Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান (সবুজ)

একজন টগবগে তরুণ, জীবনে চলার কঠিন পথে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করেছেন বিভিন্নভাবে। ব্যবসায়ে লিপ্ত হবেন এ ধারণা থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা পেশায় নিযুক্ত থেকে দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন সে আশায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে সাংবাদিকতার কোর্স সম্পন্ন করেন। নিজ এলাকার সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কোথাও স্থিত হতে পারেননি। আইন পেশা ও সাংবাদিকতা এ দু’টো পেশার কোনোটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা পরিবারের সন্তান হিসেবে ফিরে আসেন শিক্ষাঙ্গনের স্নিগ্ধ, সুশীতল ছায়ায়, মানুষ গড়ার মহৎ লক্ষ্যে। স্বনামধন্য শিক্ষক হিসেবে নয় একজন প্রগতিশীল সমাজকর্মী হিসেবেও ত্ররই মধ্যে নিজ এলাকায় খ্যাতি অর্জন করেন। এতক্ষণ যাঁর কথা বলা হয়েছে, তিনি মোঃ হাবিবুর রহমান (সবুজ); লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের উপাধ্যক্ষ। তাঁর সাথে লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধির ত্রকান্ত আলাপচারিতার কথা লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সহকারী সম্পাদক মোহাম্মাদ মোস্তফার অনুলিখনে নিচে সন্নিবেশিত হলো।
আপনি একজন দূরদর্শী শিক্ষাদ্যোক্তা এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। আপনার শিক্ষা জীবন সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি এমন প্রশ্নের জবাবে আশাবাদী শিক্ষক হাবিবুর রহমান (সবুজ) বলেন, আমার শিক্ষাজীবন শুরু পরিবার থেকে, পরিবারেই হাতেখড়ি। কারণ আমি শিক্ষা পরিবারের সন্তান। বাবা-বোন শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন; তাই পরিবারে বিরাজ করত শিক্ষা-সুন্দর পরিবেশ। এ থেকে আমরা পরিবারের সদস্যরা পেতাম উন্নত ভবিষ্যতের হাতছানি। লক্ষ্মীপুরের আলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করি। এরপর ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ি খিলবাইছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করি লক্ষ্মীপুর খিলবাইছা জিএফ ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে এসএসসি পাস করে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হই। ২০০০ সালে এইচএসসি উওীর্ণ হই। ২০০১ সালে একই কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞাণে অনার্স ক্লাসে ভর্তি হয়ে ২০০৬ সালে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করি। ২০০৮ সালে অর্জন করি সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি। ২০১২ সালে ধানমন্ডি ল’কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করি। এছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে একাধিক বিষয়ে সাংবাদিকতার ট্রেনিং কোর্স সম্পন্ন করি।
সাংবাদিকতার জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান সবুজ বলেন, আমার কর্মজীবন শুরু হয় সাংবাদিকতা দিয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত এ পেশায় স্থিত হতে পারিনি। তবে পেশার প্রতি আমি সবসময় শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। আমি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৯ সালে লক্ষ্মীপুরের সাপ্তাহিক এলান পএিকার রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করি। ২০০০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাতৃভূমি পএিকার জেলা প্রতিনিধি, ২০০২ সালে ঢাকার দৈনিক খবরপত্র এর জেলা প্রতিনিধি, ২০০৯ সালে ইসলামিক টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি, ২০১০ সালে দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক ভোরের মালঞ্চ পএিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করি। বর্তমানে দৈনিক খবরপত্র পত্রিকার জেলাপ্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছি। ২০০৯ সালের মাঝামাঝি থেকে লক্ষ্মীপুরে একটি ভালোমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ। আমি এ প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছি।
ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? এ প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্য কী ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে কর্মযোগী শিক্ষাদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান (সবুজ) বলেন, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলে কলেজ শাখা চালু করেছি। এ প্রতিষ্ঠানের ইংলিশ ভার্সন ও কলেজ শাখা চালু করব। লক্ষ্মীপুরের ছেলে-মেয়েরা যাতে এলাকাতে বসেই সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারে সেজন্য লক্ষ্মীপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা রয়েছে।
ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের বর্তমান অবস্থা ও সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান (সবুজ) বলেন, আমি এ স্কুলের জন্মলগ্ন থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমানে সাড়ে তেরশ’ ছাত্র-ছাত্রী ৫৬ জন শিক্ষকের পরিচালনায় পড়ালেখা করছে। স্কুলের পড়ালেখার মানের ক্ষেত্রে আমি আপোশহীন। পাঠদান এবং প্রশাসনিক কাজে শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। কোনো ছাত্র-ছাত্রী অনৈতিক কোনো কাজে যোগ দেয় না, ভালোভাবে পড়ালেখা না করে স্কুলে আসার চিন্তাই করতে পারে না।
শিক্ষার অগ্রগতি ও সাফল্য সম্পর্কে আপনি কি আশাবাদী এমন জিজ্ঞাসার জবাবে নিষ্ঠাবান শিক্ষক হাবিবুর রহমান (সবুজ) বলেন, বর্তমান সরকার অন্যান্য বিভাগের সাথে শিক্ষাক্ষেত্রেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বছরের ১ম দিন কোটি কোটি শিক্ষার্থীদের হাতে বোর্ডের নতুন বই তুলে দেয়ার ঘটনা বিশ্বে বিরল। দুপুরে টিফিনের ব্যবস্থা করায় ঝরে পড়ার হার কমে আসছে, পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয়েছে, প্রাথমিক স্কুলগুলোকে জাতীয়করণ করা হয়েছে, মেয়েদের উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে, প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনার ব্যবস্থার কথা শোনা যাচ্ছে। সবমিলিয়ে আমি বলব যে, শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকার বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। তবে কিছু কিছু সমস্যাও দেখা যায়। গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠগ্রহণে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক বই রয়েছে, অথচ এ বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি অনেক স্কুলে; এজন্য গ্রামীণ জনপদের ছেলে-মেয়েরা প্রযুক্তি শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, গ্রীষ্মের ছুটি প্রাথমিক পর্যায়ে এক সময়ে, মাধ্যমিক পর্যায়ে আরেক সময়ে, কলেজ পর্যায়ে অন্য সময়ে দেয়া হচ্ছে। এরফলে একই পরিবারের একাধিক ছাত্র-ছাত্রী প্রাইমারি, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে থাকলে সে পরিবার একসাথে ছুটিভোগ এবং বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করতে পারে না। এ অসুবিধা দূর করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
নারীশিক্ষা এবং নারী-উন্নয়নের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, স্থানীয় অভিজ্ঞতার আলোকে এ সম্পর্কে তাঁর অভিমত জানতে চাইলে সমাজসচেতন শিক্ষাব্রতী হাবিবুর রহমান (সবুজ) বলেন, নারী শিক্ষা এগিয়ে নিতে হলে প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে; তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। নিজ পরিবারে তাদের মূল্যায়ন করতে হবে, যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে, তার অধিকার রক্ষা করতে হবে। নারীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বর্তমান উপবৃত্তির টাকার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদেরকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। নারী-শিশুর প্রতি পরিবারে মা-বাবার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নারীর সামগ্রীক উন্নয়নে বাল্যবিবাহ একটি বড় প্রতিবন্ধক। এ ব্যাপারে আইন থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ হয় না। এজন্য বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কর্মক্ষেত্রেও নারীদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে হলে কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে সমাজসচেতন ব্যক্তিত্ব হাবিবুর রহমান (সবুজ) বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে যে খরচ হবে, তা ব্যয় নয়। ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি উত্তম বিনিয়োগ। সমাজ ও জাতি এর ফল পেতেই থাকবে। সকল ছাত্র-ছাত্রীকে উপবৃত্তির আওতায় আনার যে উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে, তার দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। শিক্ষা উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রসারে বিত্তবানদের কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে হবে। জাতি তাই আশা করে। গ্রাম ও চরাঞ্চলের স্কুলগুলোতে ডে-মিল বা টিফিনের ব্যবস্থা করা হলে অনুন্নত এলাকায় শিক্ষার হার বাড়বে। এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষাঙ্গনকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।
কোন্ প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে লক্ষ্মীপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান (সবুজ) বলেন, শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার পর ভাবলাম শিক্ষার আলো জ্বালাতে পারলে মানুষ জাগবে, তাই নিজ জন্মস্থানের মাটি ও মানুষের টানে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি।
তিনি বলেন নিজ জন্মস্থানকে ভোলা যায় না; যে আলো-বাতাসে বড় হয়েছি, সুখে-দুঃখে যেসব মানুষকে কাছে পেয়েছি তাদের জন্য কিছু করার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে লক্ষ্মীপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। বৃহত্তর নোয়াখালীর দর্পণখ্যাত লক্ষ্মীপুর বার্তা’র মূল্যায়ন প্রসঙ্গে লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান হাবিবুর রহমান (সবুজ) বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা বৃহত্তর নোয়াখালী বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রিয় পত্রিকা। লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতী সন্তানদেরকে নোয়াখালীর মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলছে। তাদেরকে অনুসরণ করে জেলাবাসী অনুপ্রাণিত হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর বার্তায় বৃহত্তর নোয়াখালীর সমস্যাগুলোকে সমাধানের প্রত্যাশায় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়। অন্যদিকে এ অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলোকে তুলে ধরা হয় দ্রুত বাস্তবায়নের আশায়। লক্ষ্মীপুর বার্তা’য় মাটি ও মানুষের কথা প্রতিধ্বনিত হয়, লক্ষ্মীপুর বার্তা উন্নয়ন-সম্ভাবনার কথা বলে। এভাবে লক্ষ্মীপুর বার্তা আঞ্চলিক উন্নয়নের বার্তাবহ হয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আমার প্রিয় পত্রিকা লক্ষ্মীপুর বার্তা আগামী দিনেও উন্নত প্রকাশনার মাধ্যমে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের সেবায়, এলাকার উন্নয়নে গৌরবময় ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।