ব্যবসা-সমৃদ্ধ সেবারহাট বাজারের নানা সমস্যা
সেনবাগ উপজেলায় সেবারহাট বাজার পাইকারি ব্যবসার ক্ষেত্রে ফেনী-নোয়াখালীর মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছে সুপরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ সুনাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে টিনের ব্যবসা, চাল ও আখের ব্যবসা উল্লেখযোগ্য। এ বাজারে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ এবং সেনবাগের বিভিন্ন হাটবাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে কেনার জন্য চৌমুহনী বাজারের পরে সেবারহাট বাজারকেই বেছে নেয়। কারণ এ বাজারটিতে অন্যান্য বাজার থেকে পাইকারি ও খুচরা মালামালে সন্তোষজনকভাবে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ মালামাল ক্রয় করতে পারে। কিন্তু এই প্রসিদ্ধ বাজারটি নানা সমস্যার কারণে ব্যবসা অনুকূল পরিবেশ হারাচ্ছে।
এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি টয়লেট থাকলেও সেটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাজারটিতে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং কাদা-মাটিতে সয়লাব হয়ে যায়। বাজারে আসা-যাওয়ার সময় মানুষ খুবই খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ে। রিকশা-টেম্পোর অবস্থান থাকে যত্রতত্র। প্রধান সড়কের ওপর তরকারি বাজার বসিয়ে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি করা হয়। ফলে ফেনী-মাইজদী মহাসড়কে প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় মানুষ। গত একযুগে এই সেবারহাট বাজারে দুর্ঘটনায় মারা যায় অন্তত ৩০ জন মানুষ। এখানে নিয়ম-শৃঙ্খলা তেমন একটা দেখা যায় না। অথচ একটি বাজার কমিটি রয়েছে। সভাপতি-সেক্রেটারি কিংবা সদস্যরা তাদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাজারের সৌন্দর্যবর্ধনে কিংবা উন্নয়নে কোনো সময় ব্যয় ও উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। বাংলা নববর্ষ এলে ৫ দিনব্যাপী এই বাজারে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াখালীর বিভিন্ন অঞ্চলসহ ফেনীর লোকজনও বৈশাখী মেলা দেখার জন্য এখানে আসে। শত বছর ধরে এই বৈশাখী মেলা সেবারহাট বাজার নামে ফেনী- নোয়াখালীতে খুবই পরিচিত। এ বাজারে প্রায় ৫ শতাধিক পাইকারি ও খুচরা দোকান রয়েছে। গৃহসামগ্রী বিক্রির জন্য ধীরে ধীরে বিখ্যাত হয়ে উঠছে।
-আলমগীর দুখান
|