Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোয়াখাইল্যার নালিশ

আপা, আমগো সেলাম ও শুভেচ্ছা নিয়েন। দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের মোবারকবাদ ও পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানাই পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে আন্নে বইলছেন, “আইজ আবাহনের দিন। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী এই গান গাই আইজ আমরা আবাহন কইরবো নতুন বছরকে। একইসঙ্গে শুরু অইছে মুসলমানদের পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। আমি হগল ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে পবিত্র মাহে রমজানের মোবারকবাদ জানাইতেছি।

পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। আবহমানকাল ধরি বাংলার গ্রাম-গঞ্জে, আনাচে-কানাচে এই উৎসব পালিত হই আইসতেছে। গ্রামীণ মেলা, হালখাতা, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন ছিল বর্ষবরণের মূল অনুষঙ্গ। ব্যবসায়ীরা আগের বছরের দেনা-পাওনা আদায়ের জইন্য আয়োজন কইরতেন হালখাতা উৎসবের। গ্রামীণ পরিবারগুলো মেলা থাকি সারা বছরের জন্য প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র কিনি রাইখতেন। গৃহস্থ বাড়িতে রান্না অইতো সাধ্যমতো উন্নতমানের খাবারের। করোনার এইসময় সবাইকে ঘরোয়া পরিবেশে বৈশাখ পালনের আহ্বান জানাই আন্নে বইলছেন, ‘গত বছরের মতো এ বছরও আমরা বাইরে কোনো অনুষ্ঠান কইরতে হাইরতেছি ন’। হারাদ্যাশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হাইনছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের করোনাভাইরাস আরও মরণঘাতী হই আবির্ভূত অইছে।

করোনাভাইরাসের টিকা লই আন্নে বইলছেন, পর্যায়ক্রমে দ্যাশের সব মাইনষেরে টিকার আওতায় আনার হগল প্রস্তুতি সরকার গ্রহণ কইরছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রবল আকার ধারণ কইরতেছে, তাই লকডাউন দি’ মাইনষের চলাচলে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অইছে। কেননা, আন্নেরা দেইখছেন কোনোভাবেই সংক্রমণ ঠেকানো যাইতেছে ন’। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাই আবারও লকডাউনসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিতে অইতেছে। এর ফলে অনেকেরই জীবন জীবিকায় অসুবিধা অইবো। কিন্তু মনে রাইখতে অইবো যে, মানুষের জীবন সবচেয়ে আগে। বাঁচি থাইকলে আবার আমরা সব গুছাই লয়ন যাইবো। গতবছর একটানা ৬২দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ করা অইছিলো আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি এহনোও খুলি দেওন যায় ন’। স্বাভাবিক অয় ন’ বিদ্যাশের সঙ্গে চলাচল। মাইনষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি অর্থনীতি, জীবন-জীবিকা যাতে সম্পূর্ণরূপে ভাঙ্গি ন’ হড়ে সেইদিকে আমরা কঠোর দৃষ্টি রাইখতেছি। গত বছরে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ ও প্রণোদনা প্যাকেজের কথা উল্লেখ করি আন্নে বইলছেন, প্রায় আড়াই কোটি মাইনষেরে বিভিন্ন সরকারি সহায়তার আওতায় আনা অইছে। তাই দ্যাশের মাইনষের শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। সরকার সবসময় দ্যাশের মাইনষের পাশেই রইছে। দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর দরিদ্র নিম্নবিত্ত মানুষের সহায়তায় কার্যক্রম গ্রহণ কইরতে আমরা সচেষ্ট আছি। দ্যাশের পল্লী অঞ্চলে কর্মসৃজনের জন্য ৮০৭ কোটি এবং রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ৬৭২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া অইছে, যা থাকি ১ কোটি ২৪ লাখেরও বেশি নিম্নবিত্ত পরিবার উপকৃত অইবো। ইতোমধ্যেই ৫৬ লাখেরও বেশি মানুষের প্রথম ডোজ টিকা দেয়া সম্পন্ন অইছে। আমরা পর্যায়ক্রমে দ্যাশের হগল মাইনসেরে টিকার আওতায় লই আইসবো। আমগো সেই প্রস্তুতি রইছে। যদিও টিকা দিলেই সুরক্ষিত হবার নিশ্চয়তা নাই বলি বিশেষজ্ঞরা জানাইছেন। তাই টিকা লওয়ার হরেও স্বাস্থ্যবিধি মানি চইলতে অইবো। প্রতিটি জেলায় করোনাভাইরাস রোগীর চিকিৎসা সুবিধার আওতা বৃদ্ধি করা অইছে।

বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালগুলাতে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া অইছে। বিদ্যমান আইসিইউ সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা অইতেছে। এরপরেও হগলরে সাবধান হওয়ার আহবান জানাই আন্নে বইলছেন- নিজের, পরিবারের সদস্যদের ও প্রতিবেশীদের সুরক্ষার দায়িত্ব প্রত্যেকের। সে কারণেই ভিড় এড়াই চইলতে অইবো ও বাইরে বাইর অইলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার কইরতে অইবো। হগলেই স্বাস্থ্যবিধি মানি চইললে এই ভয়াবহ মহামারি আমরা নিয়ন্ত্রণে রাইখতে সক্ষম অইতে হারি। আন্নের কতা দ্যাশের মাইনষে জানে, বোঝে; কিন্তু মানে ন’। দ্যাশের মাইনষেরে এই হগল ভালো ভালো কতা মানাইতে অইবো। এর লাই কঠোর লকডাউনের ব্যবস্থা কইরতে অইবো। আন্নের ডাকে হারা দি’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের দ্যাশে আইসছেন। আন্নের সাথে ফলপ্রসূ বৈঠক কইরছেন। এতে আন্নের বিরোধীগো মাথা খারাপ অই গেছে। তারা হিছন থাকি হেফাজতরে লেলাই দিছে। হেফাজত আন্নেরে আর আন্নের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করণের লাই নানারহম চেষ্টা কইরতেছে। আন্নেরে এগোরে লই খুব সাবধান থাইকতে অইবো। করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের লকডাউনে নিম্ন আয়ের মাইনষের জীবন ও জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা আন্নেরে কইরতে অইবো। সেই সাথে মধ্যবিত্ত মাইনষেও য্যান প্রণোদনা পায়, সেইদিহেও আন্নেরে সুদৃষ্টি দেওনের লাই বিশেষভাবে অনুরোধ কইরতেছি। গতবারে সাধারণ মানুষ আন্নের প্রণোদনা ঠিকমতো হায় ন’। এইবারে যেন প্রণোদনা আর লুট অই যাইতো ন’ হারে সেইদিহেও খেয়াল রাইখবার লাই আন্নেরে বিনীত অনুরোধ করি। দ্যাশের হগল মাইনসে যেন আন্নের প্রণোদনা পায়, বিশেষ করি সত্যিকারের অসহায় নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত মানুষ যাতে আন্নের প্রণোদনা পায়, হেইডা আন্নে সুনিশ্চিত কইরবেন বলি আশা করি। এবারে বৃহত্তর নোয়াখালীর আঙ্গিকে কিছু কথা বইলতাম চাই। বৃহত্তর নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে প্রতিবছর বর্ষামৌসুমে নদীভাঙ্গন ভয়ংকর আকার ধারণ করে। বিশেষ করি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর ও রামগতিতে বর্ষামৌসুমে প্রতিবছর মেঘনার ভাঙ্গনে নদীপাড়ের বিস্তৃর্ণ এলাকা নদীগর্ভে তলাই যায়। এহন যেহেতু শুকনা মৌসুম, তাই এহনই নদী ড্রেজিং করণের উপযুক্ত সময়। অহন নদী ড্রেজিং কইরলে খরচও অনেক কম পইড়বো। কথায় আছে, ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশফোঁড়’। তাই বৃহত্তর নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে মেঘনার ভাঙ্গন রোধে অহন এই শুকনা মৌসুমেই ড্রেজিং করণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সদয় দৃষ্টি দেওনের লাই আন্নেরে বিনীত অনুরোধ করি। আইজ ইয়ানে শেষ কইরতেছি; আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু।

-সাইফুল হক