date
cover
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
নিয়মিত কলাম
বাংলাদেশ ও বিশ্ব অধ্যয়ন-২8
॥ পূর্ব প্রকাশিতের পর ॥

অন্যকে সাহায্য করুন,
আপনার সমস্যাও কেটে যাবে

অধিকাংশ সহকর্মী চলে যাবার পর সন্ধ্যায় একান্তে কিছু ডেস্ক-ওয়ার্ক করছিলাম। এমন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সতীর্থ এক শিল্পপতি হঠাৎ আমার রুমে ঢুকে বলেÑ প্রেসক্লাবে একটা কাজে এসেছি, ভাবলাম তোমার অফিসে ঢুঁ মেরে যাই। কুশল বিনিময়ের পর চা-নাস্তা খেতে খেতে বলেÑ পত্রিকায় প্রায়ই দেখি, তোমরা ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং দিচ্ছ, ফ্রি মেডিটেশন শেখাচ্ছ, ফ্রি শিক্ষানবিশ সার্ভিস দিচ্ছ। এই ‘ফ্রি’-এর রহস্যটা কি? এতে তোমারইবা লাভ কি? বললাম, তোমার শিল্প-বাণিজ্যের লাভ-ক্ষতির সাথে ক্যাম্পাস’র ‘ফ্রি’-এর হিসাব মিলবে না; আর ঢুঁ মারতে এসে এসব আদর্শ-উদ্দেশ্যের কথায় মজাও পাবে না। বরং তোমার শিল্প-বাণিজ্য কেমন চলছে -সে কথাই বলো। জবাবে সে বলেÑ ভাল নয়, লসে আছি। বললাম, সবসময়েই যদি বলো- লসে আছি, তাহলে লাভ কর কখন? বলল, লাভ-লস মিলিয়ে কোনরকম কেটে যাচ্ছে। বললাম, তোমার মত শিল্পপতি যদি বলে ‘কোনরকম’, তাহলে সাধারণ মানুষ কি বলবে? আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, সেসব বাদ দিয়ে এখন ‘ফ্রি’-রহস্য ও তোমার ‘লাভ’ সম্পর্কে বলো।
তার পীড়াপীড়িতে বললাম- এই ‘ফ্রি’ অঙ্গন বা মুক্তাঙ্গন তথা ক্যাম্পাস’র লাভের হিসাব-নিকাশ ভিন্ন রকম। তোমার ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাবের ব্যালেন্স সীট মেলানোর মত নয় এটি। কমার্শিয়াল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল একাউন্টিংয়ের সাথে সোস্যাল একাউন্টিংয়ের লক্ষ্যগত ও পদ্ধতিগত তফাৎ অনেক। তোমার ইন্ডাস্ট্রির লক্ষ্য হচ্ছে তোমার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ওয়েল্থ ম্যাক্সিমাইজ করা। সেজন্যই তুমি লাভ-ক্ষতির বা সম্পদের চুলচেরা হিসাব নিকাশ কর। তোমার সম্পদে টানাপোড়েন দেখা দিলে তুমি দেউলিয়াও হতে পার। কিন্তু ক্যাম্পাস কাজ করছে মানব-সম্পদ উন্নয়নে তথা সামাজিক ও জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধিতে। তাই আমি বা আমার সহকর্মীরা ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসাব করি না। আমরা করি সমষ্টির হিসাব। আমাদের এখানে  লোকসান বা দেউলিয়া হবার সুযোগ নেই। আমাদের তৃপ্তি ও সন্তোষ অফুরান,  তাই মানসিক শক্তিও কম নয়। সেই মানসিক শক্তির কারণে আমরা কোন অভাববোধ করি না। অন্যের সাহায্যে নিবেদিত থাকার কারণে আমাদের নিজেদের সাহায্য হয়ে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
সে বলল, তোমার এ সোস্যাল একাউন্টিংতো জটিল। বললাম, জটিল নয়, খুবই সোজা। যেমন ধরো- এ মূহুর্তে এ রুমে আমরা ৫জন আছি। মনে করো এটি একটি সমাজ। এ সমাজের আমরা ৫জনই যদি পরস্পরের সাহায্যে নিবেদিত  থাকি, তাহলে আমাদের কারুর কোন জিনিসের অভাব থাকবে কি? তাছাড়া অন্য ৪জনকে সাহায্য করার ইচ্ছার কারণে নিজের মধ্যে সুখকর আস্থা ও শক্তির জোয়ার এমনই বহমান থাকবে যে, সবকিছুতে রহমত-বরকত ও তৃপ্তি পরিলক্ষিত হবে। অন্যের সাহায্যে এগিয়ে এলে তাতে অন্যের উপকার যতটুকুই হোক না কেন, নিজের পূর্ণ সাহায্য হয়ে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। অর্থাৎ প্রকৃতি ও স্রষ্টা তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন সরাসরি। তাই প্রাকৃতিক শক্তি (ঢ়ড়বিৎ ড়ভ হধঃঁৎব) -এর সাথে নিজকে ধষরমহ বা যুক্ত করার পথ হচ্ছে অন্যকে সাহায্য করা। সকল ধর্মেই এ দর্শন রয়েছে- মানবজাতি একে অপরের ভাই-বোন। তাই তাদেরকে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যের সাহায্যে এগিয়ে এলে স্রষ্টা নিজেই তাকে সাহায্য করেন।
ধরো, আমাদের ৫ জনের নিকট থাকা ৫টি প্রদীপ দিয়ে আমরা যদি ৫ লক্ষ প্রদীপ জ্বালি অথবা ৫ মাথার ৫টি চিন্তার আলোয় যদি ৫ লক্ষ মানুষকে আলোকিত করি, তাহলে সামাজিক বা জাতীয় আলোর পরিমাণ এত বেশি হবে যে, আমাদের ৫ জনের মধ্যে কোন একজনের প্রদীপ নিভে গেলেও তাতে ক্ষতি নেই। আমরা সবাই সামাজিক আলোয় আলোকিত থাকব এবং সেই আলো হবে অফুরন্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। তাই সোস্যাল একাউন্টিংয়ের চেতনায় সামাজিক সম্পত্তির হিসাব মেলায় ক্যাম্পাস। তোমার মত ইন্ডাস্ট্রির লাভ-ক্ষতির হিসাব বা এসেট-লায়বিলিটির ব্যালেন্স সীট মিলাই না আমরা। ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার-এ হিসাব-নিকাশ হয় সমষ্টিক লাভের, যে লাভ  দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী। শিল্প-বাণিজ্যের মত প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত ও সাময়িক লাভ-ক্ষতির চর্চা এখানে নেই। এখানে ইনভেস্ট করতে হয় নিজের শ্রম-নিষ্ঠা-মেধা-চিন্তা সবকিছুই। বিনিময়ে কোন ক্ষতিই নেই, বরং লাভ নিশ্চিত ও সুদূরপ্রসারী।  বর্তমান জেনারেশনের ইনভেস্টমেন্টের রিটার্ন এ জেনারেশন পাক বা না পাক, পরের সকল জেনারেশন এ ইনভেস্টমেন্টের রিটার্ন ভোগ করবেই। তাদের এ ভোগ হবে  চিরন্তন ও    নিরন্তর। আর তখন আমাদের সকলের তথা দেশ ও জাতির লাভও হবে স্থায়ী। 
সে বললÑ তাহলেতো আমার জীবদ্দশায় সাফল্য দেখে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। বললামÑ তা ঠিক, তবে নিজ জীবদ্দশায় সাফল্য দেখে যাওয়া বা নিজের সাফল্য-সুখ নিজেই ভোগ করার এ মানসিকতার জন্যই তথা স্বল্পমেয়াদী ইনভেস্টমেন্টের কারণে বাঙালীর অতীত সমৃদ্ধির তুলনায় বর্তমান সমৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক উন্নতি-অগ্রগতি খুবই কম। আমাদের পূর্ব পুরুষরা যদি এরূপ ভবিষ্যৎ চিন্তায় দীক্ষিত হতেন, তাহলে আজ আমরা বিশে^র শ্রেষ্ঠ ধনী রাষ্ট্র বা অঞ্চল হয়ে থাকতাম। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বাংলাদেশ অতীতে প্রাকৃতিক সম্পদসহ নানা সম্পদে অধিক ভরপুর থাকা সত্ত্বেও আজ অবধি উন্নতি ও সভ্যতার দিক থেকে আমরা ঢের পিছিয়ে আছি।
যে সময়ে আমাদের এ অঞ্চলের রাজা-বাদশারা খাজনা ও কর আদায় করে তা দিয়ে সুরা ও নর্তকীর বিলাসিতায় মেতে থাকত, সে সময়ে ইউরোপীয় রাজা-রানীরা ভাস্কো-ডা-গামা, আমেরিগো ভেসপুচি, ক্রিস্টোফার কলম্বাস বা ইবনে বতুতার মত সাহসী ও দেশপ্রেমী পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের অনুপ্রাণিত করত এবং প্রয়োজনে অর্থ-সম্পদ দিত Ñনব নব দেশ বা অঞ্চল আবিষ্কার করে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে, চা বা নীল চাষ করে সে আয় নিজ দেশে নিয়ে যেতে, কোহিনুর হীরার মত নানা মণি-মুক্তা ও অর্থ-সম্পদ সংগ্রহ করতে। তারা নিজেদের ভোগ-বিলাসের পরিবর্তে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিল বলেই শত বছর আগে থেকে ঐসব দেশ ও অঞ্চল এতটা উন্নত ও সভ্য বলে বিবেচিত। তারা যে সময়ে চন্দ্র-গ্রহ-নক্ষত্র জয় করে সেখানে বসবাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানকার ভূমি ক্রয়-বিক্রয় করছে; অবস্থান করছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির শীর্ষে, সে সময়ে  আমরা কেবল তাদের উন্নয়নের কারণ খোঁজার বা অনুসরণের চেষ্টা করছি। যে সময়ে তাদের পূর্ব-পুরুষরা শিক্ষা-গবেষণা এবং দেশ ও জাতিগত উন্নয়নে বিনিয়োগ ও আত্মনিয়োগ করে তৃপ্ত হত, সে সময়ে আমাদের পূর্ব পুরুষরা বিভোর ছিল আত্ম-অহমিকায় ও আত্মসুখ ভোগে। যার ফলে ইউরোপ-আমেরিকা-জাপান বা চীনের কথা বাদ দিয়ে শুধু মালয়েশিয়া বা কোরিয়ার কথাও যদি বিবেচনায় আনা হয়, তাহলে দেখা যায় যে- এসব  নব্যধনী দেশ এই সেদিনও তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগেও আমাদের তুলনায় ছিল অনুন্নত, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ইতিহাস-ঐতিহ্যও ছিল ঢের কম। আমরা ইতিহাস-ঐতিহ্যের বা অতীতের বাহাদুরীর কথা স্মরণ করতে করতে সামনে এগুবার  কথা ভুলেই আছি। ফলে ঐসব দেশ  কৃষি-বিপ্লব থেকে শিল্প-বিপ্লব, শিল্প-বিপ্লব থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপ্লব এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপ্লবের পর তথ্য-প্রযুক্তির ও ডিজিটালাইজড রেভুলেশন করে এ বিষয়ে যখন হয়েছে বিশেষজ্ঞ, তখন আমরা মাত্র ভাবছিÑ কিভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া যায়। এ ভুবনে সবেমাত্র পা রাখা থেকে বোঝা যায় যে, আমরা কতখানি পিছিয়ে আছি, কতখানি অজ্ঞ হয়ে বসবাস করছি বোকার রাজ্যে!
কারণ, যে শুধু দুধের কথা শুনেছে সে অজ্ঞ-অন্ধ, যে দুধ দেখেছে সে জ্ঞানী, আর যে দুধ খেয়ে হৃষ্ট-পুষ্ট হয়েছে সে বিজ্ঞানী। অর্থাৎ ডিজিটাল এ যুগে ঐসব দেশ বা জাতিকে যদি বিজ্ঞানী বলা হয়, তাহলে আমাদেরকে বলতে হবে অজ্ঞ ও অন্ধ।
শিল্পপতি বন্ধুকে বললাম, ডব ংযড়ঁষফ হড়ঃ ৎঁহ ধভঃবৎ সড়সবহঃধৎু ঢ়ষবধংঁৎব. তোমার ব্যক্তিগত উন্নতি ও সাময়িক সুখভোগের চেয়ে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে দেশ-জাতির কল্যাণ ও উন্নতিকে। তাহলে তোমার প্রাণপ্রিয় সন্তানরা থাকবে অধিক নিরাপদে ও সুখ-শান্তিতে। যে    সন্তানদের জন্য ইন্ডাস্ট্রি ও জমি-ফ্ল্যাট রেখে যাবে, পরম স্নেহের সে সন্তানরা যদি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অসুখী ও নিরাপত্তাহীন থাকে, তাহলে মৃত পিতামাতার আত্মা শান্তি পাবে কি? সন্তানদের নামে ইন্ডাস্ট্রি করে দেয়ার চেয়ে তাদের নীতি-নৈতিকতার পেছনে এবং তাদের পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নে বেশি বেশি বিনিয়োগ করা উচিত। আদর্শ-দূরদর্শী-বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল বাবা-মায়ের ইনভেস্টমেন্ট এরূপই হবার কথা। 
সব কথা শুনে সে ঠাট্টার সুরে বললÑ দোস্ত, তুমি ছিলে সলিমুল্লাহ হলের ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, এখনতো হয়ে গেছ উন্নয়ন-গবেষক ও দার্শনিক; তোমার এখানে আমি আবারো আসব, ক্যাম্পাস’র বিভিন্ন কার্যক্রম বুঝব.., এই বলে সে চলে গেল। 
তার চলে যাবার পর আমিও অফিস থেকে বের হলাম। যেন গভীর অমানিশার রাতে কালো মেঘের আচ্ছাদনে ঢাকা তিলোত্তমা ঢাকার ট্রিপল কার্পেটিং মসৃণ রাজপথ ধরে অজানা উদ্দেশ্যে দৃঢ় সংকল্পের পাড়ি, যেন বিজিতদের সারিতে থেকেও বিজয়ের সংকল্পে স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে চলার এক যুদ্ধযাত্রা। একের পর এক মলিন চেহারার বিবর্ণ-বিবস্ত্র মানুষদের চিক্চিকে ভেজা চোখের ওপর সারি সারি গাড়ির হেডলাইটের ফাটাফাটি আলো আছড়ে পড়ছে; ফুল হাতে এগিয়ে এসে চাইছে কিছু দক্ষিণা বা ভিক্ষা। আর তাদের দিকে তাকিয়ে আমি ভাবছিÑ কবে আমাদের চিন্তার পরিবর্তন হবে, কবে আমরা একা বড়লোক  না হয়ে আশপাশের এই ক্ষুধার্ত-ভাসমান মানুষদের নিয়ে বড়লোক হবার কথা ভাবব; ভাবব শ্রেণী বৈষম্যহীন নিরাপদ বিশ্ব গড়ার; কবে আমরা নিজেকে শক্তিশালী করতে অন্যকে সাহায্যদানে মেতে উঠব। কবে আমাদের সন্তানদের জন্য বা আগামীর স্থায়ী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য আমরা অন্ততঃ একটি প্রজন্ম নিজেদেরকে উৎসর্গ করবো। বিশ্বায়নের এ যুগে আত্মকেন্দ্রিকতা ঝেড়ে ফেলে বিকেন্দ্রীকরণ মানসিকতার মাধ্যমে নিজকে করব মহীয়ান।
‘পরার্থে করিব বিশ্বে সর্ব বিসর্জন’ Ñছোটবেলায় সুর করে পড়া এ কথাটির বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো এখন খুবই জরুরী। মন উন্নত হয়ে লাভ কি, যদি সে মন অন্য মনকে উন্নত করতে না পারে। জগতের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য এরূপ উন্নত মন দিয়ে পৃথিবীর উপকার হয় না। অন্যের মঙ্গল প্রদীপ জ্বাললে বা অন্যের কল্যাণে কাজ করলে তাতে প্রকারান্তরে নিজেরই মঙ্গল হয়ে যায় এবং সন্তান-সন্ততির নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হয় Ñএ সহজ ও সতত বিজ্ঞান চর্চায় সবাইকে স্বাগত। এরূপ সমৃদ্ধি অর্জন ও চর্চায় অভ্যস্ত হতে চাইলে আসুনÑ প্রতি শনিবার বিকেলে ক্যাম্পাস পত্রিকার অডিটোরিয়ামে। আসুন, এ মুহুর্ত থেকেই চিন্তার পরিবর্তন ঘটাই। ঞযরহশরহম রং ঃযব পধঢ়রঃধষ, বহঃবৎঢ়ৎরংব রং ঃযব ধিু, যধৎফ ড়িৎশ রং ঃযব ংড়ষঁঃরড়হ.
সবশেষে বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী পিলে’র একটি ঘটনা উদ্ধৃতের মাধ্যমে আজকের প্রসঙ্গ শেষ করছি। একটি স্টেশনে অপেক্ষার সময় পিলে দেখতে পেল যে- হুইল চেয়ারে বসে দু’ব্যক্তি পরবর্তী যানের জন্য অপেক্ষা করছে। তন্মধ্যে এক ব্যক্তির চেয়ার শিকলে আটকে যাওয়ায় সে তা ছাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং অন্যজন বসে বসে সে তামাশা দেখছে। এ অবস্থায় ২য় জনের কাছে গিয়ে পিলে বলল- তুমি ওকে সাহায্য করো, তাতে তোমার নিজের অসুবিধাও কেটে যাবে। পিলের পরামর্শমত ঐ ব্যক্তি ১ম জনকে শিকলের ফাঁস থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে পিলেকে বললÑ ‘সাহায্য করা ভাল’ বলে শুনেছি, কিন্তু অন্যকে সাহায্য করলে নিজের মধ্যে যে এত আনন্দ তৈরি হয়, তা পূর্বে কখনো বুঝিনি। উভয়ের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখে পারস্পরিক ধন্যবাদ বিনিময়ের পর পিলে চলে গেল।

কয়েক মাস পর ঐ ২য় ব্যক্তির সাথে পিলের আবার দেখা। এবার হুইল চেয়ারে নয়, পায়ে হেঁটে...। পিলে তাকে জিজ্ঞাসা করল, আরে! তোমার হুইল চেয়ার কই? লোকটি উত্তর দিলÑ মি. পিলে, তুমি আমাকে যে পথ দেখিয়ে দিয়েছ ‘অন্যের সাহায্য করতে’, সে পথে যেতে যেতে এবং অন্যের অসুবিধা দূর করতে করতে নিজের মধ্যে এতযে আনন্দের জোয়ার বইছে, সে জোয়ারে আমার শারীরিক ও মানসিক সকল অসুবিধাই চলে গেছে।-চলবে।
লেখকঃ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক
ফোনঃ ৯৫৫০০৫৫, ৯৫৬০২২৫
ই-মেইলঃ m7helal@yahoo.com
 
 
lbheading