Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহামানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এক সময়কার সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে কুখ্যাতি অর্জনকারী জেলা লক্ষ্মীপুর জেলার অধিবাসীগণ বিভিন্ন বাহিনীর সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। অনেকে গ্রামাঞ্চলের মায়া ত্যাগ করে জেলা শহরে আশ্রয় নিয়েছিল। কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করে অন্য শহরে। নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে তাদের নিতে হয় এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত।
এ দিনত’ দিন নয়, আরও দিন আছে; এ দিনকে নিয়ে যাব সেদিনের কাছে। বর্তমান সরকারের দৃঢ়চেতা মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে, নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দেয়া হয় লক্ষ্মীপুর জেলায়। এ চৌকস পুলিশ সুপার হলেন শাহ মিজান শাফিউর রহমান। কাজে যোগদান করেই তিনি জেলার বিভিন্ন জনপদে সব স্তরের জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেন।
বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী লক্ষ্মীপুরকে ভাগ করে নিয়েছিল, এক এক অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল এক এক বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। শাহ মিজান শাফিউর রহমানের গৃহীত পরিকল্পিত কার্যক্রম ফল দিতে শুরু করে। বাহিনী প্রধান, উপ-প্রধান গ্রেফতার হয় অথবা পুলিশের সাথে এনকাউন্টারে নিহত হয়। বিপদ বুঝে সন্ত্রাসীরা এলাকা থেকে সরে পড়ে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনমনে আস্থা ফিরে আসছে, এলাকায় ফিরে এসে তারা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছে। শাহ মিজান শাফিউর রহমান প্রশাসনে চমক সৃষ্টি করেছেন, তাঁর ক্যারিশমেটিক কার্যকম জনমনে সৃষ্টি করেছে গভীর আস্থার ভাব। ইতোমধ্যে তিনি অসামান্য কর্মকৃতির জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানজনক পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করবেন না, সরকারের ভাবমূর্তিকে আরও ঊর্ধ্বে তুলে ধরে নিজের জন্যও গড়ে চলবেন সাফল্যের মাইলফলক।
পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি ফোর্সদের কল্যাণমূলক কর্মকান্ড এবং লক্ষ্মীপুরবাসীর মাঝে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে নিরলসভাবে লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। আমরা আশা করি, পুলিশ সদস্য ও লক্ষ্মীপুরের জনগণ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বর্তমান কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রকৃতপক্ষে সকলের জন্য একটি নিরাপদ জেলা হিসাবে গড়ে উঠবে।
শাহ মিজান শাফিউর রহমানের নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জেলা পুলিশ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরা হলো।
অপরাধ বিষয়ক কার্যক্রম
১। দেশের বহুল আলোচিত জেলাগুলোর মধ্যে বর্তমান চট্টগ্রাম বিভাগের লক্ষ্মীপুর জেলা সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে পরিচিত। পূর্বে লক্ষ্মীপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিনিয়ত স্থানীয় এবং জাতীয় পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হতো। প্রতিনিয়ত খুন এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা এখানকার নিত্যদিনের ব্যাপারে পরিণত হয়েছিল। দৃশ্যত এখানকার জনগণ আইন-শৃঙ্খলা বিঘœজনিত কারণে অনিরাপদ জীবনযাপন করত। ফলে এই জেলার একটি বিশাল জনগোষ্ঠী জেলার সন্ত্রাস কবলিত বিভিন্ন এলাকা হতে স্থান ত্যাগ করে লক্ষ্মীপুর জেলা সদরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে বসবাস করত। এ সকল কারণে সরকারের ইমেজ ক্ষুণœ হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কার্যক্রম এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়।
২। লক্ষ্মীপুর জেলার জনসাধারণের মাঝে আস্থা এবং নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অত্র জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং বাজারগুলোতে জনসাধারণের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় এলাকার জনগণের সাথে ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহে অংশগ্রহণ করে সন্ত্রাস, মাদক এবং ইভটিজিং এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়।
৩। অতি অল্প সময়ের মধ্যে অত্র জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা হতে জেলার ৭১ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার, বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ৬১টি অস্ত্র, ১৭৭ রাউন্ড গুলি ও গুলির খোসাসহ ৪৮টি মামলার ৮০ জন আসামী গ্রেফতার, পঞ্চান্ন লক্ষ ছেষট্টি হাজার দুইশত পনের টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ২৭৯টি মামলার ৩৪৭ জন আসামী গ্রেফতার এবং চার লক্ষ সাতাশ হাজার ছয়শত পঁচাশি টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য উদ্ধারসহ ১০ মামলার ১২ জন আসামি গ্রেফতার করা হয়। জেলার যানবাহন শাখা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ৩,৩৭৯টি মামলায় ছত্রিশ লক্ষ চুরানব্বই হাজার ছয়শত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা আদায় করে। এছাড়াও অবৈধ মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের কারণে এ জেলায় গত এপ্রিল ২০১৫ হতে ৩১ অক্টোবর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ে সর্বমোট ১৪৭১টি মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে সর্বমোট দুই কোটি পঁচানব্বই লক্ষ চল্লিশ হাজার নয়শত তিন টাকা জমা হয়। ২৯৯ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতারসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী, অস্ত্র মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করার কারণে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর খুনের মামলা, ডাকাতি মামলা, দস্যুতা ও সিঁধেল চুরি মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়। ফলশ্রুতিতে সাফল্যজনক পুলিশি কর্মতৎপরতায় এলাকার জনগণের মাঝে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের পাশাপাশি সরকারের ইমেজও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪। অত্র জেলায় পূর্বে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ ইত্যাদির ঘটনা অহরহ ঘটত এবং এই সকল মামলা-মোকদ্দমার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার অনেকটা দুরূহ ব্যাপার ছিল। কিন্তু গত এক বছর হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত অত্র জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন। অত্র সময়কালে অপরাধের পরিমাণ যেমন কমে গেছে ঠিক তদ্রƒপ অত্র সময়ে সংঘটিত সকল চাঞ্চল্যকর খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, অপহরণ ও সিঁধেল চুরির ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।
সামাজিক কর্মকান্ড
১। অত্র জেলার মানুষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কবলে জিম্মি ছিল। বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় সভার কারণে জনগণের মাঝে পুলিশি কর্মকান্ড সম্পর্কে আস্থার মনোভাব সৃষ্টি হওয়ার ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত চন্দ্রগঞ্জ থানা ভবনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ করার জন্য এলাকার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে এবং তারা নিজস্ব উদ্যেগে ও অর্থায়নে থানা ভবনের নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে গত ৩১/০৮/২০১৫ তারিখ মাননীয় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মহোদয় থানা ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
২। লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদক ব্যবহারের কুফল, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান এবং তাদের মাঝে বইসহ খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করার কারণে তরুণ ও যুব সমাজের মাঝে বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের কর্মকান্ড বেশ সমাদৃত হয়েছে।
৩। সন্ত্রাস নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার কারণে চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন বশিকপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০ শতাংশ ভূমি নতুন পোদ্দার বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপারের নামে ক্রয় করেছেন।
৪। লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন্সের অভ্যন্তরে পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ বছর নবম-দশম শ্রেণি চালুর পাশাপাশি স্কুল এন্ড কলেজটি শহরের মধ্যস্থলে স্থানান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৯,৪৩,৪৫০ টাকার তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি ১ একর ১৬ শতাংশ জমিরও বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে পদক্ষেপ গ্রহণ
১। লক্ষ্মীপুর জেলায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যের ভালো পরিবেশে কেনাকাটা করার জন্য পুলিশ লাইন্সে ১নং গেইট সংলগ্ন স্থানে নিরাপদ পুলিশ শপিং মল নামে একটি বিশাল দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। অতিশীঘ্রই শপিং মলের কার্যক্রম শুরু হবে। উল্লেখ্য যে, উক্ত শপিং মলটি স্থানীয় জনসাধারণের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে।
২। লক্ষ্মীপুর জেলায় কর্মরত অফিসার ও ফোর্সদের আত্মীয়-স্বজন ও অন্য ইউনিট হতে আগত পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ে মনোরম পরিবেশে অবস্থানের জন্য পুলিশ লাইন্সের অভ্যন্তরে ‘‘পান্থশালা’’ নামক একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মেস এর উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ৩০/০৮/২০১৫ তারিখে মাননীয় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মহোদয় ‘‘পান্থশালা’’ উদ্বোধন করেছেন। উক্ত পান্থশালায় পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীর সদস্যসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ থাকতে পারবেন।
৩। অত্র জেলায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যের উন্নত পরিবেশে খাবার গ্রহণ এবং নির্মল আনন্দপূর্ণ সময় কাটানোসহ বিনোদনের জন্য পুলিশ লাইন্সের অভ্যন্তরে অবস্থিত পুলিশের ডাইনিং হলটিকে সংস্কার করা হয়েছে।
৪। লক্ষ্মীপুর জেলায় কর্মরত পুলিশ অফিসারদের বাসস্থান সংকট কাটানোর লক্ষ্যে শহরের কেন্দ্রস্থলে এএসপি (সদর) এর বাসভবন নির্মাণকল্পে প্রায় ২৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। উক্ত জমির বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করতঃ পুলিশের দখলে রয়েছে। এ সংক্রান্তে প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
৫। সিআইডি, লক্ষ্মীপুর অফিস এবং রামগঞ্জ শহর পুলিশ তদন্তকেন্দ্র নির্মাণের জন্য যথাক্রমে ৩২.৫ শতাংশ এবং ৯ শতাংশ ভূমি বর্তমানে পুলিশের দখলে রয়েছে এবং প্রস্তাবনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে। উক্ত ভূমি কীভাবে পুলিশের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে পারিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন।
আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনা
উন্নত জীবনমান এবং নিরাপদে বসবাসের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের নিন্মোক্ত পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা মোতাবেক কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ এবং স্থানীয় জনগণের চাহিদার প্রেক্ষিতে বাস্তবায়িত হতে পারে। ১। লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে নারী কনস্টেবলদের থাকার জন্য পৃথক কোনো ব্যারাক নাই এবং ভবিষ্যতে নারী কনস্টেবলদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, সে লক্ষ্যে নারী কনস্টেবলদের বসবাসের সুবিধার্থে ২,৫৯,৯৭,৯৬৯ টাকা ব্যয়ে নতুন মহিলা ব্যারাক ৬ তলা ভিত বিশিষ্ট ২ তলা মহিলা ব্যারাক নির্মাণ করার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ঠিকাদার নিয়োগের কাজ প্রক্রিয়াধীন।
২। লক্ষ্মীপুর জেলাধীন চন্দ্রগঞ্জ থানার আওতাধীন দাসেরহাট পুলিশ ফাঁড়িটি বর্তমানে একটি ভাড়া বাড়িতে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। কর্তব্যরত অফিসার ও ফোর্সদের থাকতে খুবই কষ্ট হয়। তাদের বসবাস এবং ব্যবহারের সুবিধার্থে জনৈক দানশীল অলী উল্যা ইঞ্জিনিয়ারের পূর্ব সৈয়দপুর মৌজায় ১৫ শতাংশ নাল জমি পুলিশ বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দাসেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির নিজস্ব জমিতে অফিস ও ব্যারাক ভবন (৬ তলা ভিত বিশিষ্ট ২ তলা ভবন) নতুন নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদনসহ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পুলিশ হেডকোয়ার্টাস, ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
৩। লক্ষ্মীপুর জেলায় অন্য জেলা থেকে বদলি হয়ে আসা পুলিশ কর্মকর্তাগণের থাকার মতো কোনো অফিসার্স মেস নাই। পুলিশ অফিসার্স মেস নির্মাণের জন্য অত্র জেলার শহর পুলিশ ফাঁড়ির নিজস্ব ১ একর ভূমির খালি জায়গায় একপার্শ্বে এবং নিচু ভূমিতে পুলিশ অফিসার্স মেস নির্মাণ (৬ তলা ভিত বিশিষ্ট ৩ তলা ভবন) করার জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। অত্র কাজের জন্য ২,৫৪,৬৬,২৫৭ টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত করে পুলিশ হেডকোয়াটার্স, ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
৪। লক্ষ্মীপুর জেলার মজু চৌধুরীহাট একটি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই পথে ভোলা এবং বরিশালের যাত্রীগণ নৌপথে অহরহ যাতায়াত করে থাকেন। যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে একটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু নৌপথে ফেরী, সী-ট্রাক, কার্গো জাহাজ চলাচল করে বিধায় এস্থানে সকল কিছুর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মজু চৌধুরীর হাটে একটি নৌপুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের জন্য পুলিশ হেডকোয়াটার্স, ঢাকায় প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।
৫। লক্ষ্মীপুর জেলাধীন রামগতি থানার আওতাধীন চরগজারিয়া নামক স্থানে একটি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। উক্ত চরে বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার লোক বসবাস করে। তাদের নিরাপত্তার বিষটি মাথায় রেখে ‘চরগাজী পুলিশ তদন্তকেন্দ্র’ স্থাপনের জন্য ১.৫ একর ভূমি পুলিশ সুপারের অনুকূলে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত ভূমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের প্রস্তাব পুলিশ হেডকোয়াটার্স, ঢাকায় প্রেরণ করা হবে।
৬। লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার আওতাধীন বশিকপুর, দত্তপাড়া, উঃ জয়পুর উল্লেখিত ৩টি ইউনিয়ন সন্ত্রাস কবলিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। উক্ত ৩টি ইউনিয়ন মিলে একটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র রয়েছে। ১টি তদন্ত কেন্দ্রের মাধ্যমে উল্লেখিত ইউনিয়ন ৩টির আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বশিকপুর ইউনিয়নের আওতায় পোদ্দার বাজার নামক স্থানে সাবেক ৫২নং হালে ২৪নং বিরাহিমপুর মৌজায় এলাকাবাসী পুলিশ বিভাগের অনুকূলে ২০ শতাংশ বাগান ও নাল ভূমি প্রদান করেছে। প্রস্তাবিত পোদ্দার বাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব তৈরি প্রক্রিয়াধীন।
৭। লক্ষ্মীপুর জেলাধীন রামগঞ্জ পৌর এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করণের লক্ষ্যে রামগঞ্জ চৌরাস্তায় ৬৭নং কাজীরখিল মৌজার ৯.৪৯ শতাংশ জমি পুলিশ সুপারের অনুকূলে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত স্থানে বর্তমানে রামগঞ্জ শহর পুলিশ বক্স অবস্থিত। এ স্থানে ভবিষ্যতে রামগঞ্জ শহর পুলিশ তদন্তকেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হচ্ছে।