কাজ করেছি, বন্ধু খালেদ মোহাম্মদ আলী তা জানেন, আর জানেন রাব্বুল আলামীন। এতে নিজের মধ্যে কোনো অহংবোধ কাজ করেনি। স্রষ্টা ঘোষণা দিয়েছেন যারা রিয়া বা অহংকার করে, সেই অহংকারকারীদের প্রতি আমার ঘৃণা। এজন্য জীবনভর কল্যাণচিন্তায় সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে নিয়োজিত রয়েছি। বিগত ৫০ বছর চিকিৎসা সেবার জন্য কোনো পারিশ্রমিক নিইনি। স্বাস্থ্যসেবা দান করে এত বছর কাটিয়ে দিয়েছি। ডাঃ মতিউর রহমান বলেন আজ যাঁরা শীর্ষ সমাজসেবী হিসেবে সম্মাননা পেলেন, তারা সমাজের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। লক্ষ্মীপুরের সবাই একে অন্যের সাথে সংযুক্ত, সবাই সবার আত্মার আত্মীয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে- আমাদের সম্পদের উপর এলাকার মানুষের হক আছে। ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত- তোমরা মা-বাবার প্রতি সদয় হও, পাড়া প্রতিবেশীর প্রতি সদয় হও -এটি আমাদের সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘ঊফঁপধঃরড়হ রং ঃযব নধপশনড়হব ড়ভ ঃযব হধঃরড়হ’। তাই আমাদেরকে কোয়ালিটি শিক্ষার দিকে নজর দিতে হবে, সুস্বাস্থ্যের প্রতি সতর্ক হতে হবে, কাজে-কর্মে যতœশীল হতে হবে। ডাঃ মতিউর রহমান বলেন শিক্ষা, যুব উন্নয়ন ও সমাজসেবায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করার প্রয়াসে ড. হেলাল নিজকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি লক্ষ্মীপুরের শীর্ষ সমাজসেবীগণকে সম্মাননা দিয়ে নতুন প্রজন্মকে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁর এ উদ্যোগ প্রশংসার ঊর্ধ্বে। তাই আমি অনুরোধ করব আজ যাঁরা সম্মানিত হলেন, সংবর্ধিত হলেন তাঁরা লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতা করবেন, উৎসাহ যোগাবেন। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র জন্য এটাও একটি বড় জবধিৎফরহম.
শিক্ষাদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন খান
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসেবায় অবদানের পাশাপাশি জন্মস্থানের উন্নয়ন- অগ্রগতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখা অনন্য ব্যক্তিত্ব, আনোয়ার খান মডার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাউন্ডার, আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফাউন্ডার, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব; দেশোন্নয়ন ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান অসামান্য। অনুষ্ঠানে সম্মাননা লাভকারী বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ শাহজাহান কামাল আমাদের আশা-ভরসাস্থল, সুপরামর্শ লাভের স্থান। এছাড়াও যাঁরা সম্মাননা লাভ করেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই বৃহত্তর নোয়াখালীর গৌরব, দেশোন্নয়নে তাঁদের অবদান অপরিসীম। এমন ব্যক্তিত্বগণকে সম্মাননা প্রদান করেছে লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন; এজন্য লক্ষ্মীপুর বার্তাকে আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। লক্ষ্মীপুর বার্তা অফিসে এসে আমি অভিভূত হয়ে গেলাম। বুঝলাম, লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকা লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রতি কত আন্তরিক।
মানবসেবায় উদার ব্যক্তিত্ব আনোয়ার হোসেন খান বলেন টাকা-পয়সা জীবনে কম কামাই করিনি, এগুলোর উপর মানুষের হক আছে, দাবি আছে। প্রয়োজনের সময় সেই টাকার কিছু অংশ ব্যয় করতে না পারলে সব অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে। রানা প্লাজার দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়ে আমি দায়িত্ব নিয়ে এনাম মেডিকেল কলেজের ফাউন্ডার এনাম ভাইকে অনুরোধ করি, আহতদের চিকিৎসা-সহায়তা দিতে। আমি সে সময়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকায় আমার ব্যাংককে বিপন্ন মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার নির্দেশ দিই। অন্যান্য ব্যাংক-কর্তৃপক্ষকেও ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করি।
এলাকাপ্রেমী আনোয়ার হোসেন খান বলেন নোয়াখালী এককালে শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রণী ছিল, এখন অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে; তাই অতীতের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সবার কাজ করতে হবে। এ ধরনের মহতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমার মনের ভাব ব্যক্ত করার সুযোগ দানের জন্য লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ড. হেলালকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
লায়ন গভর্ণর ওয়াহিদুজ্জামান বাবর
লায়ন গভর্নর ওয়াহিদুজ্জামান বাবর বলেন যিনি সম্মান দিতে জানেন না, প্রকৃতপক্ষে তিনি কিছুই দিতে জানেন না। আজকের অনুষ্ঠানের মত অনুষ্ঠান বা কার্যক্রম মানুষের মনে প্রেরণা সঞ্চার করে। যারা সংবর্ধিত হলেন, তাঁদের সবাই সমাজে অবদান সৃষ্টি করে খ্যাতি অর্জন করেছেন। একটি বিষয়ে সবাই গুরুত্ব দিয়েছেন সেটি হলো শিক্ষা। আমাদের সময়ে সারাজীবন পড়ালেখার জন্য যে অর্থব্যয় করেছি তা এখনকার এক সিমেস্টারেই ব্যয় হয়ে যায়। তাই শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তাদের পড়ালেখা চলছে। জনগণের সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আজকে যারা সংবর্ধিত হলেন তারা ঋণ পরিশোধের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এভাবে তাঁদেরকে অনুসরণ করে সমাজসেবায় অবদান রাখার মাধ্যমে জনগণের ঋণ পরিশোধ করবে বলে আশা করি।
টিপু সুলতান
বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বেঙ্গল লেদার কমপ্লেক্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চৌকস শিল্পোদোক্তা টিপু সুলতান বলেন শিক্ষাক্ষেত্রে একসময় নোয়াখালী ছিল শীর্ষে, বর্তমানে তার সেই অবস্থান নেই; অনেক নিচে নেমে গেছে। এ ব্যাপারে আমাদেরকে গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে। আমরা যে স্কুলে পড়ালেখা করেছি, সেই স্কুলের উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, বাড়াতে হবে শিক্ষার মান। আমি আশা করি, নোয়াখালী শিক্ষাক্ষেত্রে আগের অবস্থানে আসতে সক্ষম হবে।
ফজলুল করিম
রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম বলেন আজ যাঁরা সংবর্ধিত হয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন দলমতের অনুসারী হলেও দেশ উন্নয়ন ও জনকল্যাণের ক্ষেত্রে সবাই ঐক্যমত পোষণ করেছেন। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা স্থাপন করে হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা স্থাপন করে শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। এমন ব্যক্তিত্বগণকে লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন রাজনীতি-নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সম্মাননা দিয়ে নিজেই সম্মানিত হয়েছেন। আমাদেরও উচিত লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনকে পৃষ্ঠপোষকতা করা, সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন আমি আশা করি, আজ যাঁরা সম্মাননা লাভ করেছেন, তাঁরা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন, নিজ জন্ম-এলাকার উন্নয়নে অধিক জোরালো ভূমিকা রাখবেন।
নুসরাত জাহান
প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ খালেদ মোহাম্মদ আলীর সহধর্মিণী, লক্ষ্মীপুরের অহংকার অধ্যক্ষ টি হোসেনের সুযোগ্যা কন্যা নুসরাত জাহান বলেন, খালেদ মোহাম্মদ আলী মুক্তিযুদ্ধের একজন জীবন্ত কিংবদন্তি; বঙ্গবন্ধুর আহ্বান ও দিকনির্দেশনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন; কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে কখনো বাধা দেয়া হয়নি। এখনও তাঁর স্বদেশ-চিন্তা তরুণ সমাজকে উজ্জীবিত করে। তাঁঁর সম্মান ও স্বীকৃতিতে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি।
রোটারিয়ান হোসনে আরা চৌধুরী পুতুল
ইন্টারন্যাশনাল হুইল ক্লাব বাংলাদেশ এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান হোসনে আরা চৌধুরী পুতুল বলেন আজ এখানে এসেছি গুণীজনদের কথা শুনতে, নিজে কিছু বলতে নয়। এখানে এসে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ব্যতিক্রমী কার্যক্রম দেখে অভিভূত হয়েছি। এলাকার উন্নয়নে তাঁরা আমাকেও উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করলেন। আজ যারা সংবর্ধিত হলেন, তাঁদের সামাজিক দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা অনেক বেড়ে গেলো।
আবু নাসের
আলোহা আইশপ এর সিইও মোঃ আবু নাসের বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তার কর্মকান্ডের সাথে আমি প্রথম থেকেই জড়িত রয়েছি। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সম্পাদক ড. এম হেলাল বৃহত্তর নোয়াখালীর ঐক্যের স্পিরিটকে ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার উন্নয়নে লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকা এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে আমাদের সবার সহযোগিতা করা উচিত।
এডভোকেট মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া
ক্যাম্পাস’র ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এডভোকেট মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া স্বাগত ভাষণে বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা একটি পত্রিকা, লক্ষ্মীপুর একটি জেলা এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন একটি প্রতিষ্ঠান; এ ৩টি বিষয় একাকার হয়ে গেছে। লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকাশনার ৩০ বছর পূর্ণ করে অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে। লক্ষ্মীপুর বার্তা সংগ্রামের প্রতীক, অধিকার আদায়ে, ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠায় অবিচল। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষকে জাগিয়ে দেয়ার হাতিয়ার হলো লক্ষ্মীপুর বার্তা। আজকের আয়োজন জন্মভূমি, জন্মস্থানের ঋণ পরিশোধের আয়োজন। এ আয়োজনের মাধ্যমে যদি ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে সমাজসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করা যায়, তাহলে আজকের আয়োজন সার্থক হবে। লক্ষ্মীপুর বার্তা জনগণের সুখ-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে আছে। বিভিন্ন সমাজসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে, প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। প্রবাসীদের সাথে স্থানীয়দের যোগাযোগের সেতুবন্ধন রচনা করে চলেছে লক্ষ্মীপুর বার্তা। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র অফিস হলো আলোয় আলোয় সম্মিলনের স্থান।
এডভোকেট কিবরিয়া বলেন যাঁরা সংবর্ধিত হলেন, তাঁরা স্বীকৃতির জন্য কাজ করেননি; তাঁরা নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেঃ জেঃ (অবঃ) অধ্যাপক ডাঃ মতিউর রহমান স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষায় অনন্য ব্যক্তিত্ব, বিশেষ অতিথি আনোয়ার খান বিশাল হৃদয়ের মানুষ।
এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি এ প্রতিষ্ঠানে ইংলিশ কোর্স করাই। এছাড়াও এখানে ছাত্র-যুবকদের নানাধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় ব্যাপক আকারে এসব কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ঢাকার উত্তরায় ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার ভবন নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। যেখানে ক্যাম্পাস এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা একত্রে দেশের উন্নয়নের নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এসব কার্যক্রমে আপনাদের উদার সহযোগিতা কামনা করছি।
মোঃ নুরুল হুদা
লক্ষ্মীপুরের সন্তান মোঃ নুরুল হুদা, যিনি শিশুদেরকে আনন্দের মধ্য দিয়ে পাঠদানের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা’র আজকের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত করবে।
ড. এম হেলাল
অনুষ্ঠানের সভাপতি, লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল বলেন, শীর্ষ সমাজসেবীগণকে এরূপ সম্মাননা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্য হলো জন্ম-এলাকার কল্যাণ-চিন্তায় ও কর্মে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা। শীর্ষ সমাজসেবী সম্মাননা কর্মসূচির মূলমন্ত্র হৃদয়ঙ্গম করে এখন প্রবাসীরাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নিজ নিজ এলাকায় সমাজসেবা কার্যক্রম করতে। তারা শেকড়ের টান অনুভব করছেন। তাই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আরেকটি সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি লক্ষ্মীপুরের অহংকার দেশের গর্ব। তাঁরা শুধু নিজ জন্ম-এলাকার উন্নয়নেই কাজ করছেন না, সমগ্র দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। আজকের অনুষ্ঠানে সানুগ্রহ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা লক্ষ্মীপুরবাসীদের প্রতি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির অকুন্ঠ ভালোবাসা দেখিয়েছেন; জন্মস্থানের উন্নয়ন ও কল্যাণসেবায় আমাদের সবার দায়িত্ববোধ এবং লক্ষ্মীপুর জেলার উন্নয়ন-অগ্রগতিতে নতুন স্পন্দনের সূচনা করেছেন তাঁরা। তাঁদের মতো দেশপ্রেমী-নিষ্ঠাবান-প্রাজ্ঞ ও প্রতিভাদীপ্ত ব্যক্তিত্বদেরকে পেয়ে আমরা আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত।
ড. এম হেলাল বলেন যাঁরা সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁরা সবাই নিজ নিজ অঙ্গনে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, জন্ম-এলাকার উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ। এলাকার উন্নয়নে তাঁদের যে অবদান, তা শুধু সম্মাননা-স্বীকৃতি দিয়ে পরিমাপ্য নয়; রাজনীতি-নিরপেক্ষতা কিংবা গোষ্ঠী-নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আমাদের আয়োজনের উদ্দেশ্য এসব সমাজসেবীকে তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁদের অনুসরণে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করা।
সম্মাননা গ্রহণকারীগণের প্রতিক্রিয়া প্রবীণ রাজনীতিবিদ খালেদ মোহাম্মদ আলী
মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি, ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ও স্বাধিকার আন্দোলন নেতা সাবেক এমএলএ খালেদ মোহাম্মদ আলী বলেন আমাকে সমাজসেবী সম্মাননা দেয়ায় লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন এর প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন আমি যখন হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র, তখনই লক্ষ্মীপুরকে জেলা করার স্বপ্ন আমার মাথায় আসে। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধুকে এ ব্যাপারে বিশেষ অনুরোধ করেছি। বঙ্গবন্ধু বলেছেন লক্ষ্মীপুর সাব-ডিভিশন হবে। একটি বিশেষ মহল আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করেছিল। কিন্তু আমি দমে যাইনি। লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রথম বিদ্যুৎ আনা, বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা স্থাপন, সড়ক উন্নয়নে আমি জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছি। বাংলাদেশের সংবিধানের আমি অন্যতম স্বাক্ষরদাতা। আমরা এমন একটি জেলার সন্তান যার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি।
তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয়েও আমরা কাজ করেছি। উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত বুজর্গ আলেম মাওলানা কেরামত আলী সাহেব লক্ষ্মীপুরে আসলে আমাদের মেহমান হতেন, সেখান থেকে তিনি ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন মুরীদদের নিয়ে। ১৮৯৬ সালে লক্ষ্মীপুরে তাঁর নামে কেরামাতিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেকালে শিক্ষাবিস্তারে আমাদের পরিবারের অবদান ছিল অনেক।
শিল্পপতি ও শিক্ষাদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
এ জে গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আমাকে সম্মাননা দেয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ড. হেলালকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সম্মাননা কিংবা পুরস্কারের জন্য কাজ করিনি, ভেতরের তাগিদেই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করেছি। বৃহত্তর নোয়াখালী, বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের জন্য আজীবন কাজ করে যাব।
মেধাবী ও চৌকস সচিব এ কে এম এনায়েত উল্লাহ
সরকারের মেধাবী ও চৌকস সচিব, ডায়নামিক ও কল্যাণকামী শিক্ষাদ্যোক্তা, উদারপ্রাণ সমাজসেবী, আধুনিক ধ্যান-ধারণার মূর্ত প্রতীক এ কে এম এনায়েত উল্লাহ লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন শীর্ষ সমাজসেবীদের সম্মাননা দিয়ে নিজেরাই সম্মানিত হয়েছেন। আমাকে আজ সম্মাননা দেয়া হয়েছে, কিন্তু আমার এখনও অনেক কাজ করার বাকি আছে। এ সম্মাননা এলাকার উন্নয়নের কাজ করার জন্য আমার দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। লক্ষ্মীপুর বার্তাকে বিভিন্ন সময়ে সাহায্য করেছি; লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র এর আওতায় ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার নির্মাণে আমি সহযোগিতা করতে চাই, এরূপ সহযোগিতায় নিজেকে ধন্য মনে করব।
শিক্ষাদ্যোক্তা, সমাজসেবী রোটারিয়ান রফিকুল হায়দার চৌধুরী (পি এইচএফ)
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সহায়, শিক্ষাদ্যোক্তা, সমাজসেবী শিল্পপতি, প্যাকস স্টোন লিঃ এর চেয়ারম্যান রোটারিয়ান মোঃ রফিকুল হায়দার চৌধুরী (পিএইচএফ) বলেন বহু ত্যাগ-তিতিক্ষায় সুদীর্ঘ ৩০ বছর থেকে ড. হেলাল লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকাশ এবং সম্পাদনা করে এ পত্রিকাকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। পত্রিকা প্রকাশনা ছাড়াও তিনি ছাত্র-যুব উন্নয়নে নানা কল্যাণ-কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, আমাদের পরিবার শিক্ষানুরাগী পরিবার। আমার শাশুড়ী অজপাড়াগাঁয়ে বাড়ির পাশে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমার দাদা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন; স্কুল- মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। আমার ১১ তলা ভবনের ভাড়ার সব টাকাই আমার স্ত্রী জনহিতকর কাজে ব্যয় করেন। আমার উদ্যোগে এলাকায় একটা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। তিনি বলেন শিক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন হবে না, এটা আমাদের বুঝতে হবে। প্রকৃত শিক্ষার অভাবে যুব সমাজ ভুলপথে চলছে, জঙ্গিবাদে নাম লেখাচ্ছে। কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, মেধা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে ছাত্র-তরুণদের প্রকৃত শিক্ষা দিতে হবে। তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন আমি, আমার স্ত্রী ও ৩ মেয়ে লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক সদস্য হবো।
শিক্ষাদ্যোক্তা বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়া
শিক্ষাদ্যোক্তা, সমাজসেবী, কর্মচারী ইউনিয়নের সুদক্ষ নেতা, বর্ণিল গুণাবলির ব্যক্তিত্ব, সোনালী এন্টারপ্রাইজ এর এমডি মোঃ বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কর্মজীবনের ৪০ বছর কাটিয়েছি মিল্কভিটায়। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিবেদিত থেকেছি। দেশে বর্তমানে উন্নত জাতের গাভী ২০/৩০ লিটার দুধ দেয়। দুধালো মহিষ দৈনিক আরও বেশি পরিমাণ দুধ দেয়। আমরা ভারত থেকে গাভী বা স্ত্রী-মহিষ আনয়নের ব্যবস্থা করছি। মিল্কভিটার উন্নয়নে আমার প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। বিভিন্ন স্থানে এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের দুধের চাহিদা অনেকটা পূরণ করেছে মিল্কভিটা। এর দেখাদেখি কিছু প্রাইভেট দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বেল্লাল ভূঁইয়া আরও বলেন, শিক্ষার প্রতি আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। লক্ষ্মীপুরে বেশ ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। রায়পুরের ৬০% মেয়ে এখন পড়ালেখা করছে, এটি একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে মা-বাবার কবরের পাশে একটি কওমী মাদ্রাসা স্থাপন করার। এভাবে সমাজসেবায় আমি নিরলস কাজ করে যেতে চাই।
প্রতিবেদনঃ মোহাম্মদ মোস্তফা ও মনিরুজ্জামান