Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার সাথে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন
লক্ষ্মীপুরের নয়া পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন এর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার বৃহত্তর নোয়াখালীর বার্তা সম্পাদক জাহাঙ্গীর লিটন। তাঁদের আলাপচারিতার উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে সন্নিবেশিত হলো।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে আপনার অনুভূতির কথা বলবেন কি এমন জিজ্ঞাসায় লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান আমার জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা; কারণ আমার জীবনের প্রথম পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান হয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলায়। এটা আমার কাছে একটা পরম পাওয়া যে, জীবনের প্রথম পুলিশ সুপার হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলায় যোগদান করতে পেরেছি, এতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।
কার অনুপ্রেরণায় এবং কী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি পুলিশ বিভাগে যোগদান করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মাহতাব উদ্দিন বলেন, আমি বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করি। তখন আমার প্রথম চয়েজই ছিল পুলিশ সুপার, তবে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে আমি যোগদান করতে সক্ষম হই। আমি ছোটবেলা থেকেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে এবং পুলিশ অফিসার দেখতাম, তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম আমার কাছে ভাল লাগতো। এই ভালো লাগা থেকেই পুলিশ বিভাগে যোগদানের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়।
লক্ষ্মীপুরের আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাবেন কি এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মাহতাব উদ্দিন বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে আমি একটা পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই নিয়েছি। আপনারা জানেন যে, লক্ষ্মীপুর জেলায় এর আগে পুলিশ সুপার ছিলেন শাহ মিজানুর রহমান স্যার। তিনি অত্যান্ত পরিশ্রম করে লক্ষ্মীপুর জেলাকে শান্তিপ্রিয় লক্ষ্মীপুর জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। তাছাড়া আমি এ পর্যন্ত যাদের সাথেই আলোচনা করেছি, তারা সবাই চায় লক্ষ্মীপুর জেলাটি শান্ত থাকুক। সেজন্য আমার পরিকল্পনা হচ্ছে শান্তির লক্ষ্মীপুর। এই শান্তির লক্ষ্মীপুর বাস্তবায়নের জন্য এখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা আমার লক্ষ্য। জনগণ যেন পুলিশকে বন্ধু হিসেবে মনে করে, সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করব। কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে মানুষের দোড়গোড়ায় আইনের সেবা পৌঁছে দিতে চাই। পুলিশের সাথে মানুষের যে সুসম্পর্ক, সে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এলাকার সাধারণ মানুষ যেন পুলিশকে আপন মনে করে থানায় এসে তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করতে পারে, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই আমার লক্ষ্য। আমি চাই, লক্ষ্মীপুরের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে শান্তির লক্ষ্মীপুর এলাকার মানুষকে উপহার দিতে। সে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
ছাত্র-যুব সমাজের বিপথগামিতা রোধে পরিবার বা সমাজের ভূমিকা সম্পর্কে একজন পুলিশ সুপার হিসেবে আপনার পরামর্শ জানাবেন কি এমন প্রশ্নের জবাবে আ স ম মাহতাব উদ্দিন বলেন, আমি ছাত্র-যুব সমাজের বিপথগামিতার জন্য তাদের নিজেদেরকে দায়ী করব না; তরুন বয়সে তারুণ্যের গতিতে যুবক-যুবতীরা যাতে বিপথগামী না হতে পারে, সেজন্য পরিবার এবং সমাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো যুবক-যুবতী যদি বিপথগামী হয়, সেক্ষেত্রে আমি এর জন্য প্রথমে দায়ী করি তার পরিবারকে। একটি পরিবারের পিতামাতার উচিত তার সন্তান কার সাথে চলে, সে কার সাথে মেশে তা খেয়াল করা । এছাড়া সমাজে যারা মুরুব্বী আছেন, নেতৃস্থানীয় আছেন তারা যদি ছেলে-মেয়েদের প্রতি নজর রাখেন তাহলে মাদক, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানী ইত্যাদি খারাপ কাজ থেকে ছেলে-মেয়েরা বিরত থাকবে এবং এভাবে যুব-সমাজের বিপথগামিতা অনেকটা রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আমরা যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আছি, আমাদেরও উচিত বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে প্রোগ্রাম করে, অনুষ্ঠান করে এই ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে সচেতন করা। এভাবে সবাই মিলে কাজ করলে যুব-সমাজের বিপদগামিতা রোধ করা সম্ভব হবে।
বিগত পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল, যেমন লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনে নারী পুলিশদের থাকার ব্যবস্থা করা, লক্ষ্মীপুরের দাসের হাটে একটা পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা, তাছাড়া বদলী হয়ে যে সমস্ত পুলিশ সদস্য লক্ষ্মীপুরে আসে তাদের থাকার জন্য আবাসনের ব্যবস্থ করা, মজু চৌধুরী হাটে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নির্মাণ করাসহ অনেকগুলি কাজের তিনি ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। তাঁর এসব ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ব্যাপারে আপনি কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মাহতাব উদ্দিন বলেন, শাহ মিজান শাফিউর রহমান সাহেবের যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল, তা যাতে বাস্তবে রূপ দেয়া যায় সে লক্ষ্য যত ধরনের কাজ করা দরকার, আমি পুলিশ সুপার হিসেবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং আমি অলরেডি কিছু কাজ শুরু করছি। তাঁর আর একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল এই লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য একটি মানসম্মত স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা; আমি সে কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছি। এই প্রকল্পগুলোর ব্যাপারে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেছি এবং ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছি। আশা করি, এগুলো দ্রুতই বাস্তবায়ন করা যাবে।
বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলকে শতভাগ শিক্ষিত এলাকায় পরিণত করতে কী ব্যবস্থ নিতে হবে বলে মনে করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মাহতাব উদ্দিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সেটা শুধু বৃহত্তর নোয়াখালীই নয়, সারা দেশের মানুষই যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয় এবং তারা যেন শিক্ষিত হয়ে নিজের জাতিকে, নিজের দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করছেন।
বহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলার শিক্ষার হার ৫০% এর মতো; আমি মনে করি, এটা আরো উন্নতি করা প্রয়োজন। একটি শিক্ষিত জাতি, একটি শিক্ষিত গোষ্ঠিই পারে একটি শিক্ষিত ও একটি সুশৃঙ্খল দেশ উপহার দিতে। তবে আমি মনে করি, এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কমিউনিটি ডে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং বিভিন্ন জায়গায় যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, সেখানে ভালো ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়া সর্বস্তরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য শিক্ষা বিভাগের সাথে জড়িতদেরকে আমি বিনীত অনুরোধ করব। তাঁরা যেন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে ছেলে-মেয়েদেরকে বিদ্যালয়মুখী করে। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে বিনোদনমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করেন, শিশুবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখেন, স্কুলভীতি যেন কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখেন।