date
cover
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
মফস্বল সংবাদ

রায়পুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কালু মিয়ার স্ত্রীর আকুতি॥ ৩৯ বছরেও কেউ খবর নেয়নি
স্বাধীনতার ৩৯ বছর অতিবাহিত হতে চললেও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ আমিন উল্লাহ ওরফে কালু মিয়ার পরিবারের সদস্যদের কেউ খোঁজ নেয়নি। ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর রাজাকাররা অমানবিক নির্যাতন করে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে পাটের বস্তা ভরে বড় বড় পাথর বেঁধে ডাকাতিয়া নদীতে ফেলে দেয়। তার ৩-৪ দিন পর জেলেদের মাছ ধরার জালে শহীদ কালু মিয়ার লাশ আটকা পড়ে। পববর্তী সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ২ হাজার টাকা অনুদান দেয়। কিন্তু আজও স্বীকৃতি মেলেনি শহীদ ওই মুক্তিযোদ্ধার। এদিকে শহীদ মু্িক্তযোদ্ধা কালু মিয়ার স্ত্রী কুলছুমা খাতুন (৮২) বর্তমানে রোগ-শোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন। তার শেষ ইচ্ছা মৃত্যুক্ষণে যেন মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর স্বীকৃতি দেখে যেতে পারে। এ নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্য রায়পুর পৌরসভার সাবেক কমিশনার মোঃ সহিদ উল্লাহ ও ঢাকায় অবস্থানরত প্রজন্ম ৭১’ রায়পুর উপজেলা সংগঠক মামুনুর রশিদ ওই দিনের ঘটনার বর্ণনায় বলেন, ৭১’ এর ২৭ নভেম্বর সময়টি ছিল রমজান মাস। দিনটি ছিল শুক্রবার। ইফতারের আগে এক মুক্তিযোদ্ধার নামাযের জানাযা শেষে ইফতার নিয়ে বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসছিলেন তিনি। ওই সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংগঠনের স্থানীয় শীর্ষ নেতা রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্র কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার নজরুলের নির্দেশে আব্দুর রব ও আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একদল রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা কালু মিয়াকে হরিমোহন পালের দালানে স্থাপিত (বর্তমান রায়পুর পৌর ভূমি অফিস) রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে অমানবিক নির্যাতন করে গুরুতর আহত অবস্থায় পাটের বস্তা ভরে বড় বড় পাথর বেঁধে ডাকাতিয়া নদীতে ফেলে হত্যা করে। ৩-৪ দিন পর ৭-৮ কিলোমিটার দূরে ডাকাতিয়া নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়া শহীদ কালু মিয়ার লাশ খুঁজে পায়। আজও সেই পাথর কালের সাক্ষী হয়ে পড়ে আছে শহীদের কবরের পাশে।
তারা আরও জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সে সময় শহীদ পরিবারকে ২ হাজার টাকা অনুদান দেন। কিন্তু শহীদ তালিকায় এখনো তার নামটি ওঠেনি। অদ্যাবধি কেউ তাদের পরিবারের খোঁজখবরও নেয়নি। অথচ সহযোগীদের নিয়ে শ্রমে-ঘামে গড়ে ওঠা বিদ্যাপীঠ রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও রায়পুর মার্চ্চেন্টস্ একাডেমী দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
প্রতিবছর ২৭ নভেম্বর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আমিন উল্লাহ ওরফে কালু মিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ঢাকার উত্তরা ও রায়পুরে স্মরণসভা ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। এতে পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার বিশিষ্ট জনেরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন। তারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কালু মিয়াকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও রায়পুর পৌর শহরের একটি সড়ক তার নামে নামকরণের দাবি জানায়। এতে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে।
যোগাযোগ করা হলে রায়পুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব ডাঃ মঞ্জুরুল আলম বলেন, কালু মিয়াকে যথাযথ সম্মান প্রদানের চেষ্টা আমরাও করেছিলাম। তার ঘটনাটি গণহত্যার আওতায়। তারপরও আমাদের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উর্ধ্বতন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করে তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবো।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কালু মিয়ার স্ত্রী কুলছুমা খাতুন যেন মৃত্যুর আগে তার স্বামীর স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেন-এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

 

     
lbheading