সালাম ও শুভেচ্ছা নিয়েন। সম্প্রতিকালে জাতীয়-আন্তর্জাতিক অনেকগুলান বিষয়ে বাংলাদেশ যথাযোগ্য ভূমিকা রাইখছে বলি ধারণা করণ যায়। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের ভূমিকা সবার প্রশংসা কুড়াইছে। আন্নে নিজে কোপেনহেগেন সম্মেলনে যোগদান করি বাংলাদেশের তথা স্বল্পোন্নত দেশের হক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাইখছেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো অইছে। বিশ্বের ৪৫টি দেশের ২০টি ভাষায় ৫৬টি সংবাদহত্রে একই সম্পাদকীয় ছাপা অইছেÑ যা একটি বিরল ঘটনা। বিশ্বে জলবায়ু হরিবর্তনের লাই বাংলাদেশের মতন গরীব দেশগুলান দায়ী নাÑ এটা এ সমস্যার লাই যারা সরাসরি জড়িত হেতারা হর্যন্ত স্বীকার কইরছে। অতিমাত্রায় কার্বন নির্গমনের কারণে জলবায়ুর বিপর্যয়ের লাই দায়ী দেশ আমেরিকা, চীন, ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ কার্বন নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিছে বলি খবর বাইর অইছে। বেশিমাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনকারী উন্নত দেশগুলার কাছ তুন ক্ষতিপূরণ আদায় দরকার। ২০১০ সাল অইবো গত ১৬০ বছরের মইধ্যে সবচে’ উষ্ণ বছর। কাজে ইয়ার লাইও আগে-ভাগে প্রস্তুতি নিতে অইবো। বিশ্বে এদ্দিন যত সম্মেলন অইছে ইয়ার মইধ্যে জলবায়ু সম্মেলন গুরুত্বহুর্ণ বলি বিবেচিত অইছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলি যাই সমুদ্রের হানির স্তর বাড়াইতেছে। আশংকা করা যাইতেছে সমুদ্র উপকূলীয় দেশের অধিকাংশ এলাকা হানির তলে চলি যাইবো। কোটি কোটি মাইনষের ভাগ্য বিপর্যয় অইবো, অন্যত্র পুনর্বাসন করা কঠিন অই দাঁড়াইবো। ইয়ার লাই এখন তুন চিন্তা করি বিকল্প ব্যবস্থা বাইর কইরতে অইবো। সাহায্য হিসাবে বাংলাদেশ যে তহবিল হাইবো তা যথাযথভাবে কাজে লাগাই দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে অইবো। আমরা খুশি যে, কোপেনহেগেন সম্মেলনে আন্নের দু’টি প্রস্তাব গৃহীত অইছে। আশার কথা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইয়ার মইধ্যে জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের দাবির হক্ষে জোরালো সমর্থন দেঅনের সিদ্ধান্ত নিছে। উন্নতবিশ্বের মাইনষের কাছে আশার সঞ্চার অইছে বলি হেতারা কোপেনহেগেনরে হোপেন হেগেন বলি আখ্যায়িত কইরতেছে।
স্বদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় বহাল থাকনে দেশবাসী খুশি অইছে। হাবলিক ৩৪ বছর অপেক্ষা কইরছে ন্যায় বিচারের। বিচার হাই হেতারা অত্যন্ত খুশি। অহন হেই রায় দ্রুত কার্যকর দেইখতে চায় হাবলিক।
বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিল লই একটা টেনশন ভাব আছিল সর্বত্র। দেশের বিভিন্ন স্থানে কাউন্সিল করি কমিটি গঠন করা সম্ভব অয় ন’। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিভিন্ন জায়গায় কমিটি, হাল্টা কমিটি করি অবস্থা ল্যাজে-গোবরে করি হালাইছিল। মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনরে লই কয়েকদিন টানা-হিঁচড়া চইলছে। হেতেন প্রায় প্রতিদিনই বক্তব্য রাইখছেন বিভিন্ন মিডিয়ায়। দেলোয়ারহন্থিরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে হেতেনের হদ টিকাই রাইখতে। অবশেষে হেতেনের ভাইগ্যে সিকা ছিঁড়ছে তবে অল্প টাইমের লাই। হেতেন মাত্র ৬ মাস সাময়িক মহাসচিব থাইকবেন।
একটা জিনিস লইক্ষ্য কইরছেন হয়তÑ খালেদা জিয়া নতুন যে কমিটি গঠন কইরছেন তাতে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টÑঅর্থাৎ খালেদার অবর্তমানে তারেকই হুরা ক্ষমতার অধিকারী। এ ছাড়া হুনর্গঠিত কমিটিতে ছোটভাই মেজর (অবঃ) সাইদ ইসকান্দররে গুরুত্বপূর্ণ হদে আইনবেন বলি হুনা যাইতেছে। হরিবারতন্ত্রের যে অভিযোগ রাজনীতি অঙ্গনে দেখা যায় বর্তমান নতুন কমিটি ঐ ধরনের একটা কিছু অইতে যাইতেছে। তয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের অসীম কুমার উকিলরে আন্নের প্রতিনিধি হিসাবে হাডাই দূরদর্শীতার হরিচয় দিছেন। বেগম খালেদা জিয়া হগল দলমতের মাইনষের কাছে ভেদাভেদ ভুলি দেশ গড়নের কাজে আগাই আসার আহ্বান জানাইছেন। শ্লোগান তুইলছেনÑ ‘নানান মানুষ নানান পথÑ দেশ বাঁচাতে ঐক্যমত’। আমরাও এই কথাই বলিÑ জাতির স্বার্থে জাতীয় ইস্যুতে হগল দলমতের মানুষ একাট্টা হঅন দরকার। সংসদে যোগদান করি যথাযোগ্য ভূমিকা রাখা দরকার।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে আন্নের সফরের সময় অমীমাংসিত কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি সম্পাদনের আশা কইরতেছে দেশবাসী। সীমান্ত বিরোধ মিটানোর হর, দু’দেশের সন্ত্রাসীগো গ্রেফতার করি বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় নিজ নিজ দেশে হেরৎ হাডানোর ব্যবস্থা কইরলে উভয় দেশ উপকৃত অইবো। এতে সৎ প্রতিবেশী-সুলভ মনোভাব গড়ি উইঠবো, উভয় দেশ সুপ্রতিবেশী হিসেবে শান্তি ও সমৃদ্ধির হথে আগাই যাইবো। বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, বাংলাদেশের বিভিন্ন হণ্যের ভারতের বাজারে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশের অনুমতি আদায়ের চেষ্টা কইরেন। দু’দেশের মইধ্যে যাতে বন্ধুত্বহুর্ণ ও সুপ্রতিবেশীসুলভ অবস্থা বিরাজ করে তা উভয় দেশের সাধারণ মাইনষের কাম্য বলি মনে করি। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি খবরে দেখা যায়Ñ অপ্রচলিত হণ্য হিসেবে বিবেচিত সিনথেটিক সুতা রফতানি করি কেবলমাত্র ভারত তুন বছরে ৫৫ লাখ ডলার আয়করণ যায়। ব্যবসায়ীরা সুতা রফতানির উপরে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা চাইতেছে। যা বিবেচনা করি দেইখলে ভালা অইতো হারে।
এইবার বৃহত্তর নোয়াখালীর কিছু সমইস্যার কথা তুলি ধইরতাম চাই। বৃহত্তর নোয়াখালী বিগত সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীগো নির্বাচিত করে ন’। ১৩ জন সাংসদের মইধ্যে মাত্র দুইজন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট প্রার্থী। নোয়াখাইল্যারা নির্বাচনী লটারীতে হারি গেছে। বিএনপি জোটরে নির্বাচিত করি হয়ত মনে মনে হস্তাইতেছে। কিন্তু অহন করার কিছু নাই। আন্নের দলের হক্ষতুন বিচার-বিশ্লেষণ করি ঐ হরাজয়ের কারণ বাইর করা অইছে কি না, আঁর জানা নাই। তয় এই ব্যাপারে হোস্টমোর্টেম করার মত ব্যবস্থা নিলে কোন্ দুর্বলতা বা ত্রুটির কারণে মহাজোটের এই হরাজয় তা বাইর অই আইসবে। ভবিষ্যত কর্মহন্থা নেয়ার ক্ষেত্রে তা সহায়ক অইবোÑ এতে সন্দেহ নাই। আন্নে বৃহত্তর নোয়াখালীর উপরে রাগ নিয়েন না। হেতাগো উপরে সুনজর রাখি, নোয়াখালীর উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও সঠিক বাস্তবায়ন, জনগণের লগে দলের নেতা-কর্মীগো নিয়মিত যোগাযোগ এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির দিকে নজর রাখা, দলীয় কর্মীগো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি তুন দূরে রাখনের ব্যবস্থা কইরলে হাবলিকের মনোভাব হরিবর্তন অইবো বলি আশা করা যায়। ২০০১ সালে বিএনপি জোট নির্বাচনে জয়ী অই আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও সংখ্যালঘুদের উপরে যে অত্যাচার-নির্যাতন চালাইছে অতীতে কোন জাতীয় নির্বাচনের হর এইচ্যা ঘটনা ঘটে ন’। সেসব অত্যাচার-নির্যাতন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির বিচার জোট সরকার স্বাভাবিকভাবেই করে ন’ বলি সন্ত্রাসীরা আস্কারা হাই যায়। কিন্তু মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসি তার বিচারের কাজে কোন উদ্যোগ আইজ অ’ নেয় ন’। ক্ষতিগ্রস্তরা ছাড়াও ন্যায়বিচার প্রার্থী শান্তিপ্রিয় মানুষ এতাগো ত্বরিৎ বিচার চায়।
বৃহত্তর নোয়াখালীর একমাত্র সরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের স্থান সমস্যার দ্রুত সমাধান করি একাডেমীক ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের লাই সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েন। এর সাথে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক শক্তি হিসেবে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করণ জরুরী। আইজ এ হর্যন্ত। আন্নের সুস্থতা, সক্রিয়তা, নিরাপদ অবস্থানের জন্য প্রার্থনা করি।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু।
-এম মোস্তফা