Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

জন্মস্থানের সেবা ও কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ, আধুনিক ধ্যান-ধারণার শিক্ষাদ্যোক্তা সাহিত্য-সাংবাদিকতা-ক্রীড়া ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, মানবতাবাদী উদারপ্রাণ শিল্পপতি সৈয়দ বদরুল আলম

বিদ্যোৎসাহী, সমাজসেবী ও আধুনিক ধ্যান-ধারণার মূর্ত প্রতীক সৈয়দ বদরুল আলম। যিনি নিজ চেষ্টা আর অশেষ ধৈর্যকে পুঁজি করে লক্ষ্মীপুরের পশ্চাৎপদ ও অনুন্নত এলাকা থেকে উঠে এসে দেশের সর্বাধিক উন্নত-আলোকিত এলাকা, ঢাকার বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে বসবাস করছেন। কিন্তু ভোলেননি কখনো তাঁর সেই অজপাড়াগাঁকে। তাই শেকড়ের টানে বার বার ফিরে যান নিজ জন্ম-এলাকায়; অর্ধশিক্ষিত-অশিক্ষিত স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে নিত্য ও নিবিড় যোগাযোগ রাখেন, তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন গভীরভাবে; তাদের আশা-আকাঙ্খার কথা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। জন্ম-এলাকার মানুষের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করতে সেখানে স্কুল-কলেজ, মক্তব-মাদ্রাসা-মসজিদ স্থাপন করেছেন। এই মহৎপ্রাণ ব্যক্তি বহু শিল্প-কারখানা স্থাপন করে ডায়নামিক শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে ’৮০ ও ’৯০ এর দশকে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন; কিন্তু ভোলেননি নিজ এলাকায় অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা হাড় জির-জিরে গ্রামীণ চাষী ভাইদের এবং বাড়ন্ত তরুণদের যারা কর্মসংস্থানের অভাবে দুর্বিষহ বেকার জীবনযাপন করছে। যে শিশু-কিশোররা শিক্ষার আলো-বঞ্চিত হয়ে অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে তাদের কথাও ভোলেননি মানবপ্রেমী, দেশপ্রেমী, এলাকাপ্রেমী ব্যক্তিত্ব বিশাল হৃদয়ের সৈয়দ বদরুল আলম। তাই নিজ জন্ম-এলাকায় একক অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষা-ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ বহু উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে তিনি সর্বদাই একনিষ্ঠ।
মানবিকতায় পরিপূর্ণ সৈয়দ বদরুল আলম ১৯৪৩ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার টুমচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আসাদুল্লাহ মিঞা এবং মাতা মরহুমা শরীয়তুন্নেছা। সৈয়দ বদরুল আলমের সহধর্মিণী জাকিয়া আলম; তাঁরা সাত সন্তানের জনক-জননী।
সৈয়দ বদরুল আলমের শিক্ষা-জীবনের শুরু গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে; তিনি লক্ষ্মীপুর মডেল স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সৈয়দ বদরুল আলম ১৯৬৫ সালে ইউনাইটেড ব্যাংকে চাকরি গ্রহণের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। এরপর স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে কনস্ট্রাকশন ফার্ম টেকনোকন লিঃ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসা জগতে প্রবেশ করেন। এ ফার্মের মাধ্যমে তিনি দেশের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক-কুয়েতে কাজ করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি উইলস গার্মেন্টস লিঃ প্রতিষ্ঠা করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি উইলস এ্যাপারেলস লিঃ, উইলস স্পোর্টস ওয়্যার লিঃ, এভারশাইন ফ্যাশনস লিঃ, মন্ডি এ্যাপারেলস লিঃ, উইলস এমব্রয়ডারী, উইলস কার্গো সার্ভিসেস লিঃ, উইলস রিয়েল এস্টেট লিঃ, উইলস প্রোপার্টিজ লিঃ, উইলটেক্স ফ্যাশনস্ ইন্ক প্রভৃতি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কারখানায় এলাকার বহু মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন।
একজন সংস্কৃতিসেবী ও সমাজসেবী হিসেবেও রয়েছে তাঁর সুখ্যাতি। শিক্ষা বিস্তারেও তিনি বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে এসেছেন, রেখেছেন অনন্য অবদান। ১৯৯২ সালে নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন টুমচর আসাদ একাডেমী এন্ড কলেজ। তিনি ভবানীগঞ্জ হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ভবানীগঞ্জ মাদ্রাসা এবং টুমচর মাদ্রাসার সহ-সভাপতি। তিনি নিজ বাড়িতে জামে মসজিদ এবং কুমিল্লা, লাকসাম, লাঙ্গলকোটে এতিমখানা, মসজিদ, মাদ্রাসা প্রভৃতি স্থাপন করেছেন।
সৈয়দ বদরুল আলম বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ লায়নস্ ফাউন্ডেশন, লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির আজীবন সদস্য। তিনি উত্তরা ক্লাব এর সদস্য এবং বারিধারা সোসাইটি ও গুলশানে অবস্থিত অল কমিউনিটি ক্লাবের সদস্য। সৈয়দ বদরুল আলম সমাজ সেবামূলক কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তিনি যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান করেছেন তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দালালবাজার কলেজ, রায়পুরে রুস্তম আলী কলেজ, জব্বার মাস্টারহাট হাইস্কুল, শাকচর জুনিয়র হাইস্কুল, চর আবাবীল হাইস্কুল।
নিজ জন্মএলাকার নামে প্রকাশিত লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকাশনার শুরু থেকেই নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন সৈয়দ বদরুল আলম। সেই ১৯৮৮ সালেই তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন যতদিন আমি জীবিত থাকব, লক্ষ্মীপুর বার্তা’র নিরবচ্ছিন্ন প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত অনুদান দিয়ে যাব। সে সময়ে তিনি লক্ষ্মীপুর বার্তাকে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া ছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে উদার সহযোগিতা দিয়েছেন। সেইজন্য লক্ষ্মীপুর বার্তা পরিবারের অভিভাবক-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি সর্বাগ্রে স্মরণীয় ও বরণীয়।
জন্ম-এলাকার জন্যে সৈয়দ বদরুল আলমের এরূপ প্রাগ্রসর ও প্রেরণাদায়ী কার্যক্রমকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে অনুকরণীয় ও স্মরণীয়-বরণীয় করতে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ৩০ বর্ষ উপলক্ষে তাঁকে অতল শ্রদ্ধা ও অসীম ভালোবাসায় লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শীর্ষ সমাজসেবী সম্মাননা জ্ঞাপন করছি। সেইসাথে তাঁর সুখ-সুস্বাস্থ্য ও অনন্ত সৃষ্টিশীল দীর্ঘজীবন কামনা করছি।