Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

লক্ষ্মীপুরে খালি হাতে যাই না; প্রতিমাসে শিক্ষান্নোয়ন ও সমাজ উন্নয়নমূলক কিছু না কিছু কাজ নিয়ে যাই
- প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল

বৃহত্তর নোয়াখালী এক রত্নগর্ভা অঞ্চল, জন্ম দিয়েছে অনেক কৃতী সন্তানের যাঁরা স্বীয় মেধা ও প্রতিভার গুণে দেশের অনেক শীর্ষপদ স্পর্শ করেছেন, রেখেছেন সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও গতিশীলতার স্বাক্ষর। আজকের প্রিয় মানুষের মুখোমুখি কলামে নোয়াখালীর এমন এক কৃতী সন্তানের মুখোমুখি হয়েছি, যিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীয় শিক্ষক, শিক্ষকদের প্রিয় নেতা এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একজন অগ্রসেনানী। শিক্ষক আন্দোলনের জড়িত থাকলেও তিনি পেশার প্রতি একনিষ্ঠ। লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান হিসেবে এলাকার উন্নয়নেও রেখে চলেছেন বিশেষ ভূমিকা। লক্ষ্মীপুরে একটি ইকোনোমিক জোন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ যাঁর কথা বলছিলাম তিনি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ৩ বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। তিনি ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। সম্প্রতি ৮ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট এবং সিন্ডিকেট সদস্য ও ঐতিহ্যবাহী সূর্যসেন হলের প্রোভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এর আওতায় দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠন করেন এবং বিভাগটির প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর সাথে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র প্রতিনিধি রাজিব গুপ্ত সম্প্রতি একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন, তাঁদের আলাপচারিতার উল্লেখযোগ্য অংশ লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সহকারী-সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফার অনুলিখনে নিচে সন্নিবেশিত হলো।
আলোচনার শুরুতেই শিক্ষক সমাজের প্রিয় নেতা প্রফেসর মাকসুদ কামাল নিজ জন্মস্থান সম্পর্কে তাঁর আবেগ-অনুভূতি ও ভাবনার কথা ব্যক্ত করে বলেন লক্ষ্মীপুরে আমার জন্ম, পিতৃ-পুরুষের এলাকা। এর উন্নয়ন আমার ধ্যান-জ্ঞান। কীভাবে এলাকার উন্নয়ন হবে, শিক্ষা-দীক্ষায় এলাকার মানুষকে এগিয়ে নিতে হবে, এলাকার মানুষের সঙ্গে এলাকার প্রবাসীদের যোগাযোগ স্থাপন করে প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করা যায় সে ব্যাপারে আমার ভাবনা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, শিক্ষার উন্নয়ন হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তার সুপ্রভাব পড়বে। লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, তথা জনপ্রতিনিধি, সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা, স্বনামখ্যাত ব্যবসায়ী-শিল্পপতি আছেন তাঁদের অনেকের সাথে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে; সে যোগাযোগের সূত্র ধরে আমি আমার প্রিয় লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে আলাপ-আলেচনা করি; কীভাবে লক্ষ্মীপুরকে এগিয়ে নেয়া যায়।
তিনি আরও বলেন এলাকার তরুণদেরকে কীভাবে শিক্ষাঙ্গনে নিয়ে আসা যায়, তাদের মধ্যে কোয়ালিটি এডুকেশন দেয়া যায়, এ ব্যাপারে আমার ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল কীভাবে লক্ষ্মীপুরের স্কুল ও কলেজগুলোতে এক্সট্রা-একাডেমিক কারিকুলাম চালু করা যায়, যাতে তরুণ সমাজের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ জাগিয়ে তুলে তাদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা যায়। একজন সুশিক্ষিত মানুষ তার নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য, বিশ্বের জন্য সম্পদ। এ চিন্তা-চেতনা স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে আমরা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীপুরে মাদকের ছোবল প্রকটভাবে দেখা যায়। লক্ষ্মীপুরের গ্রামগঞ্জগুলোতেও মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের সাথে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজনের সম্পৃক্ততা এ সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছে। মাদক একটা জনপদকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যেতে পারে; সেজন্য লক্ষ্মীপুরে মাদকের আশংকাজনক বিস্তার আমাদের আশংকিত করে তোলে। এ মারাত্মক সমস্যাটির সমাধানকল্পে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে অভিভাবকদের সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে অশেষ সুযোগ দিয়েছেন; শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব হিসেবে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাইমারি সেকেন্ডারি লেবেলের শিক্ষকদের সাথে আমার যোগাযোগ রয়েছে; সেই সুবাদে আমি বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষা-সমস্যা বিষয়ে অবহিত হবার এবং সেসবের সমাধানে মতামত দেয়ার চেষ্টা করি। শিক্ষার উন্নয়ন এবং উৎকর্ষ সাধনের জন্য কিছু পরিকল্পনা আছে, যা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি।
এলাকার সাথে যোগাযোগ কীভাবে রক্ষা করেন এমন প্রশ্নে লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মী সন্তান প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, আমি লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমির ছাত্র ছিলাম, লক্ষ্মীপুর কলেজের ছাত্র ছিলাম, আমি লক্ষ্মীপুর পিটিআই-তেও পড়ালেখা করেছি। সব মিলিয়ে আমার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন নিজ এলাকা লক্ষ্মীপুরেই কেটেছে। আমার স্কুলজীবনে যেসব বন্ধু-বান্ধব ছিল, তাঁরা অনেকে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে; তাদের আকর্ষণে নিয়মিত যাই, গেলে এলাকার খোঁজ-খবর নিতে পারি, এলাকার জন্য কিছু কাজও করতে পারি। আমার দাদাও শিক্ষক ছিলেন, সেই সুবাদে আমাদের বাড়ি শরাফত আলী পন্ডিত বাড়ি হিসেবে সুপরিচিত। মা-বাবা দু’জনের কবরও দাদাবাড়িতে থাকায় লক্ষ্মীপুরে আমাকে যেতেই হয়। সেখানে গেলে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও এলাকার লোকজনের খোঁজ-খবর; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর খোঁজ-খবর নিতে পারি, তাদের সমস্যা সম্পর্কে জানতে এবং সম্ভাব্য-সমাধানের পরামর্শ দিতে পারি। এলাকার একটি স্কুলের আমি সভাপতি। লক্ষ্মীপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য সুশীল সমাজের লোকজন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ হয়, আলাপ হয়; সবাই মিলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা হয়। সে কারণেই প্রতিমাসে একবার লক্ষ্মীপুরে যাওয়াটা আমার রুটিন ওয়ার্ক; সেখানে কোনো না কোনো কাজ নিয়ে যাই; সেটা শিক্ষা-উন্নয়নমূলক হোক আর সমাজ-উন্নয়নমূলক হোক। সামনের দিনগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
বৃহত্তর নোয়াখালী তথা লক্ষ্মীপুরের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে কেমন অনুভব করেন এমন প্রশ্নের জবাবে এলাকাপ্রেমী শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, নোয়াখালী শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রগামী জেলা। জনগণের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে নোয়াখালীর মানুষের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষার হাতেখড়ি যাঁর কাছে হয়েছিল, সেই শিক্ষক ছিলেন লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জের সন্তান। এই মহান নেতা যখন লক্ষ্মীপুরে মজু চৌধুরী হাটে গিয়েছিলেন সে সময় জনপ্রতিনিধি, নেতাকর্মীসহ হাজারো লোকের সামনে বঙ্গবন্ধু সেই শিক্ষককে পায়ে ধরে সালাম করে জানিয়ে দিলেন যে শিক্ষকদের তিনি কতখানি সম্মান করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারী যাঁদেরকে সম্মান করেন, তাঁরা হলেন ড. আবদুল মতিন চৌধুরী, ড. মুজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী; তাঁরাও লক্ষ্মীপুরের সন্তান; জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর বাড়িও লক্ষ্মীপুরে; শহীদ বুদ্ধিজীবি প্রফেসর মুনীর চৌধুরীও লক্ষ্মীপুরের সন্তান। লক্ষ্মীপুরের বাইরে বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেনীতে জন্ম ঢাবি’র শিক্ষক ও ভাইস চ্যান্সেলর, অত্যন্ত সম্মানিত বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব স্যার এ এফ রহমান, ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক শহীদ উদ্দিন, প্রফেসর আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী। আর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরতো অনেক ছিলেন এবং আছেন। আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে, দেশের শিক্ষান্নোয়নে ও শিক্ষা প্রসারে বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তানদের অনন্য অবদান রয়েছে। শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে নোয়াখালীর নেতৃত্ব ছিল। ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে কিংবা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে হোক, নোয়াখালীর অবদান ছিল অতুলনীয়। তাই নিজ জন্মস্থানের পরিচয় দিতে আমি গর্ব অনুভব করি।
তিনি বলেন নোয়াখালীর মানুষ কর্মঠ, ন্যায়নিষ্ঠ; মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী নোয়াখালীর মানুষ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখছে, বেকার সমস্যার অনেক সমাধান হয়েছে। নোয়াখালীর মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে, সেই সাথে নির্মাণ করে জাতির ভবিষ্যতও। সে হিসেবে নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে নিজেকে অত্যন্ত ধন্য মনে করি। আল্লাহ আমাকে তৌফিক দিয়েছেন, আমি সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালীর উন্নয়নে, দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি।
মুক্তিযুদ্ধে নোয়াখালীর অবদানের কথা জানতে চাইলে প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর চৌমুহনী কলেজ ছিলো এ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি এবং তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান। আমার বড় ভাই এ কে এম শাহজহান কামাল এমপিও ছিলেন এই কলেজের নেতৃত্বদানকারী একজন ছাত্র। সে সময় ছাত্রনেতা খালেদ মোহাম্মদ আলী এমএনএ ছিলেন; তিনি ছাত্র-সমাজের ১১ দফা আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন। আ স ম আবদুর রব ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন। খালেদ মোহাম্মদ আলী, আ স ম আবদুর রব, নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নোয়াখালীর সেই যুব-নেতৃত্ব সারাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে।
বৃহত্তর নোয়াখালীতে এমন কোনো স্মৃতি আছে কি, যা আজও আপনার মনকে দোলা দেয় এমন প্রশ্নে এলাকাপ্রেমী প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমিতে আমি যখন ক্লাস নাইনের ছাত্র, তখন আন্তঃজেলা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমাদের সামাদ একাডেমি অংশগ্রহণ করে। সামাদ একাডেমির বিতার্কিক দলের আমিও একজন সদস্য ছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে পরিচালক আমাদেরকে বলেছিলেন, তোমাদের মধ্য থেকে জাতিগঠনের নেতৃত্ব উঠে আসবে। তিনি আরও বলেছিলেন গধহ রং ৎধঃরড়হধষ ধহরসধষ; মানুষকে মানুষ হতে হলে জীবনে কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার প্রয়োজন আছে। আজ গুণী শিক্ষকের নামটা মনে নেই, তবে তাঁর কথাগুলো হৃদয়ে গেঁথে আছে। মানুষ যুক্তিতর্কের উপর প্রতিষ্ঠিত প্রাণী; মানুষ যখন যুক্তিতর্ক হারিয়ে ফেলে, তখন সে আর মানুষ থাকে না।
১৯৭৯ সালে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় ড. আবদুল মতিন চৌধুরী আমাদের এলাকায় আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। ড. মতিন চৌধুরীর ভাষণে আমি এবং আরও অনেক শিক্ষার্থী উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। সেদিন শপথ করেছিলাম ভবিষ্যৎ জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হব। আমার সে আশা আজ পূর্ণ হয়েছে। আজও আমি সত্য ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিই, এ কথাগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও ছড়িয়ে দিই।
বৃহত্তর নোয়াখালীর মূল সমস্যা এবং সমাধানে আপনার পরামর্শের কথা বলবেন কি এমন জিজ্ঞাসার জবাবে সমাজসচেতন ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে কার্যকর নেতৃত্ব দেয়ার জন্য রাজনীতিকের অভাব রয়েছে; আগের প্রথিতযশা রাজনীতিকদের কেউ আর বেঁচে নেই। বাংলদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল মালেক উকিল স্পিকার ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তাঁরপর নোয়াখালীর উন্নয়নে অভিভাবকত্ব করার যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। জাতীয় নেতৃত্ব না থাকার কারণে বর্তমানে দু’একজন যারা আছেন, তাঁরা নোয়াখালীর বিষয়গুলো সামনে আনতে পারছেন না। একটি কথা আছে- ঈযধৎরঃু ংঃধৎঃং ভৎড়স যড়সব, যে মানুষ ঘরের দিকে তাকায়, সে দেশের দিকেও তাকায়।
এবার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জননেতা ওবায়দুল কাদের। আশা করি, নোয়াখালী অঞ্চলের রাস্তাঘাট, এয়ারপোর্টসহ ব্যবসাবান্ধব অবকাঠামো গঠনে তিনি নজর দিবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে উৎসাহিত করবেন। বৃহত্তর নোয়াখালীর যেসব শিল্পপতি নোয়াখালীর বাইরে বড় বড় শিল্পগ্রুপ গড়ে তুলেছেন, বিশাল কল-কারখানা গড়ে তুলেছেন; তাঁরা এলাকায় দু’একটা শিল্প স্থাপন করলে বেকার সমস্যার সমাধান হতো, দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ অনেকটা এগিয়ে যেত।
তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে। ফেনী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৪ লেইন রাস্তা নির্মিত হয়েছে। এরূপভাবে বৃহত্তর নোয়াখালীর অভ্যন্তরের প্রধান রাস্তাগুলো ৪ লেইন হয়ে গেলে এবং অন্যান্য রাস্তাঘাট যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে প্রশস্ত করা হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে। এছাড়া রেল যোগাযোগে ঘাটতি আছে। বর্তমানে চৌমুহনী পর্যন্ত রেললাইন আছে। এটাকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলে লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্যের উপর এর কার্যকর প্রভাব পড়বে; এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গতিশীলতা আসবে। এছাড়া বৃহত্তর নোয়াখালীর অভ্যন্তরীণ মহাসড়কগুলো প্রশস্ত নয়। এগুলো সময়ের দাবি মেটাতে পারছে না। কাজেই রাস্তা প্রশস্তকরণ কর্মসূচি এখন খুব জরুরি। যোগাযোগ সমস্যার জন্য আমাদের শিল্পপতিরা নোয়াখালী অঞ্চলে শিল্পস্থাপনে দ্বিধা করছেন বলে জানা যায়। বৃহত্তর নোয়াখালীর শিল্পপতিদেরকে যদি এলাকাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা যায়, তাহলে তাঁরা নিজ এলাকায় শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি। এছাড়া বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যোগদান করলে এ এলাকা শিল্প-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হবে; তরুণ সমাজ উদ্বুদ্ধ হবে দেশ গড়ার কাজে, মানবতার সেবায়। আজ যুবসমাজের মধ্যে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তা হ্রাস পাবে।
তিনি আরও বলেন বৃহত্তর নোয়াখালীর উন্নয়নে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর-ফেনী এ তিন জেলা সমিতিকে একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নোয়াখালী নেতৃত্ব দিচ্ছে; সেই নেতৃত্ব কিছুটা উদ্যোগ নিলেও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের অনেক সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের অতীত ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে অতীত গৌরবকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের হতাশ হবার কারণ নেই; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীর সন্তানকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব দিয়েছেন, যোগাযোগ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান নোয়াখালীর সন্তান। ঢাকা (উত্তর) সিটির মেয়র নোয়াখালীর। পেশার প্রতি আস্থা ও বিশ্বস্ততা, কৃতকর্মের উৎকর্ষ এবং দায়িত্বশীলতার কারণে নোয়াখালীর মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে। এজন্য বলা যায় যাঁরা বর্তমানে প্রশাসন এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে উচ্চপদে আছেন, তাঁরা যদি নোয়াখালীর সার্বিক উন্নয়নে এগিয়ে আসেন, তাহলে এসব সমস্যা অল্পসময়ে দূর হয়ে যাবে।
বৃহত্তর নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী ফেলো-ফিলিংস জাগ্রত রাখতে কী করণীয় বলে আপনি মনে করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে শিক্ষক সমাজের প্রগতিশীল নেতা মাকসুদ কামাল বলেন, অতীত আমাদের সমৃদ্ধ; তাই বর্তমানকে সাফল্যময় করে তুলতে হলে আমাদের সব যোগ্যতা-দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দক্ষ জনশক্তি আছে, মেধাবী মানুষ আছে; আমরা এলাকার উন্নয়নে নিবেদিত হলে বর্তমানকে আরও সমৃদ্ধ করে ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য অত্যাধুনিক সমাজ রেখে যেতে পারব। লক্ষ্মীপুর-ফেনী-নোয়াখালীর সমৃদ্ধ, আলোকিত ও গতিশীল মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করে এই ঐক্যের চেতনাকে প্রসারিত করতে হবে। যত অংশেই বিভক্ত হোক, বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভাজন কাগজ-পত্রে সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এর প্রমাণ নেই। নোয়াখালীর মানুষকে অনেকে ‘নোয়াখাইল্যা’ বলে, এটা কোনো গালি নয়, এটা নোয়াখালীর মানুষের শক্তি। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত নোয়াখালীর মানুষ মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধ আছে। বলা হয়ে থাকে, চাঁদে গেলেও দেখা যাবে নোয়াখালীর লোক আগেই হাজির হয়েছে সেখানে; পাতালে গেলেও মিলবে নোয়াখালীর মানুষের সন্ধান। এর মানে সবখানে-সর্বাবস্থায় নিজের এবং জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের সাথে যুক্ত থাকে। পরিস্থিতির মোকাবেলা করার ক্ষমতা নোয়াখালীর মানুষের অনেক বেশি। নোয়াখালীর এই অন্তর্নিহিত শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, তাহলে আমরা ঐক্যবদ্ধ নোয়াখালী স্পিরিট নিয়ে নোয়াখালীর উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারব।
আপনার নিজ এলাকার জনকল্যাণমূলক কোনো কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িত করেছেন কি? কিংবা ভবিষ্যতে জড়ানোর সম্ভাবনা আছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে সমাজসেবার আদর্শ ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, আমি নিজ এলাকার শিক্ষান্নোয়নের দায়িত্ব নিয়েছি, একটি স্কুল কমিটির সভাপতি আছি, অন্য একটি স্কুলের উন্নয়নে কাজ করছি। গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সাহায্য করছি। আমার সামাজিক কাজের মধ্যে বাল্যবিবাহ-বিরোধী, যৌতুক-বিরোধী কর্মসূচি রয়েছে। আমার নিজ এলাকায় একটি সংস্থা গড়ে তুলেছি, এজন্য সমমনাদের সাথে আলোচনা করি, চিন্তা-ভাবনার শেয়ার করি। এ সংস্থার মাধ্যমে বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যে যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে প্রাইমারি, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ পর্যায়ে কোয়ালিটি শিক্ষার প্রচলন, সঠিক বাস্তবায়ন, উন্নত মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ কর্মসূচি ধীরে ধীরে বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তৃত হবে।
তিনি বলেন আমার বড়ভাই শাহজাহান কামাল এমপি একজন মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও দেশদরদী কল্যাণকামী মানুষ; তিনি চাইছেন শেষ বয়সে জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরের জন্য এমন একটি স্মৃতি রেখে যেতে, যা যুগ যুগ ধরে এলাকার মানুষের স্মরণে থাকবে, তাদের কল্যাণে আসবে। সেটি হলো ব্যক্তি উদ্যোগে একটি বিশেষ ইকোনোমিক জোন বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা। আশা করি স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, সমাজসেবী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, আইনজীবী তথা সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এ অনুষদের উন্নয়নে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়েছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে আত্মবিশ্বাসী শিক্ষাবিদ ড. মাকসুদ কামাল বলেন, আমি নির্বাচিত ডিন; পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সিনেট ও সিন্ডিকেট মেম্বার।
আর্থ এবং এনভায়রনমেন্ট দু’টো বিষয় নিয়ে শুরু হয় আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অনুষদ; একটি হলো ভূতত্ত্ব, অন্যটি ভূগোল ও পরিবেশ। এ দু’টো বিষয়ের পাশাপাশি রয়েছে সমূদ্রসীমা ও ওশান সায়েন্স। সমুদ্রে ১ লক্ষ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে বিশাল সম্পদ। আমাদের দেশে সমুদ্র সম্পদ নিয়ে কোনো বিষয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই; তাহলে কীভাবে এ সম্পদ আহরণ করবে, কীভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করবে? সমুদ্র সম্পদ আহরণ করে নরওয়ে বিশ্বের উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। নরওয়ের মতো দক্ষ জনসম্পদ এখন পর্যন্ত আমাদের নেই। তাই এ বিষয়ে দক্ষ জনসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে আমি এ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ আমরা খুলেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির কারণে জিডিপি-কে আরও উঁচু স্তরে নিতে পারছি না; এটি ৬ থেকে ৭ এর মধ্যে অবস্থান করছে। এ বিষয়েও দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি করার কাজ চলছে। আমাদের এখানে মেটেরলজি বা আবহাওয়া বিজ্ঞানের উপর কোনো বিভাগ ছিল না, আমরা তা খুলেছি। আমার অনুষদ আবহাওয়া বিজ্ঞান সংক্রান্ত জনশক্তির অভাব দূর করার পথে রয়েছে। মহাকাশ গবেষণা নামে কোনো ডিসিপ্লিন বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না। এই অনুষদে আমরা স্পেস সাইন্স এন্ড জিওমেডিক্স নামে নতুন ইনস্টিটিটিউট খুলতে যাচ্ছি।
আমাদের অনুষদের বড় সমস্যা হচ্ছে স্থান সংকুলান হচ্ছে না বলে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করতে হয়। আমি সরাসরি অংশগ্রহণ করে মাননীয় উপাচার্যের সার্বিক নির্দেশনায়, পরামর্শে ও অনুমোদনে বর্তমান সায়েন্স ক্যাফেটেরিয়া, যেখানে জরাজীর্ণ ডিন অফিসটি আছে, তা ভেঙ্গে তদস্থলে ২১ তলা একটি ভবন নির্মাণ করার সকল পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করি, ২০১৭ সালের প্রথম ভাগে কাজ শুরু হবে। এটি আমার সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা বলে বিবেচিত হবে বলে আমি আশা করি। এছাড়া অনুষদের ভিতরে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের গবেষণার ব্যবস্থা করব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব হিসেবে কী ভূমিকা রেখেছেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে দৃঢ়প্রত্যয়ী কৃতী শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ৩বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক; ৩৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন, তারও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
সম্প্রতিকালে জাতীয় অষ্টম বেতন স্কেলে শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শিক্ষকদের আস্থায় নিয়ে এসে আমরা যে অহিংস, কিন্তু অনমনীয় আন্দোলন করেছি; তাতে শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি ছিল প্রধান; শিক্ষকদের পদমর্যাদার ৪টি ধাপ ছিল যা প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধাপক এবং অধ্যাপক; আমাদের আন্দোলনের ফলে অস্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে ৬টি ধাপ হয়েছে। এতে আশা করি, রাষ্ট্রীয় আচার-বিধিতে ও শিক্ষকদের মর্যাদায় স্থান পুনঃনির্ধারিত হবে। এখন আগের মতো টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেডের কোনো নিয়ম থাকবে না। আমাদের সময়ে এ কাজটা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে আমরা আনন্দিত; শিক্ষক সমাজের এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতার ফলে শিক্ষক আন্দোলনে আমাদের অসাধারণ সাফল্য অর্জনে আমার কিছুটা অবদানের জন্য আমি গর্বিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানেও আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করছি। এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা হবে; সমিতির নির্বাচিত সকল সদস্য শিক্ষকদের দাবি পূরণে আন্তরিক ছিলেন বলে আমরা গত ৩ বার নির্বাচিত হয়েছি। বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রথম ও নিয়মিত মুখপত্র লক্ষ্মীপুর বার্র্তা সর্ম্পকে তাঁর সুপারিশ জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের গৌরব, নিবেদিত শিক্ষক প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা এবং একই প্রতিষ্ঠানের পত্রিকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস’র সাথে বহুদিন আগে থেকে পরিচিত। পত্রিকা দু’টো পেলে আমি প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ি। লক্ষ্মীপুর বার্তা লক্ষ্মীপুর জনপদের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। একটি পত্রিকা মানুষকে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়, পত্রিকার মাধ্যমে সে স্বপ্ন জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সে জনগণের স্বপ্নে পরিণত হয়। লক্ষ্মীপুর বার্তা লক্ষ্মীপুর তথা বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছে তা যেন বাস্তবে রূপ নেয়, দীর্ঘস্থায়ী যেন হয় এর প্রতিচ্ছবি। এ পত্রিকা মানুষের মনের কথা দেশের উঁচুমহলে পৌঁছে দিচ্ছে, দেশের নেতৃত্বের সামনে এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্খার কথা তুলে ধরছে; প্রতিবেদন, মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছে বিধায় এটি লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রাণের পত্রিকা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এ পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কামনা করছি লক্ষ্মীপুর বার্তার অব্যাহত উন্নতমানের প্রকাশনা। লক্ষ্মীপুর বার্তা শুধু নোয়াখালীর দর্পণ নয়, এটি আমাদেরও দর্পণ।