date
cover
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
মফস্বল সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে শীতকালীন সব্জি চাষে কৃষকরা ব্যস্ত
লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক হারে শীতকালীন সব্জি চাষে কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি বছর জেলায় তিন হাজার নয়’শ নিরানব্বই হেক্টরে সব্জি চাষে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় তেষট্টি হাজার ৯শ’ ৮৪ মে.টন। এর মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, লাউ, মূলা, লালশাক, পালংশাক, ধনিয়াপাতা, গাজর, বেগুন ও শিম। এর মধ্যে রামগতিতে ১৭শ’ ২০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮শ’ ৪০ হেক্টর, সদরে ৭শ’ ৬০ হেক্টর,  কমলনগরে ৩শ’ ৫৯ হেক্টর ও   রায়পুর উপজেলায় ৩শ‘ ২০ হেক্টর জমিতে সব্জি আবাদের লক্ষ্যমাত্রাধার্য করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সব্জি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। সম্প্রতি একাধিকবার বৃষ্টি হওয়ায় সব্জি উৎপাদন অনেক বেশি হবে বলে কৃষকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সব্জি চাষে কৃষকরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং পোকামাকড় দমনে আইসিএমসহ স্থানীয় পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা অর্জন করছে। বর্তমানে সব্জি চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবজি চাষ করে এ অঞ্চলে অনেক কৃষক ইতোমধ্যে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। সদর উপজেলার চরউভুতি গ্রামের কৃষক মোশারেফ তিন একর জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, লালশাক, মূলা, ধনিয়ার আবাদে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এতে তার পাঁচ লাখ টাকারও বেশি সব্জি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী। রামগতি উপজেলা শিক্ষাগ্রামের রুহুল আমিন ৪০ শতাংশ জমিতে লাউ -এর আবাদে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, এতে তার ৩০ হাজার টাকারও বেশি বিক্রি হবে বলে আশাবাদী। এভাবে সব্জি আবাদে ব্যাপক সাফল্যের কথা জানান, শিক্ষাগ্রামের আশরাফ আলী, সদর উপজেলার আব্দুর রহিম, মুসলিম মিয়াসহ আরো অনেকে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার মজুমদার জানান, চলতি বছর ৭৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শাক-সব্জির আবাদ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় ১২ হাজার ১শ’ ৬০ মে.টন সব্জি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, জেলার ৫টি উপজেলায় শীতকালীন শাক-সব্জি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় ৩ হাজার ৯শ’ ৯৯ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এবং পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কম হওয়ায় চলতি বছর সব্জি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এ জেলার চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন জেলায় এ সব্জি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে খুবই লাভবান হচ্ছে।

 

 

     
lbheading