সেনবাগে এক ইউনিয়নে তিন চেয়ারম্যান!
নোয়াখালীর সেনবাগের বীজবাগ ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ তিনজন নিজেদেরকে পরিষদের চেয়ারম্যান বলে দাবি করছেন। দুর্নীতির অভিযোগে অপসারিত হারুনুর রশীদের দাবি তিনিই ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত বৈধ চেয়ারম্যান। তার অপসারণকালীন দায়িত্বে থাকা সদস্য মোঃ ফখরুল ইসলামের দাবি আইনত তারই চেয়ারম্যান থাকার কথা। কিন্তু প্রশাসন তাকে বাদ দিয়ে আরেক সদস্য ছায়েদুল হককে নতুন করে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই অবস্থায় ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন যে, ইউনিয়নটির আসল চেয়ারম্যান কে?
জানা গেছে, বীজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ১১ জন সদস্য ২০০৫ সালের ২৩ মার্চ চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনাস্থা দিয়েছিলেন। এবিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যান হারুনকে তাঁর পদ থেকে প্রথমে সাময়িকভাবে, পরে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে। একই সময় পরিষদের মোঃ ফখরুল ইসলামকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান হারুন প্রথমে হাইকোর্টে, পরে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে রিট পিটিশন করেন। রিট পিটিশনের আলোকে মন্ত্রণালয়ের বহিষ্কারাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর হারুণকে তাঁর পদে পূনর্বহালের নির্দেশ দেয়া হয়। যার মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানোর পর ২০০৮ সালের ৮ জুলাই শেষ হয়।
এরপর গত ২৫ মার্চ পরিষদের সাতজন সদস্য ইউএনও’র কাছে চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে দায়িত্বপালনের লিখিত অভিযোগ করেন। ইউএনও বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৩ মে তাঁকে অপসারণ করে অস্থায়ী চেয়ারম্যান নিয়োগের নির্দেশ দেন। ইউএনও পরিষদের সদস্যদের ভোটাভুটির মাধ্যমে গত ২৮ মে সদস্য ছায়েদুল হককে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন।
এদিকে অপসারিত চেয়ারম্যান হারুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৭ জুলাই হাইকোর্ট ছায়েদুল হকের নিয়োগ স্থগিতের আদেশ দেন। এ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম অস্থায়ী চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম আপীল বিভাগে লীভ টু আপীল মামলা রুজু করেন। আদালত গত ১৩ জুলাই পিটিশনারকে নিয়মিত লীভ পিটিশন মামলা রুজু পূর্বক পক্ষদয়কে ছয় সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ মোতাবেক জেলা প্রশাসকের কার্যলয় থেকে গত ২৭ আগষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম নিয়মিত লীভ পিটিশন মামলা রুজু করেছেন কিনা এই মর্মে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর ইউএনও প্রতিবেদনে ফখরুল ইসলাম নিয়মিত লীভ পিটিশন মামলা রুজু করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
প্রথম অস্থায়ী চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম দাবি করেন তিনি পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে ২০০৫ সাল থেকে আদালতে মামলা পরিচালনা করে আসছেন। তাছাড়া ইউএনওর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনিই বীজবাগ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কিন্তু পরিষদের সব কাজই করছেন পরিষদের সদস্য ছায়েদুল হক।
চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ দাবি করেন, ইউএনও’র নিয়োগ করা অস্থায়ী চেয়ারম্যানের নিয়োগ আদালতে স্থগিত করায় তিনিই ওই ইউনিয়নের বৈধ নির্বাচিত চেয়ারম্যান। কিন্তু সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে তাঁকে দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং অস্থায়ী চেয়ারম্যান দিয়ে পরিষদ চালানো হচ্ছে।
অস্থায়ী চেয়ারম্যান ছায়েদুল হক জানান, তিনি এতসব বোঝেন না, পরিষদে ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন। এরপর ইউএনও তাকে নিয়োগ দিয়েছে। যতদিন লিখিত কিছু না পাবেন ততদিন তিনিই চেয়ারম্যান।
এসব বিষয়ে ইউএনও মোহম্মদ শামীম সোহেল জানান, তিনি যা করেছেন জেলা প্রশাসকের চিঠি এবং স্থানীয় সরকার ম্যানুয়েলের নির্দেশনার আলোকে করেছেন।
রামগতিবাসীর দুর্গতি শেষ হবে কবে?
লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম দুটি উপজেলা হলো রামগতি ও কমলনগর। গত ২০০৬ সালে রামগতি উপজেলাকে ভাগ করে কমলনগর উপজেলা নামে আরেকটি নতুন উপজেলা সৃষ্টি করা হয়। যার সীমানা হলো তোরাবগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণে করুণানগর পর্যন্ত। করুণানগর বাজার থেকে দক্ষিণে সমুদ্র পর্যন্ত সাবেক রামগতি রামগতিই রয়ে গেছে।
জনগণ নতুন উপজেলা পেলেও তারা কোন উন্নয়নমূলক সুবিধা পাননি। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি রামগতি ও কমলনগরবাসীর কপালে। বরঞ্চ ক্ষেত্র বিশেষে তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। কমলনগরবাসীর প্রশ্ন- নতুন উপজেলা আমাদের কি দিয়েছে? শুধু সরকারী অফিস আদালত বাড়লেই উন্নয়ন হয় না। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে রামগতিসহ নতুন উপজেলায় কোন উন্নয়নমূলক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ক নিয়ে অনেকবার লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ এই রামগতিবাসী বিভিন্ন সরকারের সময় প্রভাবশালী এমপিসহ মন্ত্রীত্ব পেয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তাঁরা তাঁদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিলেন। রামগতিবাসীর দুঃখ-দুর্দশা দেখার বা সমাধানের প্রয়োজন অনুভব করেননি। তাঁরা শুধু ভোট এলে ভোট ভিক্ষার জন্য ছুৃটে আসেন, ভোট শেষে তাঁরা রামগতিবাসীকে ভুলে যান।
রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কে বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবারই ঠিকাদাররা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। ৬ মাস কি ১ বছর যেতে না যেতেই রাস্তার বাকল উঠে যায়। কাংখিত সময়ে গন্তব্যে পৌছানো যায় না। ১ ঘন্টার পথ যেতে লেগে যায় দেড়-দু’ঘন্টা।
রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ করেও ঠিকমত বিল পেয়ে যায়। তারা রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়ককে একটি লাভজনক প্রজেক্ট হিসেবে জিয়িয়ে রেখেছে। কারণ, ভাল করে একবার কাজ করলেতো আর করা যাবে না। তাই তারা চান না এই সড়কের স্থায়ী উন্নয়ন হোক।
লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়ক একটি মডেল সড়ক হিসেবে জেলায় সুনাম কুড়িয়েছে। রায়পুর সড়কের গাড়ীতে চড়লে মনে হবে আপনি কোন বিমানে বসে আছেন। আর রামগতি সড়কের কোন গাড়িতে চড়লে মনে হবে আপনি গরুর গাড়ীতে করে কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজপাড়া-গাঁয়ের উচুঁ-নিচু রাস্তায় চলছেন। মনে প্রশ্ন জাগবে এটা কি বাংলাদেশের কোন সড়ক? এই দুই উপজেলায় উন্নয়ন কাঠামোতে এ বৈষম্য কেন?
রামগতিবাসী আ স ম আঃ রবকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিরোধীদলের প্রধান নেতা হিসেবে পেয়েছেন, পেয়েছেন বিভিন্ন সময় মন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু তিনি রামগতিবাসীকে কি দিয়েছেন তা আজ লাখো রামগতিবাসীর জিজ্ঞাসা। সি এস পি রব চৌধুরী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার খুব কাছের লোক। তিনিও এই আসন থেকে এম পি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু তিনিও রামগতিবাসীকে একটি আধুনিক সড়ক উপহার দিতে পারেননি। তার পর এলেন আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি বিগত জোট সরকারের সময় বিপুল ভোট পেয়ে রামগতি আসন থেকে এম পি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকট জনগণের অনেক আশা ছিল। তিনি অন্ততঃ লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ককে একটি আধুনিক সড়ক হিসেবে তৈরি করতে পারবেন রামগতিবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করতে। তিনি তাঁর সরকারের সময় পেরিয়ে এইবার আবার দ্বিতীয় বারের মত এম পি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তিনি বিরোধীদলের এম পি, তাই তিনি সড়কের উন্নয়নে কাজ করবেন এটা সাধারণভাবে আশা করা যায় না। তবে তার সময়ে রামগতি সড়কের যে কাজ হয়েছে সে সময় বিভিন্ন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ছিল। জোট সরকারের দুর্নীতির ফসল আজকের এই লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ক। সরকার আসে সরকার যায়, অথচ রামগতিবাসীর দুর্গতির অবসান হয় না। তারা কি একটি উন্নত সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাবে না? তাদের এই আশা কি পূরণ হবার মত নয়? রামগতি-কমলনগরবাসীর অপরাধ কোথায়?
-নূর মোহাম্মদ
চৌমুহনীর যানজটঃ ৮ জেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ
৬ রিট মামলার জালে সড়ক সম্প্রসারণ ॥ বাইপাস প্রকল্প হিমাগারে
নোয়াখালী জেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনীর যানজটে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আট জেলার যাত্রীদের। এ সড়কের যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত বাইপাস প্রকল্পও এখন হিমাগারে। সর্বশেষ প্রস্তাবিত ফোরলেন প্রকল্প বাস্তবায়নও চলছে ধীরগতিতে। সড়কের দু’পাশে ভূমি মালিকদের রিট মামলার কারণে সড়ক সম্প্রসারণেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও খুলনাসহ দক্ষিণের অন্যান্য জেলার যাত্রীদের স্বল্প সময়ে চলাচলের জন্য চৌমুহনী হয়েই যাতায়াত করতে হয়। এমনকি সুদূর অতীতে মিয়ানমার থেকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও-বেনাপোল যাতায়াতের প্রধান রুট ছিল এটি। বর্তমানে এ সড়কে যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীর ওপর দিয়ে যাওয়া সড়কটিতে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চৌমুহনী বাণিজ্যকেন্দ্রের সঙ্গে নৌপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব চাপই এখন সড়কের ওপর। এছাড়া ব্যবসা অনেক বাড়লেও বাড়েনি চৌমুহনী বাজারের আয়তন। সড়কও সঙ্কীর্ণ রয়ে গেছে। তদুপরি নোয়াখালী-লাকসাম রেললাইন চৌমুহনী বাজারের ওপর দিয়ে থাকায় রেলক্রসিংও যানজটের অন্যতম কারণ। স্থানীয়রা জানান, চৌমুহনীর প্রধান সড়কে ফুটপাত না থাকা, সড়কের দু’পাশ হকারদের দখলে থাকা, ওভারব্রিজ না থাকা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে চৌমুহনীর যানজট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যাত্রীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে বাসযোগে আড়াই ঘণ্টায় চৌমুহনী পৌঁছা সম্ভব হলেও অনেক সময় চৌমুহনীর যানজটেই একঘণ্টা লেগে যায়। এছাড়া স্থানীয় বাসগুলো যাত্রী নেয়ার জন্য চৌমুহনী বাজার অতিক্রম করে অনেক ধীরগতিতে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য চৌমুহনী এক বিড়ম্বনার স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। জানা যায়, চৌমুহনীর এ যানজট নিরসনে ১৯৯২-৯৩ সালে প্রথম সড়ক ও জনপথ বিভাগ পূর্ববাজার সিরাজ মিয়ার পুল থেকে বাজারের দক্ষিণ পাশ হয়ে চৌরাস্তা মাইজদী সড়ক ক্রস করে কেন্দুরবাগ পর্যন্ত বাইপাস সড়ক প্রস্তাব করে। কিন্তু বাজারের দক্ষিণ দিক দিয়ে বাইপাস স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পছন্দ না হওয়ায় প্রস্তাবনা বেশিদূর অগ্রসর হয়নি। এমনকি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বাইপাস সড়ক তাদের ব্যবসার প্রতিকূলে যাবে ভেবে বিরোধিতা করে। ২০০৪-০৫ সালে আবার বাইপাস প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া এবং তা একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু তা অর্থ বরাদ্দ পায়নি। ২০০৭ সালে প্রকল্পটি স্থগিত রেখে সড়কটিকে ফোরলেন করার উদ্যোগ নেয় সড়ক বিভাগ। সড়কটি ৭০ ফুট চওড়া করতে দু’পাশের জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সড়কটি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হলেও অধিগ্রহণকৃত ভূমি মালিকদের ৬ জন এর বিরুদ্ধে রিট মামলা করেন। এতে হাইকোর্টের ৬টি পৃথক স্থগিতাদেশ রয়েছে সড়কটির ওপর। তবে যেসব জায়গা সরকারের মালিকানাধীন সে অংশে সম্পসারণ কাজ চলছে। জানা যায়, অস্থায়ী লিজ নিয়ে খালের ওপর দোকান করেছেন এমন দখলকারীও আছেন, যারা মামলা করে সম্প্রসারণ কাজ আটকে রেখেছেন। এ যানজট সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম বলেন, তিনি মেয়র থাকাকালে বাইপাস প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তা সফল হয়নি। তবে সড়ক যতই সম্প্রসারণ করা হোক না কেনো, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির যানজটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে বাইপাস বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে চৌমুহনীতে ব্যবসা অনেক সম্প্রসারিত হলেও সড়ক সম্প্রসারণ না হওয়ায় সমস্যা প্রকট রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের অসতর্কতাও যানজট বৃদ্ধির জন্য দায়ী বলে তিনি মনে করেন। চৌমুহনীর যানজট কমাতে প্রধান সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি হকার্স মার্কেটের মধ্য দিয়ে গণিপুর, নরোত্তমপুর ও কলেজ সড়কে সংযোগ ব্রিজ করা জরুরি বলে মনে করেন চৌমুহনী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতির সভাপতি মাহবুবুল হক আজাদ। এছাড়া রাস্তা পারাপারে ফুটওভার তৈরি জরুরি বলে তিনি মনে করেন। চৌমুহনী বাইপাস প্রকল্প ও সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, বাইপাস প্রকল্প আপাতত স্থগিত আছে। নানা বাধা থাকলেও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। মামলা নিষ্পত্তি হলে অথবা অধিগ্রহণের বিষয়ে জমি মালিকরা সম্মত হলে প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১১ সালের মধ্যে চৌমুহনী সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব করতে চৌমুহনীর যানজট নিরসনে বাইপাস ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা জরুরি বলে স্থানীয় বিশিষ্টজনরা মনে করেন।
আহমেদ করিম