Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থান

নোয়াখালি জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত দেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি জেলা। নোয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে- কল্যান্দি জমিদার বাড়ি, গান্ধি আশ্রম, নিঝুম দ্বীপ, বজরা শাহী মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, মহাত্মা গান্ধী জাদুঘর, মাইজদী কোর্ট বিল্ডিং দীঘি, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, স্বর্ণদ্বীপ উল্লেখযোগ্য।

গান্ধী আশ্রম
গান্ধী আশ্রম নোয়াখালী জেলার মাইজদী কোর্ট থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারের কাছে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। প্রয়াত জমিদার ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে স্থাপিত গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি সেবামূলক সংগঠন হিসেবে সারা দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস সমাজ ব্যবস্থার ধারণাকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে ২০০০ সালের ২ অক্টোবর গান্ধী আশ্রমের মূল ভবনে গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। গান্ধীর বিভিন্ন দুর্লভ ছবি, বই, ব্যবহার্য জিনিস এবং তাঁর বৈচিত্র্যময় কর্মজীবন যে কারো মনোজগৎ নাড়িয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪৬ সালের শেষের দিকে শুরু হাওয়া ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প নোয়াখালীতেও ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৬ সালের ৭ নভেম্বর শান্তি মিশনের দূত হয়ে অহিংস আন্দোলনের জনক মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনে পদার্পন করেন। সাম্প্রদায়িক মনোভাব দূর করার উদ্দেশ্যে ঘুরতে ঘুরতে ১৯৪৭ সালের ২৯ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধী জয়াগ গ্রামে এসে পৌঁছান। আর সেদিন নোয়াখালী জেলার প্রথম ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষ তাঁর সমস্ত সম্পত্তি গান্ধীজির আদর্শ প্রচার ও স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আম্বিকা কালিগঙ্গা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং গান্ধী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালে ট্রাস্টের নাম পরিবর্তন করে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট রাখা হয়।

নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক
নোয়াখালী জেলার ধর্মপুর গ্রামে প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক গড়ে তোলা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কে সকল বয়সী দর্শনার্থীদের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অবস্থিত নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক অত্র জেলার সর্ববৃহৎ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে সর্বমহলে অত্যন্ত সুপরিচিত। নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্কের আকর্ষণীয় রাইডের মধ্যে রয়েছে সুইং চেয়ার, প্যাডেল বোট, হেলিকপ্টার, সোয়ান বোট, মেরি গো রাউন্ড, কিডস ট্রেন, ফ্যামেলি ট্রেন, ফেরিস হুইল, বাম্পার কার এবং নাগরদোলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আরও আছে ঝর্ণা, সবুজে ঢাকা পাহাড়, লেক, সুইমিংপুল, কার পার্কিং, পিকনিক এবং নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিট হতে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্কে প্রবেশ টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ১৫০ টাকা। এছাড়া পার্কে ৩ ধরণের পিকনিক প্যাকেজ এবং ১ টি ফ্যামিলি প্যাকেজ চালু রয়েছে।

নিঝুম দ্বীপ
নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত বঙ্গপসাগরের ছোট্ট একটি দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০ একর আয়তনের এই দ্বীপটি কামলার চর, বল্লার চর, চর ওসমান ও চর মুরি নামের চারটি দ্বীপ ও কয়েকটি চরের সমন্বয়ে গঠিত। শীতকালে নিঝুম দ্বীপে সরালি, জিরিয়া, লেনজা, পিয়ং, রাঙ্গামুড়ি, চখাচখি, ভূতিহাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, বাটান, জিরিয়া, গুলিন্দা, গাংচিল, কাস্তেচরা, পেলিক্যান ইত্যাদি হাজারো অতিথি পাখির আগমন ঘটে। স্থানীয় পাখির মধ্যে চোখে পড়ে সামুদ্রিক ঈগল, বক শঙ্খচিল। এছাড়া দ্বীপে রয়েছে হরিণ, বন্য শূকর, শেয়াল, বানর এবং নানা রকম সাপ। নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। পাখি বা হরিণ দেখতে ভোরে উঠে স্থানীয় গাইডের সাহায্য নিতে পারেন। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোথাও একসাথে এত চিত্রা হরিণ দেখা যায় না। আর পাখি দেখতে চাইলে পার্শ্ববর্তী দ্বীপ কবিরাজের চর ও দমার চর উত্তম জায়গা। নিঝুম দ্বীপে দেখা মিলে প্রায় ৩৫ প্রজাতির বিভিন্ন পাখির।

নিঝুম দ্বীপ এর দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কবিরাজের চরের কাছে চৌধুরীর খাল দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলেই হরিণের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ট্রলার রিজার্ভ নিলে মাঝিই আপনাদের হরিণ দেখিয়ে আনবে। ১০-১৫ জনের জন্য ট্রলার ভাড়া করতে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা লাগবে। সন্ধ্যায় কবিরাজের চরে সূর্যাস্থের সাথে হাজার মহিষের পাল আপনার দৃষ্টি কাড়বে। আর কমলার দ্বীপে কমলার খালে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে তাজা ইলিশ কিনতে পারেন। নিঝুম দ্বীপে স্থানীয় ছোট ছোট ছেলেরা গাইডের কাজ করে সকাল বেলায় এদের সাথে নিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের হরিণ দেখতে পাবেন সহজেই। নামার বাজার থেকে নামা বাজার সি বীচ হেঁটে যেতে ১০ মিনিট সময় লাগে। নামা বাজার সি বীচ থেকে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্ত দেখা ছাড়াও বারবিকিউ করতে পারবেন।