মেঘনায় জলদস্যুদের কাছে জেলে সম্প্রদায় জিম্মি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে ইলিশের ভরা মৌসুমে জলদস্যু-ডাকাতদের উৎপাত বেড়ে যায়। এসব জলদস্যু প্রতিনিয়ত নদীতে জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে জাল-নৌকা ও মাছ লুট করে নিয়ে যায়। নদীতে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে দস্যুদের কবলে পড়ে জেলেদের দুঃস্বপ্ন নিয়ে খালি হাতে বাড়ীতে ফিরতে হয়। এদিকে মেঘনায় জেলেদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক নৌ-পুলিশ মোতায়েন ও টহলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা । সংশ্লিষ্ট স্ত্রূ জানায়, রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চর আবাবিল ও উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের প্্রায় ১০হাজার জেলে নদীতে মাছধরে জীবিকা নির্বাহ করে। মাছধরা ও বিক্রি করাই তাদের উপার্জনের একমাত্র পথ। কয়েক বছর ধরে নদীতে মাছ কম পাওয়ায় হারিয়ে গেছে জেলেদের সুদিন। তাদের জালে রূপালী ইলিশ ধরা না পড়লে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটায়। ইলিশের রাজধানি খ্যাত মেঘনায় এখন আর আগের মত ইলিশ পাওয়া যায় না। তারপরও আশা ছাড়েনি জেলেরা। তারা প্রতিনিয়ত ইলিশের আশায় এক বুক স্বপ্ননিয়ে নদীতে পাড়ি জমায়। তাদের সে স্বপ্ন জলদস্যু-ডাকাতদের কারণে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। এ ছাড়াও সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দাদন ব্যবসায়ীরা টাকা সুদে-আসলে আদায় করার জন্য নিরীহ জেলেদের নদীতে জাটকা ধরতে বাধ্য করে।
নাইয়াপাড়াসহ জেলে অধ্যুষিত এলাকার জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহাজনদের কাছে দাদনের কারণে জেলেরা বাধা থাকছে আষ্টেপৃষ্ঠে। ফলে ইলিশের দাম বাড়লেও মহাজনদের বেঁধেদেয়া দামেই বিক্রি করতে হয়। জেলেদের মধ্যে শতকরা ৯-১০ জনের ইঞ্জিন-চালিত নৌকা আছে। বাকিরা মহাজনদের কাছ থেকে নৌকা ও ট্রলার ভাড়া নিয়ে নদীতে মাছ শিকার করতে যায়। এসব জেলে মহাজনদের কাছে জিম্মি। চরবংশী গ্রামের জেলে মহসিন(৩২), জয়নাল(৩৮) জানান, বিভিন্ন সময় জলদস্যু ও ডাকাতরা মাছ কেনার নামে তাদেরকে মাঝনদীতে নিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোর করে জাল, মাছ, টাকা-পয়সা সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে যায়। চরবংশী নাইয়াপাড়া গ্রামের জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তফা বেপারী বলেন, মেঘনা পাড়ে বেঁধেদেয়া দামেই মাছ বিক্রি করতে হয়। বাজারে ইলিশের দাম ১২০০ টাকা হলেও দাদন ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করতে হয় ৬০০ টাকায়। এছাড়াও জলদস্যু ও চাঁদাবাজদের হাতে জেলেদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
-আতোয়ার রহমান মনির
|