Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

তিনবার নির্বাচিত সফল ও জননন্দিত পৌরমেয়র লক্ষ্মীপুর উন্নয়নের অগ্রনায়ক আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের

জনগণের ওপর অগাধ বিশ্বাসে এগিয়ে চলা, বিপুল ভোটে পর পর তিনবার বিজয়ী লক্ষ্মীপুর পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের। যিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভাকে আধুনিক শহরের সৌন্দর্য ও নান্দনিতকায় গড়ে তুলেছেন। রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, ড্রেনেজ সিস্টেম, ভবন নির্মাণ, আধুনিক পৌর শিশুপার্ক নির্মাণ, বহুতল মসজিদ ভবন ও মার্কেট নির্মাণসহ পৌরসভার অধিবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল প্রকার উন্নয়ন-অগ্রগতির কার্যক্রমে লক্ষ্মীপুর পৌরসভাকে রোলমডেলে পরিণত করেছেন।

তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা, লক্ষ্মীপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা এবং মৃত্যুর আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে ঘোষণা দেয়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে দৃঢ়তার সাথে তাঁর ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

নিজ জন্মএলাকা তথা লক্ষ্মীপুর পৌরসভার উন্নয়নে এমনই নিবেদিতপ্রাণ পৌরমেয়র এম এ তাহেরের সাথে সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার বৃহত্তর নোয়াখালীর বার্তা সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন। তাঁদের আলাপচারিতার উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আপনাকে পৌর মেয়র নির্বাচিত করেছে, সে প্রত্যাশা পূরণে আপনি কতটুকু সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করেন -এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার জননন্দিত পৌরমেয়র আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের বলেন, আমি মেয়র হিসেবে যোগদানের পর পৌরসভার আয়তন বৃদ্ধি করে ২৮.৫ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করেছি। পৌরসভার কাজে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২০০ জনে উন্নীত করেছি। আগের ৯টি ওয়ার্ডের সাথে আবির নগর, লাহারকান্দি, আটিয়াতলী ও পশ্চিম লক্ষ্মীপুর মৌজার কিছু অংশ একীভূত করে ১৫টি ওয়ার্ডে পরিণত করেছি।

তিনি বলেন, মেয়র হিসাবে ৩য় বারের মতো দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভার মালিকানাধীন পৌর সুপার ও হকার্স মার্কেটের ব্যাপক উন্নয়ন করি, ফলে হকার্স মার্কেট প্রসিদ্ধ ব্যবসায়িক স্থান হিসেবে পরিণত হয়েছে। আমার গৃহীত পদক্ষেপের ফলে হযরত আজিম শাহ (রঃ) মাজার সার্বজনীন ধর্মীয় স্থান হিসাবে পরিণত হয়েছে। তাঁর নামে ২০০০ সালে একটি কলেজ ও নিম্মমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। পৌরসভার মেইন রোডে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন তিতাখাঁ জামে মসজিদটির শৈল্পিক কারুকাজ এবং যথেষ্ট সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তুলেছি। পৌর বাসটার্মিনালকে লক্ষ্মীপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিণত করেছি। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসররা পৌরশহরের মাদাম ব্রীজ, বাগবাড়ী ও বটু চৌধুরীর বাড়িতে অবস্থান করে বহু লোক হত্যা করেছে। বাগবাড়ী ও মাদাম ব্রীজ এলাকায় ৩টি গণকবর সংরক্ষিত করেছি। পৌরসভার মোট রাস্তার পরিমাণ ২০০ কিঃমিঃ এ উন্নীত করেছি। তার মধ্যে পাকা রাস্তা ১৯০ কিঃমিঃ, কাঁচা রাস্তা মাত্র ১০ কিঃমিঃ। কাঁচা রাস্তা পৌর এলাকায় নেই বললেই চলে।

তিনি আরও বলেন, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৩টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু করেছি। নতুন আরও ১টি নির্মাণের প্রস্তাব রেখেছি। এই বিষয়ে একটি জাপানী প্রতিনিধি দলকে দিয়ে প্রাথমিক সার্ভে কাজ শেষ করিয়েছি। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় এ প্রকল্পে সরাসরি মেঘনা নদী থেকে পানি এনে তা শোধন করে সরবরাহ করা হবে। সমগ্র পৌর এলাকাকে বর্তমানে সড়ক বাতির আওতায় নিয়ে এসেছি। এতে করে রাতের বেলায় লোকজনের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা এসেছে এবং সড়ক অপরাধ সম্পূর্ণ কমে গিয়েছে। পৌর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত, স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক। তাই জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে পৌরমেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছেন, সে প্রত্যাশা পূরণে আমি শতভাগ সফল হয়েছি বলে মনে করি।

দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কতটুকু গণমুখী ও কল্যাণকর হবে বলে আপনি মনে করেন -এমন প্রশ্নের জবাবে নিষ্ঠাবান, বিচক্ষণ ও প্রজ্ঞাবান পৌরমেয়র আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের বলেন, দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণমুখী ও কল্যাণকর হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা, দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলে দলের নেতাকর্মীরা উৎসাহিত, উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়। এতে দলীয় প্রার্থীর প্রতি জনমানুষের আগ্রহ তৈরি হয়, মানুষ ভোট দিতে উৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণের ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সর্বাঙ্গসুন্দর হয়ে ওঠে। দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচন হলে দল যাকে মনোনয়ন দেয়, দলের অন্যরা তাকে মেনে নিয়ে, সমর্থন দিয়ে, তার পক্ষেই নির্বাচন করে। এতে দলীয় এবং জনমানুষের ভোট পাওয়া সহজ হয়। যেমন, এখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে। এখন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগের দলীয় ভোট পাওয়া সহজ হবে। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করাও সহজ হবে। সবচেয়ে বড় কথা, নির্বাচনে জয়লাভ করে পৌরসভার মেয়র হিসেবে যোগদান করে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সহজ হবে। উন্নয়ন-অগ্রগতি করা সম্ভব হবে। বিরোধী দলে থেকে সেটা সম্ভব হবে না। কারণ, তখন ঠিকমতো বরাদ্দ পাওয়া যাবে না, উন্নয়ন কাজ ঠিকমতো করা যাবে না। তাই আমি মনে করি, দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সত্যিকার অর্থে গণমুখী ও কল্যাণকর হয়।

পৌরসভার অধিবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পৌরসভার উন্নয়নে আপনার শাসনামলে কী কী উন্নয়ন হয়েছে বলে আপনি মনে করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে জনহিতকর পৌরমেয়র আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের বলেন, পৌরসভার উন্নয়নে আমার শাসনামলে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, ড্রেনেজ সিস্টেম, ভবন নির্মাণ, আধুনিক পৌর শিশুপার্ক নির্মাণ, বহুতল মসজিদ ভবন ও মার্কেট নির্মাণসহ পৌরসভার অধিবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল প্রকার উন্নয়ন ও অগ্রগতির কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভের পথ প্রসারিত করতে লক্ষ্মীপুরের বিশিষ্ট বুজুর্গ আলেম হজরত আজিম শাহের নামে একটি কলেজ করেছি। হজরত আজিম শাহের নামে মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, ইমাম সাহেবের আবাসিক ব্যবস্থা, বহুতল মার্কেট ইত্যাদি করে দিয়েছি। বিশিষ্ট বুজুর্গ আলেম হজরত আজিম শাহ কলেজে এখন সাত শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। লক্ষ্মীপুরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভের পথ প্রসারিত হয়েছে। আমি ৪২ কোটি টাকা ব্যয় করে বিশিষ্ট বুজুর্গ আলেম হজরত আজিম শাহের নামে এই মসজিদ কমপ্লেক্স ও বহুতল মার্কেট নির্মাণ করে দিয়েছি, যা আগে কেউ নির্মাণ করার কথা কল্পনাও করতে পারেনি। আমি একজন কৃষকের ছেলে হয়ে তা করে দেখিয়েছি। বিশিষ্ট বুজুর্গ আলেম হজরত আজিম শাহ শুধু লক্ষ্মীপুরের নয়, এই উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ছিলেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মানার্থে এবং এলাকার মানুষের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য আমি কলেজ, বহুতল মসজিদ ভবন ও মার্কেট নির্মাণসহ সকল উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি ৪ কোটি টাকা ব্যয় করে অত্যাধুনিক টাউন ক্লাব করে দিয়েছি। আগে টাউন ক্লাব ছিলো পরিত্যক্ত ভবনের মতো, দুর্দশাগ্রস্থ। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগে এ জেলায় টাউন ক্লাবের অভাবে অবসর বিনোদনের জায়গা পেত না। আমি ৪ কোটি টাকা ব্যয় করে অত্যাধুনিক টাউন ক্লাব করে দেয়ায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ শহরের অভিজাত শিক্ষিত শ্রেণির মানুষেরা এখন অবসর বিনোদনের জায়গা পেয়েছে। তারা আগে লক্ষ্মীপুর থেকে ট্রান্সফার হয়ে চলে যেতে চাইত, এখন আর চায় না। আমি পুরো টাউন ক্লাব এয়ার কন্ডিশন করে দিয়েছি। শিশুদের জন্য আমি লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় একটি অত্যাধুনিক শিশুপার্ক করে দিয়েছি। সবাই বলেছিল আমি শিশুপার্ক করতে পারবো না। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে শিশুপার্ক নির্মাণ কাজ শুরু করেছি এবং আল্লাহর রহমতে তা সম্পন্ন করেছি। এখন সেখানে ধনী-গরীব সকল শ্রেণির শিশুরা অবাধে প্রবেশ করে, সকলের জন্যই এই শিশুপার্ক উন্মুক্ত। জজ, ডিসি, এসপি থেকে শুরু করে সবার পরিবারই এই শিশুপার্ক নিয়ে খুব খুশি। তাদের এ খুশিতে আমিও আনন্দিত।

তিনি বলেন, আমি লক্ষ্মীপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে অত্যাধুনিক রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ভবন করে দিয়েছি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগে ভাঙ্গাচোরা পরিত্যক্ত একটা ঘর ছিলো, সেখানে আগে সাপের আড্ডাখানা ছিলো। আর আমি সেই রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে অত্যাধুনিক ভবনে রূপান্তর করেছি। পৌরসভার অধীনে যতোগুলো প্রাইমারি স্কুল ছিলো, সবগুলো সংস্কার করে অত্যাধুনিক করে দিয়েছি। আগে প্রাইমারি স্কুলগুলো ছিলো ভাঙ্গাচোরা; সবগুলো এখন ঝকঝকে-তকতকে। লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজের জন্য পুলিশ লাইনের ভেতর জায়গার সংকট হওয়ায় আমার নিজের সোয়া এক একর জমি আমার নামের থেকে এসপি’র নামে এবং ১০ লক্ষ টাকা নগদ দিয়ে স্কুল এন্ড কলেজ করে দিয়েছি। এছাড়া লক্ষ্মীপুর জেলার শিক্ষার্থীদের আইন শিক্ষার জন্য কোটি টাকা খরচ করে আইডিয়াল ’ল কলেজ, আইন কলেজ করে দিয়েছি। পৌরসভার ভবনে লিফট স্থাপন করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, তন্তুবায় সমিতির কোটি টাকার সম্পত্তির কোনো হদিস ছিলো না। আগে যারা তন্তুবায় সমিতির কমিটিতে নির্বাচিত হয়ে আসতো, তারা সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ বিক্রি করে খেয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরে ৮ কোটি টাকা ব্যয় করে অত্যাধুনিক নতুন ভবন নির্মাণ করে দিয়েছি। এখন আবার ৪টি নতুন বিল্ডিং করছি, প্রত্যেকটা ৮ কোটি টাকা ব্যয় করে মোট ৩২ কোটি টাকায়। অলরেডি সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। ৪টি নতুন বিল্ডিংয়ের একটায় অত্যাধুনিক হাসপাতাল হবে। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে আল্লাহর বিশেষ রহমত আমার ওপর আছে বলে। সেজন্য দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ও মসজিদ কমপ্লেক্স মার্কেট নির্মাণ আমি মনে করি, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ। মসজিদ মার্কেট, পৌরসভা মার্কেট এগুলো আমার অনেক পরিকল্পনা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল।

তিনি বলেন পৌরসভার পরিষ্কার-পরিুছন্নতা অভিযান পরিচালনা; বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নকরণ; রাত্রিকালীন পৌরসভায় বৈদ্যুতিক বাতিসহ আলোর ব্যবস্থাকরণ; রাস্তাঘাট, কালভার্ট নির্মাণসহ যেসকল কাজ আমি করেছি; আমার মনে হয়, ১০০ বছরেও কেউ তা করতে পারতো না এবং পারবেও না। আগে গো-হাটা ছিলো পৌরশহরের মাঝখানে, বিএনপির এমপি মহোদয়ের বাড়ির ঠিক সামনে। শত চেষ্টা করে ১০ বছরেও তিনি তা সরাতে পারেননি। আর আমি প্রথমবার পৌর মেয়র হওয়ার সাথে সাথেই শহরের শেষে খালপাড়ের নিরাপদ দূরত্বে তা সরিয়ে নিয়ে গিয়েছি। এখন গো-হাটার দুর্গন্ধময় বিষাক্ত পরিবেশ থেকে পৌরসভার মানুষ মুক্তি পেয়েছে। এভাবেই আমি যোগীহাটা, কসাইখানাকেও শহরের মাঝখান থেকে সরিয়েছি। পৌর শহরের পরিবেশ এখন নির্মল-সুন্দর-মনোরম!

আপনার পৌর এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো কী কী? এর সমাধানে আপনার পরামর্শ কী এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে জনমানুষের সেবায় আজীবন নিবেদিতপ্রাণ পৌরমেয়র আবু তাহের বলেন, আমার পৌর এলাকায় তেমন কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা যা ছিলো তার সব প্রায় আমি ইতোমধ্যে সমাধান করেছি। তবে পৌর এলাকার সীমানা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়া আমার স্বপ্ন হলো, পৌরসভাকে আগামীতে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা।

তিনি বলেন, আমি আগামীতে পৌরমেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার পরিধি আরও অনেক বেশি বৃদ্ধি করবো বলে আমার ইতিবাচক একটা পরিকল্পনা আছে। আমার পরিকল্পনা আছে যে, পৌরসভার ওয়ার্ড কমপক্ষে তিনটি বাড়াব। পৌরকরের সীমা আরও বাড়াব, ট্যাক্স কালেকশন যাতে ভালো হয়, যাতে পৌরসভার আরও ব্যাপক উন্নয়ন করতে পারি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করতে পারি। মৃত্যুর আগে আমার শেষ ইচ্ছেই হচ্ছে, এই লক্ষ্মীপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা।

তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য অগ্নিকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আমি এই লক্ষ্মীপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়াতে চাই। এটাই আমার জীবনের সর্বশেষ ইচ্ছে এবং মৃত্যুর আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি লক্ষ্মীপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে ঘোষণা দেয়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

তিনি বলেন লক্ষ্মীপুরের মূল সড়কটি ৪ লেন করার যে মহাপরিকল্পনা আছে, তা জরুরিভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা অতীব প্রয়োজনীয়। এই ৪ লেন মূল সড়কটি বাস্তবায়ন করা হলে লক্ষ্মীপুরের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন-অগ্রগতি সাধিত হবে। লক্ষ্মীপুরের পুরো চেহারাই পাল্টে গিয়ে একটি সুউন্নত স্বপ্নের শহরে পরিণত হবে। আপনার পৌর এলাকায় এমন কোনো উন্নয়ন-সম্ভাবনা আছে কি, যা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা উন্নয়নের অগ্রনায়ক জনপ্রিয় পৌরমেয়র আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের বলেন, আমার পৌর এলাকায় অনেক উন্নয়ন সম্ভাবনা আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য অগ্নিকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে খুবই স্নেহ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুরে রেললাইন করতে চান। সে প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডায়েরিতে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা লিখে দিয়েছি। সেটাও শাকচর, টুমচর, চররমনীর ওদিকেই সহসাই কাজ আরম্ভ হবে।

তিনি বলেন লক্ষীপুরের মজুচৌধুরিরহাট থেকে বরিশাল পর্যন্ত ব্রীজ হবে যে, এটা হান্ড্রেড পারসেন্ট কনফার্ম। বরিশাল থেকে লক্ষীপুর হয়ে চিটাগাং পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক মালামাল নিয়ে যাওয়া-আসা করতে পারবে। সেখানে অত্যাধুনিক ফেরিঘাট হবে, ফোর লেনের রাস্তা হবে। এতে লক্ষ্মীপুরের পুরো চেহারারই পাল্টে যাবে। লক্ষ্মীপুর শহর আগামী ১০ বছর পর ফেনী, চৌমুহনী, মাইজদী নোয়াখালীকে অতিক্রম করে যাবে। এ সবকিছুই আমাদের উন্নয়ন-সম্ভাবনা, যা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

আপনার পৌরসভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন? লক্ষ্মীপুরের বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কেমন পাচ্ছেন? সমগ্র জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে আপনি কী আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত পৌরমেয়র আবু তাহের বলেন, আমার পৌরসভার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার। লক্ষ্মীপুরের বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক ও স্বাভাবিক।

লক্ষ্মীপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল এবং পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। আগে লক্ষ্মীপুরে মাদকদ্রব্য, জুয়া ইত্যাদির কারণে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়েছিলো। এখন আমাদের পৌরসভাসহ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। এখন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি নেই। মাদকদ্রব্য, জুয়া ইত্যাদিও বন্ধ হয়েছে। ফলে পৌরসভাসহ জেলার সর্বত্র স্বস্তি ও শান্তির সুবাতাস বইছে।

বৃহত্তর নোয়াখালীর মুখপত্র লক্ষীপুর বার্তা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন এবং এর উন্নয়নে আপনার পরামর্শ বলবেন কী এমন প্রশ্নের জবাবে জনকল্যাণকামী পৌরমেয়র মোঃ আবু তাহের বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর মুখপত্র লক্ষীপুর বার্তা আমার খুব প্রিয় পত্রিকা। বৃহত্তর নোয়াখালীর সবচেয়ে পুরনো পত্রিকা লক্ষীপুর বার্তা প্রকাশিত হওয়ার শুরু থেকেই আমি নিয়মিত এই পত্রিকাটি পড়ি। বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের সকল উন্নয়ন-অগ্রগতির খবর লক্ষীপুর বার্তা পড়ে জানতে পারি। লক্ষীপুর বার্তা খুবই ইতিবাচক একটি পত্রিকা। লক্ষীপুর বার্তা’র সম্মানিত সম্পাদক ড. এম হেলাল একজন ইতিবাচক মনের আশাবাদী মানুষ। তিনি জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে নিবেদিতপ্রাণ একজন আলোকিত মানুষ। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় আজ লক্ষীপুর বার্তা তিন যুগের পথপরিক্রমায় অগ্রগতির লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। লক্ষীপুর বার্তা’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলীদের আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। লক্ষীপুর বার্তা’র সম্পাদক ড. এম হেলাল এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং লক্ষীপুর বার্তা’র উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করি।

মেয়র আবু তাহের এর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

লক্ষ্মীপুর পৌরসভা মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের প্রক্তন সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা আলহাজ্ব আবু তাহের লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর গ্রামে ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আনোয়ারুল হক এবং মাতা মরহুমা আঞ্জুমা খাতুন। জনাব তাহের লক্ষ্মীপুর সরকারী সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সংগ্রামী যাত্রা শুরু করেন। তিনি লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমি থেকে এসএসসি, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও তুখোড় বক্তা ছিলেন। ১৯৬৮-১৯৬৯ এর আইয়ুব বিরোধী ও ১৯৬৯ সালের ৬ দফা আন্দোলনে মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসেবে তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত ও আস্থাভাজন হয়ে বঙ্গবন্ধুর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়মিত আসা-যাওয়া করায় বঙ্গবন্ধু তাঁর নাম দেন মুজিববাদী তাহের।

আলহাজ্ব আবু তাহের ব্যক্তিগত জীবনে তিন পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী নাজমা তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে নারী অঙ্গনে নিবেদিত সমাজসেবী। পুত্র এ কে এম সালেহ্ উদ্দিন টিপু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা যুবলীগের সভাপতি এবং দৈনিক লক্ষ্মীপুর ভিশন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। হাজার হাজার নেতা-কর্মী তৈরির কারিগর আলহজ্ব আবু তাহের। দক্ষ, কর্মঠ ও তুখোড় সংগঠক হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। লক্ষ্মীপুর জেলার সকল শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি শ্রমিকদের পাশে আছেন এবং থাকবেন।

জনাব আবু তাহের ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা ও বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা অনুসারে সংগ্রাম পরিষদের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যতম মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসেবে তিনি ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানকে রেখে দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর নেতা ও অভিভাবক বঙ্গবন্ধুর ডাকে ভারত গমণ করেন। সেখানে তিনি রাজনগর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি আর্টিলারী ভারী অস্ত্র চালানোর জন্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সক্রিয় সম্মুখ যুদ্ধে আর্টিলারী গ্রুপের কমান্ডার হিসেবে পরশুরাম, মুহুরীনদী, কোম্পানীগঞ্জ, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর, চাটখিল ও বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন সেক্টর এলাকায় যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ও বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে আংশগ্রহণ করেন। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর হানাদারমুক্ত হওয়ার পর তিনি লক্ষ্মীপুর পিটিআইতে অবস্থান নেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আবু তাহের জেলা ছাত্রলীগের কনভেনর হিসেবে ১ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট আবু তাহের তাঁর অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাকরুদ্ধ এবং শোকে ভেঙ্গে পড়েন এবং দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। জাতির পিতাকে এভাবে হারাতে হবে তিনি কখনও কল্পনা করতে পারেননি। পরবর্তীতে এ হত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে তিনি সুস্থ হয়ে আবারও রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি র্বিাচিত হন। ১৯৮০ সালে লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৪ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে আলহাজ্ব আবু তাহের লক্ষ্মীপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ এর এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনের মুজিব আদর্শে রাজপথের অন্যতম লড়াকু সৈনিক ছিলেন আবু তাহের। এসময় বার বার মিথ্যা মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হন তিনি। ১৯৯০ সালে লক্ষ্মীপুর সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকার আমলে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা ও অবিচার-নির্যাতনের শিকার হন।

১৯৯৩ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, শিক্ষা কমিটির সদস্য, সার বিতরণ কমিটির মাননীয় মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি লক্ষ্মীপুরে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, হাফেজিয়া-নূরানী মাদ্রাসা, গীর্জা, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজসেবায় অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। এছাড়া পৌর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌরসভার পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে নিয়মিত অনুদান প্রদান করেন।

তিনি জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০০১ সালের শেষ দিকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তাঁর ও পরিবারের উপর অত্যাচার-অবিচার ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়। মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি ৭ বছর ৬ মাস কারা নির্যাতন ভোগ করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও জেল খেটেছেন। এ সময় তাঁর বাড়ি-ঘর, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর আঘাত আসে। তাঁর বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। ২০১১ সালে আলহাজ্ব আবু তাহের লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এসময় উন্নত নাগরিক সেবা এবং পৌরসভার আয়তন বৃদ্ধি করে ১৫টি ওয়ার্ডে উন্নীতকরণ, পৌর এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্টসহ শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক যানজটমুক্ত আবাসন ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশণসহ একটি মডেল পৌরসভা পৌরবাসীকে উপহার দেয়ার লক্ষ্যে আজো কাজ করে যাচ্ছেন। ২০১৬ সালে তিনি পুনরায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল ল’কলেজ, পৌর আইডিয়াল কলেজ, আজিম শাহ্ (রঃ) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আলহাজ্ব আবু তাহের। তিনি দৈনিক ভিশন পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপদেষ্টা, পৌর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, পাবলিক লাইব্রেরী, টাউন হল, লক্ষ্মীপুর জেলা মিনিবাস সমিতি ও পূর্ব বাঞ্চানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি। এছাড়া চকবাজার জামে মসজিদ, তন্তুবায় সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি।