Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
‘লক্ষী’ থেকে লক্ষীপুর, যার আরেক নাম সয়াল্যান্ড  লক্ষীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৫০ মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা  ফেনী সেন্ট্রাল হাইস্কুল শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ  আ’লীগ আবারও ভোট চুরির পরিকল্পনা করছে - লক্ষীপুরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী  শ্রীলঙ্কার অবস্থা দেখে বাংলাদেশে দিবাস্বপ্ন দেখার কোনো কারণ নেই - লক্ষীপুরে মাহবুব উল আলম হানিফ 

সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রিয় নেতা অসহায় ও নির্যাতিতের নির্ভরতা লক্ষীপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া

ঘটনাটি ১৯৮৬ সালের কথা। স্কুলের সঙ্গী-সহপাঠীরা সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কেউ মজে আছে বইয়ের পৃষ্ঠায়, আবার কেউবা মশগুল খেলাধুলায় আর দুরন্তপনায়। কিন্তু মাসুম ভূঁইয়ার এসবে মন নেই। কারণ স্কুল পড়–য়া এ ছেলের কাধেঁই যে অনেক বড় দায়িত্ব। বয়স অল্প হলেও বাবার মতই বুক ভরা সাহস আর নেতৃত্বগুণ পেয়েছিল সেই ছোটবেলা থেকেই। সেকারণে স্কুলে পড়ার সময়ই পেয়ে যায় স্কুল ছাত্রলীগের দায়িত্ব। এদিকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকারী আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক রশিদ লক্ষীপুরে আয়োজন করে এক বিশাল জনসভার। লক্ষীপুরের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক রশিদ কর্তৃক সেদিনের সে জনসভা প্রতিবাদী মাসুম কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। ফলশ্র্রুতিতে সে জনসভা বানচালের উদ্দেশ্যে বাধা প্রদানে উত্তাল জনতার সাথে মাসুমও যোগ দেয়। ঘটনাস্থলে ফ্রিডম পার্টির সন্ত্রাসীদের দ্বারা মারধরের শিকার হয় কিশোর মাসুম। ঐদিনের এ ঘটনা থেকে অনেকেই ভেবে নিয়েছিল তেজোদ্দিপ্ত এ ছেলেটি ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গলে বিশেষ কিছু করবে। হয়েছেও ঠিক তাই। সাধারণ মানুষের সেদিনকার ধারণা আজ সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। কেবল ৩৫ বছরের ব্যবধানে সেই মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া আজ লক্ষীপুর পৌরসভার মেয়র, গণমানুষের অভিভাবক।

তিনি ২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে ৩৭ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন পেয়েছেন দুই হাজার ৫১৮ ভোট। এ নির্বাচনে মেয়র পদে চার জন প্রার্থী ছিলেন। তন্মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া ছাড়াও অপর তিন প্রার্থী হচ্ছেন ইসলামী আন্দোলনের জহির উদ্দিন, এনডিএমের আবদুর রহিম স্বপন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহির আল মামুন।

ছোটবেলা থেকেই মাসুম ভূঁইয়া গণমানুষের অধিকার আদায়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। সেকারণে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরেধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে কয়েকবার তাঁকে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তাছাড়া আওয়ামী রাজনীতি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মিশে আছে তাঁর রক্তে, ধমনীতে। যার ফলে ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অসহযোগ ও এক দফার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে লক্ষীপুরে শিবির ও জামায়াত বিরোধী আন্দোলনে মামলা এবং হামলার শিকার হন। এভাবে রাজনীতির মাঠে অসত্যের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে লড়াই সংগ্রামের এক পর্যায়ে ২০০৩ সালে তিনি লক্ষীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। অদ্যাবধি তিনি দল ও মানুষের আস্থা নিয়ে নিরলস এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অতি সম্প্রতি লক্ষীপুর বার্তা পত্রিকার প্রতিনিধি দল নবনির্বাচিত এ মেয়রের সাথে একান্ত আলোচনায় মিলিত হয়। নবনির্বাচিত মেয়র সম্পর্কে পাঠকদের ব্যাপক কৌতুহলের প্রেক্ষিতে লক্ষীপুর বাসীর প্রিয় এ মানুষটির সাথে আলোচনার চুম্বক অংশ এখানে সন্নিবেশিত হলো

লক্ষীপুর বার্তাঃ বিপুল ভোটে লক্ষীপুর পেীরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে আপনি কেমন বোধ করছেন?

মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়াঃ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর আমার প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা এবং সে প্রত্যাশা পূরণের যে চাপ সেটা অনুভব করছি বেশি। কারণ দীর্ঘ দিন থেকে লক্ষীপুর পৌরসভায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। লক্ষীপুরে ব্যাপকভাবে পানির সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যা; রাস্তা-ঘাট সমস্যা, এই সমস্যাগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করাাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমি যখন লক্ষীপুর পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন পৌরসভার দেনার পরিমান ২৭ কোটি টাকা। এরকম একটি পরিস্থিতিতে আমি এ পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করি। তাছাড়া পৌরসভার স্টাফদের ৯ মাসের বেতন বকেয়াসহ অনেক লায়েবিলিটি নিয়ে আমাকে কাজ শুরু করতে হয়। পাশাপাশি লক্ষীপুর পৌরসভার মানুষের প্রাণের দাবি এখানে একটি পৌরভবন নির্মান। লক্ষীপুরের হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করে পৌরবাসিকে ফিরিয়ে দেয়া সেটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এ সকল চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারি বিভিন্ন যে দপ্তর রয়েছে, আমাদের মাননীয় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রয়েছেন; আমরা তাঁদের কাছে যাবো। তাঁদের সহযোগিতা নিয়ে পৌরএলাকার সমস্যাগুলো সমাধানকল্পে এগিয়ে যাবো। আশা রাখি এ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে আমরা সচেষ্ট হবো।

ল বাঃ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে এবং মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরে লক্ষীপুর পৌরবাসী তথা আপনার জন্মস্থানের মানুষের প্রতি আপনার দায়িত্ব কর্তব্যে কী পার্থক্য অনুভব করেছেন?

মোজাম্মেল হায়দারঃ মেয়র নির্বচিত হওয়ার আগে মানুষের যে সমস্যাগুলোর কথা শুনেছি, সমস্যাগুলি শুনার পর সেগুলো সমাধান করার জন্য মানুষের মানসিক যে প্রেসার অনুভব করেছি, এখন মেয়র হওয়ার পরে তা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। আসলে মানুষ চায় যে এখনি সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাক। আসলে এটাতো একটা প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ার কারণে এগুলো সমাধানে কিছু সময় প্রয়োজন। আশা করি সেগুলো সমাধান হয়ে যাবে। সেকারণে আমাদের পৌরবাসী যারা রয়েছে; আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রেখে অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষা করলে আশা করি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মানুষের প্রত্যাশার যে চাপ সেই চাপের কারনে নিজেও মানসিকভাবে অনেক বেশি চিন্তায় আছি যে কত দ্রুত মানুষের কাঙ্খিত এ প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি। পৌরবাসিকে আমি যে ওয়াদা করেছি সেগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি নিজেও মানসিকভাবে চাপ মুক্ত হতে পারছিনা।

ল বাঃ আপনি ঢাকায়ও থাকেন, আবার লক্ষীপুরে থাকেন। ঢাকার মানুষের সাথে লক্ষীপুরের মানুষের চিন্তা-চেতনা, আদর্শের দিক থেকে কী পার্থক্য দেখতে পান?

মোজাম্মেল হায়দারঃ আমি ঢাকায়ও আসলেও লক্ষীপুরেই বেশি থাকি। যেহেতু সেটি আমার নিজ এলাকা, আমার রাজনীতি সেখানে, ব্যবসা-বাণিজ্য সেখানে। এখন পৌরসভার দায়িত্ব পাওয়ার পর লক্ষীপুরের মেয়র হিসেবে এলাকায় ব্যস্ততা আরো বেড়ে গেছে। ঢাকায় যারা আছে তারাও লক্ষীপুর নিয়ে ভাবেন। বিভিন্ন সময় আমাকে ফোনে নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া লক্ষীপুরের যারা ঢাকায় থাকেন তারাও নিজ এলাকাকে নিয়ে অনেক ভাবেন। বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার জন্য তারা সবসময় প্রস্তুত থাকেন। এদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে আশা করি আমরা সামনে অনেক ভালো কিছু করবো।

ল বাঃ বর্তমান প্রজন্মের অনেক কিশোর-তরুণ-যুবরা বিভিন্ন ধরণের নেশা, মাদক, ইভটিজিংসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের এ অবক্ষয় রোধ করে তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?

মোজাম্মেল হায়দারঃ লক্ষীপুর পৌরসভার মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর ইতোমধ্যে আমি কিছু কাজ শুরু করেছি। তার মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের শহরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ হাতে নেই। পৌর এলাকা নানা রকম ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে একদম নোংরা ছিল। আমি যেদিন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি এর ২৪ ঘন্টার ভিতর সর্বপ্রথম এসব পরিস্কার করি। পরবর্তী ধাপে শহরের যানজট নিরসনের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি। যানজট এ শহরের এক বড় সমস্যা। তাছাড়া ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি এসবতো রয়েছেই। এগুলোর প্রতিকারে আমরা সর্বাতœকভাবে কাজ করছি। আশা করি কিছুদিনের মধ্যে আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

আপনারা যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, আমরা আমাদের ১৫টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের নিয়ে এ সংক্রান্তে আলোচনা করে একটি তালিকা তৈরি করার জন্য তাদেরকে বলেছি। এখানে যারা কাউন্সিলর আছে তারা জানে ঐ এলাকায় কে মাদক বিক্রি করে, কোথায় মাদক বিক্রি হয়, কারা মাদক সেবন করে অথবা কিশোর গ্যাং এর সাথে কারা জড়িত, কারা সন্ধ্যার পর পড়ালেখা বাদ দিয়ে রাস্তায় আড্ডা দেয়; তাদের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আমরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে আলাপ করে তাদের কাউন্সেলিং করে, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অথবা অভিভাবক সমাবেশ করে এ সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায় এসব নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।

ল বাঃ বর্তমানে পৌর এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন? এ পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নে আপনার মতামত জানতে চাচ্ছি?

মোজাম্মেল হায়দারঃ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো আছে। সাধারণত নির্বাচন কেন্দ্রিক কিছু সমস্যা অনেক সময় হয়, সেখানে লক্ষীপুরের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দক্ষ নির্দেশনায় আমাদের এতগুলো ইউনিয়ন, পৌরসভার নির্বাচন হয়ে গেলো, বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্রিক সন্ত্রাসীরা এসময়টিতে কোনরূপ সমস্যা তৈরি করতে পারেনি। প্রশাসন সেই সুযোগ দেয়নি। সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করাতে কোনো আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি। আমরা আশা করি জনপ্রতিনিধি যারা আছি এবং প্রশাসন সহ একসাথে যদি মিলেমিশে কাজ করি তাহলে আইন শৃঙ্খলা আমাদের নিয়ন্ত্রণের ভিতর রাখতে সক্ষম হবো।

ল বাঃ পৌরসভা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলো থেকে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন বা পাবেন বলে মনে করেন?

মোজাম্মেল হায়দারঃ আমি পৌরসভার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত স্টাফ-কর্মচারীদের নিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিগত দিনে যিনি মেয়র ছিলেন তার হাতে ১০ বছর পৌরসভাটি ছিল। সেখানে আমি আসার পরে পৌরসভার কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, যারা পৌরসভার কাজ করতো তারা পৌরবাসীকে সেবা দেয়ার মনোভাব থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তারা বিভিন্ন দিকে ডাইভার্ট হয়ে গিয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সেসকল স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি অন্যান্য যারা রয়েছে তাদের মধ্যে কিছু মন্দ আছে, তবে ভালোর সংখ্যাই বেশি। তাদেরকে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। অনেকেই তারা আমাকে খুব সহযোগিতা করছে। তাদের নিয়ে আশা করি সামনের দিনগুলোতে আমরা আমাদের কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণ করতে সচেষ্ট হবো।

ল বাঃ পৌরবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার মেসেজ কী? লক্ষীপুর বাসিকে আপনি কি জানাতে চান?

মোজাম্মেল হায়দারঃ লক্ষীপুরবাসীর প্রতি আমার মেসেজ , আমরা লক্ষীপুর শহরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেøাগান অনুযায়ী নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত করার জন্য মেয়র পদে নির্বাচন করেছি।লক্ষীপুরবাসী প্রায় কাস্টিং ভোটের ৯২% ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে। তাদের যে প্রত্যাশা, তাদের যে আকাঙ্খা, তা পূরণে আমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং সামনের দিনগুলোতেও কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমি সবাইকে আহবান জানাবো আপনারা ধৈর্য ধারণ করেন, আমাকে কিছুটা সময় দিন। ইন-শা-আল্লাহ আপনাদের যে প্রত্যাশা, তা শতভাগ পূরণ করতে চেষ্টা করবো। সেজন্য আপনারা আমার উপর বিশ্বাস রাখুন এবং ধৈর্য ধরুন।

ল বাঃ বৃহত্তর নোয়াখালীর একমাত্র নিয়মিত মুখপত্র লক্ষীপুর বার্তা এর ৩০ বছর পূর্তিতে আপনার মূল্যায়ন ও পরামর্শ জানতে চাচ্ছি?

মোজাম্মেল হায়দারঃ লক্ষীপুর বার্তা যে ৩০ বছরে পূর্ণ করেছে সেজন্য আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ও পৌরসভার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। কারণ দীর্ঘদিন থেকে লক্ষীপুর বার্তা এ অঞ্চলের তথা সারাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য লক্ষীপুরবাসীর সামনে তুলে ধরছে এবং বিভিন্ন সময়ে আমাদের ক্রাইসিস মোমেন্টে পাশে দাড়িয়েছে। আমরা ছোটবেলায় দেখেছি, বন্যার সময় লক্ষীপুর বার্তার টিম সবার ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিয়েছে, ত্রাণ সহায়তা পৌছে দিয়েছে। পাশাপাশি লক্ষীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন থেকে শিক্ষামূলক যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখলে বিশেষত শিক্ষার্থীরা এতে খুবই উপকৃত হবে। এছাড়া দেশের বাহিরে যারা অবস্থান করছে তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পাবে। লক্ষীপুর বার্তা পত্রিকা ও লক্ষীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরো গতিশীল হোক এই প্রত্যাশা করি।



অনুলিখনেঃ

তোফায়েল হোসেন ও মনিরুজ্জামান