date
cover
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
মফস্বল সংবাদ

ফেনীতে সাবরেজিস্ট্রার সঙ্কট
ফেনীর ৬ উপজেলার ৭টি সাবরেজিস্ট্রি অফিস চলছে দুই কর্মকর্তা দিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করে গত বছর ৩৭ হাজার দলিল রেজিস্ট্রি হয় এসব অফিসে। বছরে দলিল রেজিস্ট্রি করে সরকার রাজস্ব আয় করেছে ৪৪ কোটি ৪৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬শ’ টাকা। সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের জুন থেকে ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ১শ’ ১৭টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলো হলো ফেনী সদর, দাগনভূঞা, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, লেমুয়া ও মতিগঞ্জ। এসব অফিসে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক রয়েছে ২৯৬ জন। এক্সটা মোহরার ১০৬ জন। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল থেকে স্ট্যাম্প মাসুলসহ আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণ ১৯ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪শ’ ৭ টাকা ৭৮ পয়সা, তল্লাশি ও নকল ফিস বাবদ রাজস্ব আয় ৮ লাখ ৫২ হাজার ৬শ’ ৩৮ টাকা ৫০ পয়সা।একই সময়ে স্থানীয় সরকার কর বাবদ আয় করেছে ৪০ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার ৬শ’ ৩০ টাকা ৬০ পয়সা। সারাদেশে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৫০ জন, শূন্যপদ রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক। কোন সরকারই এসব শূন্য পদে নিয়োগের পদক্ষেপ নেয় না। একজন সাবরেজিস্ট্রারকে কয়েকটি অফিসে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সপ্তাহে ৫ দিন নিয়মিত সাবরেজিস্ট্রার থাকলে রেজিস্ট্রি খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব। সাবরেজিস্ট্রার স্বল্পতার কারণে ক্ষেত্রমতে কোন কোন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে পোস্টিং নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য হয়ে থাকে। ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় স্বদেশ চন্দ্র নামে একজন সাবরেজিস্ট্রার কর্মরত থাকলেও তিনি সপ্তাহের রোববার ও সোমবার দাগনভূঞায়, মঙ্গলবার ছাগলনাইয়া, বুধবার ফুলগাজী ও বৃহস্পতিবার পরশুরামে অফিস করেন। নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের সাবরেজিস্ট্রার হায়দারুজ্জামান রোববার ফেনী সদর, সোমবার মতিগঞ্জ ও মঙ্গলবার লেমুয়ায় অফিস চালাচ্ছেন জোড়াতালি দিয়ে। জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালে ফেনী জেলা রেজিস্ট্রি অফিস স্থাপিত হয়। নিজস্ব বা সরকারি ভবন না থাকায় ভাড়া করা অফিসে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। জেলা রেকর্ড রুমটিও ভাড়া করা। ৭টি সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও ১টি সদর মহাফেজখানায় কর্মরত কর্মচারী ৪৮ জন। এসব অফিসে চেয়ার, টেবিল, আলমারি সংকট রয়েছে। মহিলা কর্মচারীদের আলাদা বসার কোন ব্যবস্থা নেই। বালামের অভাবে কাজ বন্ধ থাকে প্রায় সময়। এসব অফিসের বিপরীতে মাসিক ভাড়া দিতে হয় ১৯ হাজার ৯৫ টাকা। শহরতলির শিবপুর মৌজার ৫০ শতক ভূমিতে রেজিস্ট্রি ভবনের নির্মাণ কাজ  শেষ পর্যায়ে এলে শামছুন নাহার বাদী হয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। কুরফুলের নেছা বাদী হয়ে অন্য একটি মামলা দায়ের করেন। নানা জটিলতায় মামলা দুটির শুনানি শেষে ভবন নির্মাণ স্থগিতের নির্দেশ দেয়ায় তাও বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ১৯৭৬ সালের আগের ভূমি রেকর্ড নোয়াখালীতে স্থানান্তরিত হওয়ায় ১৯৮৮ সালে ফেনীর মহুকুমা থেকে জেলা শহরে রূপান্তরিত হওয়ার পরও আগের সব রেকর্ডপত্র নিয়ে নোয়াখালীতে টিনের ঘরে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন ফেনী থেকে শ’ শ’ মানুষ নোয়াখালীতে দলিলের নকলের জন্য গিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে নিঃশেষ হচ্ছেন। দলিলের সত্যায়িত প্রতিলিপির জন্য মাসের পর মাস তল্লাশকারী ভেন্ডারদের পিছনে ঘুরতে হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর এসব জায়গায় সাবরেজিস্ট্রার পোস্টিং দেয়ার জন্য লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।

 

 

     
lbheading